মানুষের শরীরে ক্ষুদ্রান্ত্র, বৃহদন্ত্র, পাকস্থলী এবং লক্ষ লক্ষ উপকারী অনুজীব একসঙ্গে কাজ করে খাদ্য পরিপাকের জন্য। এই সম্পূর্ণ ব্যবস্থাকেই বলা হয় গাট বা পরিপাকতন্ত্র। গাটের কাজ শুধু খাবার হজম করাই নয়, খাবার থেকে পুষ্টি শোষণ, হরমোনের ভারসাম্য বজায় রাখা এবং রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা শক্তিশালী রাখার ক্ষেত্রেও এর ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কিন্তু এই ব্যবস্থার কোনও একটি অংশ ঠিকমতো কাজ না করলেই শরীর নানা ভাবে সংকেত দিতে শুরু করে। সমস্যা হল, আমরা অনেক সময় সেই ইঙ্গিতগুলি বুঝতে বা গুরুত্ব দিতে চাই না।
পেট ফেঁপে থাকা ও অল্প খেলেই ভরে যাওয়া
গুরুপাক বা ভারী খাবার না খেলেও যদি বারবার পেট ফাঁপা লাগে কিংবা সামান্য খেলেই পেট ভরে যায়, তা হলে সতর্ক হওয়া জরুরি। অনেক ক্ষেত্রে অন্ত্রে উপকারী ব্যাক্টেরিয়ার সংখ্যা কমে গেলে এমন সমস্যা দেখা দেয়। দিনের পর দিন এই অবস্থা চললে গাট হেলথ মারাত্মক ভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।
করণীয়:
হালকা ও সহজপাচ্য খাবার খান। ডায়েটে রাখুন ছাস, টক দই, চিনি ছাড়া ঘোল কিংবা মজানো খাবার। এগুলিতে থাকা প্রোবায়োটিক অন্ত্রে উপকারী ব্যাক্টেরিয়ার সংখ্যা বাড়াতে সাহায্য করে।
নিয়মিত পেট পরিষ্কার না হওয়া
কোষ্ঠকাঠিন্য না থাকলেও যদি ২–৩ দিন পেট ঠিকমতো পরিষ্কার না হয়, তা হলে সেটিও অবহেলার নয়। ফাইবারের অভাব, পর্যাপ্ত জল না খাওয়া বা গাট ব্যাক্টেরিয়ার ভারসাম্য নষ্ট হলে এই সমস্যা দেখা দিতে পারে। নিয়মিত মলত্যাগ না হওয়াও শরীরের অসুস্থতারই ইঙ্গিত।
করণীয়:
ডায়েটে পর্যাপ্ত শাকসবজি ও ফাইবারযুক্ত ফল রাখুন। বেশি করে জল পান করুন এবং নিয়মিত হালকা শরীরচর্চা বা হাঁটাহাঁটি করুন।
অকারণ ক্লান্তি ও আলস্য
শুধু ভিটামিন বা খনিজের অভাবেই নয়, গাট হেলথ খারাপ হলেও সারাদিন ক্লান্তি ও আলস্য অনুভব হতে পারে। পরিপাকতন্ত্র ঠিকভাবে কাজ না করলে খাবার থেকে প্রয়োজনীয় পুষ্টি শরীর শোষণ করতে পারে না। অনেক ক্ষেত্রে অন্ত্রের প্রদাহ বা ‘ইনফ্ল্যামেটরি বাওয়েল ডিজিজ়’-এর মতো সমস্যাতেও দীর্ঘস্থায়ী ক্লান্তিভাব দেখা যায়।
করণীয়:
সহজপাচ্য অথচ পুষ্টিগুণে ভরপুর খাবার খান। পর্যাপ্ত জল, ফাইবার এবং নিয়মিত যোগাসন বা হালকা ব্যায়াম উপকারে আসতে পারে।
খাবার খেলেই পেট খারাপ বা ব্যথা
প্রায় সব ধরনের খাবার খেলেই যদি পেট খারাপ হয় বা ব্যথা শুরু হয়, তা হলে বুঝতে হবে গাট একেবারেই সুস্থ নেই। অনেকের দুধের ল্যাক্টোজ বা গমের গ্লুটেন হজম করতে সমস্যা হয়। না বুঝে এই খাবার খেলে হজমের গোলমাল আরও বাড়ে।
করণীয়:
কোন খাবারে সমস্যা হচ্ছে তা খেয়াল করুন। প্রয়োজনে দুধ বা গমজাত খাবার সাময়িকভাবে এড়িয়ে সহজপাচ্য খাবার গ্রহণ করুন।
ত্বকের সমস্যার নেপথ্যে পেট
ব্রণ, একজিমা, সোরিয়াসিস বা অ্যাটোপিক ডার্মাটাইটিসের মতো ত্বকের সমস্যার সঙ্গে গাট হেলথের সরাসরি যোগ থাকতে পারে। অন্ত্র সুস্থ না থাকলে তার প্রভাব ত্বকেও দেখা দেয়।
করণীয়:
ত্বকের সমস্যার ধরন অনুযায়ী চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি। পাশাপাশি পেটের স্বাস্থ্যের দিকেও নজর দিতে হবে।
সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হল, এই ধরনের লক্ষণগুলি যদি এক সপ্তাহ বা তার বেশি সময় ধরে চলতে থাকে, তা হলে অবশ্যই চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া প্রয়োজন। কারণ পেট নীরবে হলেও স্পষ্ট ভাষাতেই জানিয়ে দেয় তার অসুস্থতার কথা—শুধু সেই ইঙ্গিত বুঝে নেওয়াটাই আসল।

Hello, I am Biplab Baroi. I have been working in blogging for more than four years. I began my journey in the digital media industry in 2021.
Along with covering daily news and current events, I write articles on tech news, smartphones, and astrology. My work is created strictly for educational purposes use only.