ভারতের সামরিক শক্তি বৃদ্ধিতে আরও এক বড় মাইলফলকের পথে হাঁটল নৌসেনা। শত্রুপক্ষের নজর এড়িয়ে আঘাত হানতে সক্ষম, আধুনিক প্রযুক্তিতে তৈরি নতুন প্রজন্মের ডেস্ট্রয়ার যুদ্ধজাহাজ নির্মাণ আনুষ্ঠানিক ভাবে শুরু হতে চলেছে দেশে। ‘প্রজেক্ট-১৮’ নামের এই প্রকল্প হাতে পেয়েছে মুম্বইয়ের সরকারি সংস্থা মাজাগন ডক শিপবিল্ডার্স লিমিটেড (MDL)।
কেন্দ্র সরকারের লক্ষ্য—যুদ্ধজাহাজ নির্মাণে সম্পূর্ণ আত্মনির্ভরতা অর্জন। স্টেলথ প্রযুক্তি, উন্নত রাডার সিস্টেম, দীর্ঘপাল্লার অস্ত্র—সব মিলিয়ে ভারতকে সমুদ্র প্রতিরক্ষায় নতুন উচ্চতায় পৌঁছে দেবে এই প্রকল্প।
স্টেলথ যুদ্ধজাহাজ নির্মাণে সাফল্যের পর নতুন দায়িত্ব
মাজাগন ডক ইতিমধ্যেই স্টেলথ বৈশিষ্ট্যযুক্ত রণতরী নির্মাণে দেশের মধ্যে আলাদা জায়গা করে নিয়েছে। এর আগেই তারা সফলভাবে তৈরি করেছে বিশাখাপত্তনম শ্রেণির চারটি ডেস্ট্রয়ার। গত বছর সেই সিরিজের শেষ যুদ্ধজাহাজটিও জলে নেমেছে। এবার সেই অভিজ্ঞতার ভিত্তিতেই আরও উন্নত, আরও শক্তিশালী ডেস্ট্রয়ার বানানোর দায়িত্ব পেয়েছে সংস্থাটি।
সূত্রের খবর, প্রজেক্ট-১৮–এর জাহাজগুলি হবে গভীর সমুদ্রে দীর্ঘসময় টহল, মাল্টি-থ্রেট ওয়ারফেয়ার এবং স্বয়ংক্রিয় যুদ্ধ ব্যবস্থায় বিশ্বের সেরা ডেস্ট্রয়ারগুলির সমতুল্য।
আগামী দুই বছরের লক্ষ্য—২০০ যুদ্ধজাহাজের বহর
প্রতিরক্ষা মন্ত্রকের একটি উচ্চপদস্থ সূত্র জানিয়েছে, আগামী দুই বছরের মধ্যে ভারতীয় নৌবাহিনী চাইছে নিজেদের বহরে অন্তত ২০০টি বিভিন্ন শ্রেণির যুদ্ধজাহাজ রাখতে। কোচি, কলকাতা, মুম্বই সহ দেশের একাধিক শিপইয়ার্ডে এখন দ্রুত গতিতে জাহাজ নির্মাণ চলছে।
এই কর্মসূচিতে কেন্দ্র ইতিমধ্যেই বরাদ্দ করেছে প্রায় ১ লক্ষ কোটি টাকা।
নতুন প্রজন্মের জাহাজ–ডুবোজাহাজে আরও ২.৩৫ লক্ষ কোটি টাকা
নৌবাহিনীর আধুনিকীকরণ এখন সরকারের অগ্রাধিকারের শীর্ষে। তাই ডেস্ট্রয়ারের পাশাপাশি সমান গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে সাবমেরিন ও ফ্রিগেট নির্মাণেও।
আরও ২ লক্ষ ৩৫ হাজার কোটি টাকা খরচ ধরা হয়েছে নতুন প্রজন্মের ৭৪টি যুদ্ধজাহাজ ও ডুবোজাহাজ নির্মাণের জন্য। এর মধ্যে থাকছে—
৯টি উন্নত সাবমেরিন
৪টি নেক্সট-জেনারেশন ডেস্ট্রয়ার (প্রজেক্ট-১৮)
৭টি মাল্টি-রোল স্টেলথ ফ্রিগেট
এই সমস্ত প্রকল্পেই গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে দেশীয় প্রযুক্তিকে—চিপ থেকে শুরু করে সেন্সর, অস্ত্র থেকে ইঞ্জিন—যতটা সম্ভব ‘মেড ইন ইন্ডিয়া’-তে নির্ভর করছে সরকার।
ভারতের নৌ শক্তি বাড়ানোর পথে বড় পদক্ষেপ
বিশ্ব রাজনীতিতে সমুদ্রের গুরুত্ব ক্রমশ বাড়ছে। বিশেষ করে ভারত মহাসাগর অঞ্চলে চিনের উপস্থিতি বৃদ্ধি পাওয়ায় কৌশলগতভাবে আরও দ্রুত শক্তিশালী হতে চাইছে ভারত। প্রজেক্ট-১৮ শুরু হওয়ায় নৌসেনার সেই আধুনিকীকরণ কর্মসূচিতে নতুন গতি এল বলেই মনে করছে প্রতিরক্ষা মহল।
আরও পড়ুন
২০২৫-এ দাপট চার স্টকের, বিনিয়োগকারীর মুখে হাসি
নতুন প্রজন্মের এই রণতরীগুলি নৌবাহিনীর হাতে পৌঁছোলে ভারত সমুদ্রে আক্রমণ, নজরদারি ও প্রতিরক্ষার ক্ষমতায় আরও এক ধাপ এগিয়ে যাবে বলে আশা বিশেষজ্ঞদের।

Hello, I am Biplab Baroi. I have been working in blogging for more than four years. I began my journey in the digital media industry in 2021.
Along with covering daily news and current events, I write articles on tech news, smartphones, and astrology. My work is created strictly for educational purposes use only.