বর্তমান সময়ে নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসের পাশাপাশি রান্নার গ্যাসের দামও ক্রমশ বাড়ছে। সম্প্রতি কলকাতায় রান্নার গ্যাসের দাম একধাক্কায় ৬০ টাকা বেড়েছে। ফলে আগে যেখানে একটি সিলিন্ডারের দাম ছিল ৮৭৯ টাকা, এখন তা বেড়ে হয়েছে ৯৩৯ টাকা। অন্যদিকে বাণিজ্যিক গ্যাসের দামও বেড়ে হয়েছে প্রায় ১৯৯০ টাকা। স্বাভাবিকভাবেই এর প্রভাব পড়ছে সাধারণ গৃহস্থের বাজেটে। এমনকি রেস্তরাঁ বা খাবারের দোকানের খরচও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
এর পাশাপাশি গ্যাস বুকিংয়ের নিয়মেও এসেছে পরিবর্তন। আগে ১৫ দিনের ব্যবধানে গ্যাস বুকিং করা যেত, কিন্তু এখন নতুন নিয়ম অনুযায়ী ২১ দিনের আগে গ্যাস বুকিং করা যাবে না। ফলে গ্যাস ব্যবহার নিয়ে আরও সচেতন হওয়া জরুরি হয়ে পড়েছে।
তবে কিছু সহজ অভ্যাস মেনে চললে রান্নাঘরে গ্যাসের খরচ অনেকটাই কমানো সম্ভব।
চাল ও ডাল ভিজিয়ে রান্না করুন
ভাত বা ডাল রান্না করতে সাধারণত বেশি সময় লাগে। তাই রান্নার আগে চাল ও ডাল কিছুক্ষণ ভিজিয়ে রাখলে দ্রুত সেদ্ধ হয়। এতে রান্নার সময়ও কম লাগে এবং গ্যাসের খরচও বাঁচে। পাশাপাশি এইভাবে রান্না করা খাবার শরীরের জন্যও বেশি উপকারী।
পরিষ্কার ও ভালো বাসন ব্যবহার করুন
অনেক সময় হাঁড়ি বা কড়াইয়ের তলায় পোড়া দাগ জমে থাকে। এতে পাত্র গরম হতে বেশি সময় লাগে এবং গ্যাস বেশি খরচ হয়। তাই সবসময় পরিষ্কার বাসন ব্যবহার করা উচিত। প্রয়োজনে ননস্টিক বাসন ব্যবহার করলে রান্না দ্রুত হয় এবং গ্যাসও কম লাগে।
সঠিক আকারের পাত্র ব্যবহার করুন
পাত্রের আকারও গ্যাস খরচের উপর প্রভাব ফেলে। বেশি ছড়ানো বা প্রশস্ত পাত্রে রান্না করলে তা দ্রুত গরম হয় এবং রান্নাও তাড়াতাড়ি শেষ হয়। ফলে গ্যাসের ব্যবহার কমে।
ঢাকনা দিয়ে রান্না করুন
রান্নার সময় সবসময় পাত্রে ঢাকনা দিয়ে রান্না করা উচিত। এতে খাবার দ্রুত সেদ্ধ হয় এবং গ্যাস কম লাগে। অনেক সময় দেখা যায়, ঢাকনা দিয়ে রান্না করলে একটি সিলিন্ডার প্রায় দ্বিগুণ সময় পর্যন্ত ব্যবহার করা সম্ভব।
প্রেশার কুকারের ব্যবহার বাড়ান
প্রেশার কুকারে রান্না করলে অনেকটাই গ্যাস সাশ্রয় করা যায়। তথ্য অনুযায়ী, প্রেশার কুকারে ভাত রান্না করলে প্রায় ২০ শতাংশ, ডাল রান্নায় প্রায় ৪৬ শতাংশ এবং সবজি সেদ্ধ করতে ৫০ থেকে ৭০ শতাংশ পর্যন্ত গ্যাস সাশ্রয় হতে পারে। মাংস রান্নাতেও প্রায় ৪১ শতাংশ গ্যাস কম লাগে।
অতিরিক্ত জল ব্যবহার করবেন না
রান্নায় প্রয়োজনের চেয়ে বেশি জল দিলে তা ফুটতে বেশি সময় লাগে। এতে গ্যাসের খরচও বেড়ে যায়। তাই প্রয়োজন অনুযায়ী জল ব্যবহার করলে রান্না দ্রুত হয় এবং গ্যাসও সাশ্রয় হয়।
ছোট বার্নারে কম আঁচে রান্না করুন
হালকা আঁচে রান্না করলে প্রায় ২৫ শতাংশ পর্যন্ত জ্বালানি সাশ্রয় করা সম্ভব। যদিও এতে রান্নার সময় কিছুটা বেশি লাগতে পারে, তবে খাবারের পুষ্টিগুণ বজায় থাকে।
বার্নার নিয়মিত পরিষ্কার রাখুন
অনেক সময় বার্নার নোংরা বা বন্ধ হয়ে গেলে গ্যাস ঠিকমতো জ্বলে না। এতে গ্যাসের অপচয় হয়। তাই নিয়মিত বার্নার পরিষ্কার রাখা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
বর্তমান অগ্নিমূল্যের বাজারে সংসারের খরচ সামলাতে গেলে রান্নাঘরের ব্যবস্থাপনাতেও সচেতন হতে হবে। ছোট ছোট অভ্যাস বদলালেই গ্যাসের ব্যবহার অনেকটাই কমানো সম্ভব, আর তাতেই সাশ্রয় হবে সংসারের খরচ।

Hello, I am BB. I have been working in blogging for more than four years.