বলিউডে ‘মিস্টার পারফেকশনিস্ট’ নামে পরিচিত Aamir Khan সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে নিজের ছোটবেলার এমন এক অভিজ্ঞতার কথা জানিয়েছেন, যা শুনে অনেকেই অবাক হয়েছেন। আজ তিনি সিনেমা জগতের অন্যতম বড় নাম হলেও, শৈশবে তাঁর জীবনে সিনেমা দেখার সুযোগ ছিল খুবই সীমিত। এমনকি রোমান্টিক ঘরানার ছবিও দেখার অনুমতি ছিল না।
এক আন্তর্জাতিক বিনোদন মাধ্যমকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে আমির জানান, তিনি ছোটবেলা থেকেই একটু আলাদা ধরনের ছিলেন। অন্য অনেকের মতো নিয়মিত সিনেমা দেখার অভ্যাস তাঁর ছিল না। বরং বই পড়ার প্রতিই তাঁর ঝোঁক ছিল বেশি। নিজের কথায়, তিনি সবসময়ই একজন আগ্রহী পাঠক ছিলেন এবং অবসর সময়ের বড় অংশই কাটত বইয়ের সঙ্গে।
আমির জানান, তিনি এমন একটি পরিবারে বড় হয়েছেন যেখানে নিয়মকানুন বেশ কড়া ছিল। বিশেষ করে সিনেমা দেখার ব্যাপারে তাঁর বাবা-মা যথেষ্ট সতর্ক ছিলেন। পরিবারের সেই পরিবেশের কারণেই ছোটবেলায় সিনেমা দেখার সুযোগ খুব সীমিত ছিল। তিনি স্মৃতিচারণ করে বলেন, যদি কখনও তিনি মাকে জিজ্ঞাসা করতেন সিনেমা দেখতে পারবেন কি না, অনেক সময় অনুমতি মিললেও একটি শর্ত থাকত—রোমান্টিক সিনেমা দেখা যাবে না।
তবে সম্পূর্ণভাবে সিনেমা থেকে দূরে ছিলেন, এমনও নয়। আমির জানান, সপ্তাহান্তে—বিশেষ করে শনি ও রবিবার—তিনি কিছু পুরনো ছবি দেখার সুযোগ পেতেন। সেসময় দূরদর্শনে দেখানো সাদাকালো যুগের অনেক ছবিই তিনি দেখতেন। সেই সময়ের কিংবদন্তি অভিনেতা Ashok Kumar এবং Dilip Kumar-এর অভিনীত সিনেমা তাঁর বেশ পছন্দ ছিল। এছাড়াও বিভিন্ন আঞ্চলিক ভাষার ছবিও তিনি দেখতেন বলে জানিয়েছেন।
বর্তমান সময়েও সিনেমা দেখার ক্ষেত্রে তাঁর অভ্যাস খুব একটা বদলায়নি। তিনি জানান, এখনও খুব বেশি ছবি দেখা হয় না। বরং সিনেমা তৈরি করার দিকেই তাঁর মনোযোগ বেশি। মজার ছলে তিনি বলেন, যেমন কেউ কেউ ফুটবল খেলতে ভালোবাসে আর কেউ আবার শুধু খেলা দেখতে পছন্দ করে—তাঁর ক্ষেত্রেও যেন তেমনই। তিনি সিনেমা বানাতে বেশি স্বচ্ছন্দ, কিন্তু অন্যের তৈরি নতুন সিনেমা খুব বেশি দেখা হয় না।
আমির আরও বলেন, তিনি ১৮ বছর বয়সেই চলচ্চিত্র জগতে কাজ শুরু করেছিলেন। শুরুতে সহকারী হিসেবে কাজ করতে করতে ধীরে ধীরে সিনেমা তৈরির প্রক্রিয়ার সঙ্গে গভীরভাবে যুক্ত হয়ে পড়েন। সেই সময় থেকেই তাঁর মনোযোগ বেশি ছিল কাজ শেখা এবং নিজের পথ তৈরি করার দিকে।
হলিউডের নতুন ছবিগুলোর খবরও তিনি খুব একটা রাখেন না বলেই জানান আমির। তাঁর কথায়, তিনি নিজের জগৎ নিয়েই ব্যস্ত থাকতে পছন্দ করেন এবং বাইরের ট্রেন্ড বা চলতি ধারা সবসময় অনুসরণ করেন না। তাঁর কাছে কাজ এবং সৃজনশীলতাই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।

Hello friends, Myself Biplab. I have been writing horoscopes since 2019. Since 2022, I have also been writing about entertainment, lifestyle, and trending news.