ষাটের দশকের মাঝামাঝি সময়। পাহাড়ঘেরা দার্জিলিং শহরের মাউন্ট এভারেস্ট হোটেলের লবিতে কান্নায় ভেঙে পড়েছিল একটি ছোট শিশু। বাবা-মা সামান্য সময়ের জন্য বাইরে গিয়েছিলেন। পরিচিত মুখ না দেখতে পেয়ে ভয় আর উৎকণ্ঠায় কাঁদতে শুরু করে শিশুটি। হোটেলের ভিড়ে কেউ তেমনভাবে খেয়াল না করলেও একজন মানুষ সেই কান্না উপেক্ষা করতে পারেননি। তিনি ছিলেন বলিউডের উদীয়মান তারকা ধর্মেন্দ্র।
নিজের শুটিং ও যাবতীয় ব্যস্ততা সরিয়ে রেখে তিনি শিশুটির পাশে বসেন। গল্প বলেন, আদর করেন, খেলায় মাতিয়ে তোলেন—যতক্ষণ না শিশুটির বাবা-মা ফিরে আসেন। তখন ধর্মেন্দ্রের বয়স প্রায় তিরিশের কাছাকাছি। তাঁর নিজেরও ছোট সন্তান ছিল। পাহাড়ি পরিবেশে দাঁড়িয়ে হয়তো নিজের সন্তানের কথাই মনে পড়ে গিয়েছিল তাঁর।
বহু বছর পর সেই শিশুটিই একজন প্রতিষ্ঠিত সাংবাদিক হিসেবে নিজের স্মৃতির ঝাঁপি খুলেছেন ধর্মেন্দ্রের প্রয়াণের খবরে। স্মৃতিচারণে উঠে এসেছে, কীভাবে এক অপরিচিত মানুষের মানবিক আচরণ আজীবন মনে গেঁথে রয়েছে তাঁর।
সময়ের চাকা ঘুরে বহু বছর পর সংসদ ভবনে রিপোর্টিং করতে গিয়ে ওই সাংবাদিকের সঙ্গে দেখা হয় ধর্মেন্দ্রের স্ত্রী ও সাংসদ হেমা মালিনীর। পরিচয় দেওয়ার পর তিনি জানান—“আপনার স্বামী আর আমার বাবা একে অপরকে চিনতেন।” কিছুক্ষণের মধ্যেই আসে একটি ফোনকল। ওপার থেকে ভেসে আসে সেই চেনা কণ্ঠ—“আমি ধর্মেন্দ্র বলছি, কেমন আছেন?”
ধর্মেন্দ্র জানান, তিনি নিয়মিত টেলিভিশনে ওই সাংবাদিককে দেখেন এবং তাঁর মধ্যে নিজের বন্ধু, অভিনেতা বসন্ত চৌধুরীর ছায়া খুঁজে পান। কথোপকথনে উঠে আসে ‘শোলে’-র স্মৃতি, পুরনো দিনের গল্প। বিদায়ের আগে বলেন, “মুম্বই এলে অবশ্যই দেখা করবেন।” কিন্তু সেই দেখা আর হয়ে ওঠেনি।
আজ ধর্মেন্দ্র আর নেই। বলিউড হারিয়েছে তার এক উজ্জ্বল নক্ষত্রকে। কিন্তু তার চেয়েও বড় কথা, মানুষ হারিয়েছে এক সংবেদনশীল হৃদয়কে। পাহাড়ি শহরের এক হোটেল লবিতে বসে থাকা সেই মুহূর্ত আজও মনে করিয়ে দেয়—প্রকৃত মহান মানুষরা বড় কীর্তির চেয়েও ছোট মানবিক আচরণেই অমর হয়ে থাকেন।

Hello, I am Biplab Baroi. I have been working in blogging for more than four years. I began my journey in the digital media industry in 2021.
Along with covering daily news and current events, I write articles on tech news, smartphones, and astrology. My work is created strictly for educational purposes use only.