বলিউডের বর্ষীয়ান অভিনেতা শত্রুঘ্ন সিনহা ফের খবরের শিরোনামে। কারণ, তাঁর প্রাক্তন প্রেমিকা ও জনপ্রিয় অভিনেত্রী রীনা রায়। রীনার জন্মদিন উপলক্ষে শত্রুঘ্ন সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করেছেন একাধিক পুরনো ছবির কোলাজ, যার সঙ্গে জুড়েছেন ভালোবাসা ও সম্মানে ভরা একটি আবেগঘন বার্তা। তাঁর এই পোস্ট প্রকাশ্যে আসতেই নতুন করে আলোচনায় উঠে এসেছে বলিউডের এক সময়ের সবচেয়ে চর্চিত প্রেমকাহিনি।
শত্রুঘ্ন সিনহা তাঁর পোস্টে লেখেন, “প্রিয় বন্ধু, সর্বকালের অন্যতম সেরা অভিনেত্রী, মনোরম ব্যক্তিত্ব এবং অসাধারণ মানুষ রীনা রায়কে জন্মদিনের অনেক শুভেচ্ছা। তুমি চিরকাল এরকম থাকো।” এই বার্তাই যেন স্মৃতির দরজা খুলে দিয়েছে ভক্তদের কাছে। বহু নেটিজেন আবার ফিরে তাকিয়েছেন তাঁদের সম্পর্কের শুরুর দিকে।
১৯৭৬ সালে পরিচালক সুভাষ ঘাইয়ের ছবি কালিচরণ-এ একসঙ্গে কাজ করতে গিয়েই শত্রুঘ্ন ও রীনার সম্পর্কের সূচনা। ছবিটি শত্রুঘ্ন সিনহার কেরিয়ারে প্রথম বড় সাফল্য এনে দেয়। একই সঙ্গে তাঁদের অনস্ক্রিন রসায়ন দর্শকমহলে বিপুল জনপ্রিয়তা পায়। এরপর মিলাপ, সংগ্রাম, সত শ্রী আকাল, চোর হো তো অ্যায়সা সহ একের পর এক হিট ছবিতে তাঁদের জুটি দেখা যায়। ধীরে ধীরে পেশাদার সম্পর্ক বাস্তব জীবনের গভীর প্রেমে পরিণত হয়। সেই সময় বলিউডে জোর গুঞ্জন ছিল, খুব শিগগিরই বিয়ে করতে চলেছেন এই তারকা জুটি।
কিন্তু সম্পর্কের শীর্ষ মুহূর্তে হঠাৎই নাটকীয় মোড় নেয় তাঁদের জীবন। রীনা রায়কে না জানিয়েই শত্রুঘ্ন সিনহা বিয়ে করেন পুনম চন্দ্রমণিকে। জানা যায়, ট্রেন যাত্রার সময় পুনমের সঙ্গে তাঁর পরিচয় হয়েছিল। বহু বছর পর এক সাক্ষাৎকারে শত্রুঘ্ন স্বীকার করেন, এই সিদ্ধান্ত তাঁর জীবনের অন্যতম কঠিন অধ্যায়। তিনি বলেন, “জীবনে এমন কিছু সময় আসে, যখন সিদ্ধান্ত নেওয়া অত্যন্ত কঠিন হয়ে যায়। কিন্তু একবার সিদ্ধান্ত নেওয়ার পর সবার মন রাখা সম্ভব হয় না।”
শত্রুঘ্ন আরও জানান, বিয়ের আগের রাত পর্যন্ত তিনি দ্বিধায় ছিলেন এবং শেষ মুহূর্তে ফ্লাইটে চড়ে বিয়েতে পৌঁছান। নিজের দায় স্বীকার করে তিনি বলেন, “পুনম আমাকে সবসময় সম্মান দিয়েছে। এই বিয়েতে যদি কোনও ত্রুটি থাকে, তা আমার, তার নয়।” তাঁর এই মন্তব্য আজও বহু মানুষের কাছে অনুশোচনা ও আক্ষেপের প্রতিচ্ছবি।
শত্রুঘ্নের এই সিদ্ধান্তে গভীরভাবে আহত হন রীনা রায়। হৃদয়ভাঙার যন্ত্রণা থেকে বেরোতে তাঁর প্রায় তিন বছর সময় লাগে। পরবর্তীতে ১৯৮৩ সালে তিনি বিয়ে করেন পাকিস্তানের প্রাক্তন ক্রিকেটার মহসিন খানকে। তাঁদের এক কন্যাসন্তানও জন্মায়। তবে সেই বিবাহও স্থায়ী হয়নি। ১৯৯২ সালে তাঁদের বিচ্ছেদ হয় এবং মেয়ের হেফাজত পেতে দীর্ঘ আইনি লড়াই করতে হয় রীনাকে।
সময়ের সঙ্গে দু’জনের জীবন আলাদা পথে এগোলেও, শত্রুঘ্ন সিনহার সাম্প্রতিক জন্মদিনের শুভেচ্ছা যেন আবারও পুরনো অধ্যায়কে ফিরিয়ে এনেছে আলোচনার কেন্দ্রে। একসময়ের ভালোবাসা, ভুল সিদ্ধান্ত এবং না-পাওয়ার বেদনা—সব মিলিয়েই বলিউডের এই সম্পর্ক আজও দর্শকদের মনে গভীর কৌতূহল জাগিয়ে রাখে।

Hello, I am Biplab Baroi. I have been working in blogging for more than four years. I began my journey in the digital media industry in 2021.
Along with covering daily news and current events, I write articles on tech news, smartphones, and astrology. My work is created strictly for educational purposes use only.