অনেকেই ছোটবেলা থেকে রোগা-পাতলা গড়নের হন। স্বাভাবিকের চেয়ে কম ওজন নিয়েই দীর্ঘদিন কাটে জীবন। কিন্তু ত্রিশ পেরোতেই দেখা যায়, খাদ্যাভ্যাস খুব একটা না বদলালেও শরীর ভারী হচ্ছে। আসলে বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে শরীরের বিপাকহার (Metabolism) ধীরে ধীরে কমতে শুরু করে। আর তার সরাসরি প্রভাব পড়ে ওজনের উপর।
খুব সহজ ভাবে বললে, শরীর বেঁচে থাকার জন্য যে হারে ক্যালরি পোড়ায়, সেটাই বিপাকহার। এই হার কমে গেলে শরীরে অতিরিক্ত ক্যালরি জমে মেদে রূপান্তরিত হয়। ফলে অল্প খেলেও ওজন বাড়তে থাকে।
বিপাকহার কমার নেপথ্যে কী কারণ?
যোগ প্রশিক্ষক রাধিকা বসুর মতে, ৩০-এর পর থেকে শরীরে একাধিক পরিবর্তন ঘটে—
ধীরে ধীরে মাংসপেশি দুর্বল হতে শুরু করে
হরমোনের ভারসাম্যে তারতম্য দেখা দেয়
দুশ্চিন্তা, উদ্বেগ ও মানসিক চাপ বাড়ে
এই সব মিলিয়েই বিপাকহার শ্লথ হয়ে যায়। তবে আশার কথা, সঠিক জীবনযাপনে বিপাকহার আবার বাড়ানো সম্ভব।
বিপাকহার বাড়াতে কী করবেন?
১. ওজন নিয়ে শরীরচর্চা করুন
ওজন নিয়ে ব্যায়াম বা স্ট্রেংথ ট্রেনিং করলে পেশি সবল থাকে। পেশি যত বেশি সক্রিয় হবে, বিপাকহার তত বাড়বে। এই ধরনের ব্যায়ামে ক্যালরি খরচও তুলনামূলক বেশি হয়, যা ওজন নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করে।
২. খাবারে প্রোটিন বাড়ান
কার্বোহাইড্রেট বা ফ্যাটের তুলনায় প্রোটিন হজম করতে শরীরের বেশি ক্যালরি লাগে। তাই ডাল, ডিম, মাছ, মাংস, দইয়ের মতো প্রাকৃতিক প্রোটিনসমৃদ্ধ খাবার বিপাকহার বাড়াতে সাহায্য করে। বাজারচলতি প্রোটিন বার নয়, ঘরোয়া খাবারই বেশি স্বাস্থ্যকর।
৩. পর্যাপ্ত জল পান করুন
শরীরের সব শারীরবৃত্তীয় কাজ সঠিক ভাবে চলতে জলের প্রয়োজন। জল কম খেলে হজম প্রক্রিয়া ব্যাহত হয়, যার প্রভাব পড়ে বিপাকহারে। পর্যাপ্ত জল ও তরল খাবার বিপাকহার সক্রিয় রাখতে সাহায্য করে।
৪. দুশ্চিন্তা ও উদ্বেগ কমান
মানসিক চাপ বাড়লে কর্টিসল নামক স্ট্রেস হরমোনের মাত্রা বেড়ে যায়। এর ফলে বিপাকহার কমে যেতে পারে এবং হরমোনের ভারসাম্য নষ্ট হয়। নিয়মিত প্রাণায়াম, ধ্যান ও যোগাভ্যাস মানসিক শান্তি এনে বিপাকহার স্বাভাবিক রাখতে সহায়ক।
৫. খাবার বাদ দেবেন না
অনেকে ওজন কমানোর চেষ্টায় প্রাতরাশ বা রাতের খাবার বাদ দেন। এতে শরীর মনে করে শক্তির ঘাটতি আসছে এবং ক্যালরি জমিয়ে রাখতে শুরু করে। ফলস্বরূপ বিপাকহার আরও কমে যায়। তাই অল্প পরিমাণে হলেও নিয়ম করে সব বেলার খাবার খাওয়া জরুরি।
উপসংহার
৩০-এর পর ওজন বাড়া অনিবার্য নয়। সচেতন খাদ্যাভ্যাস, নিয়মিত ব্যায়াম, পর্যাপ্ত জলপান ও মানসিক স্বাস্থ্যের যত্ন নিলে বিপাকহার সক্রিয় রাখা সম্ভব। জীবনযাপনের ছোট ছোট পরিবর্তনেই বড় প্রভাব পড়তে পারে শরীর ও স্বাস্থ্যের উপর।

Hello, I am Biplab Baroi. I have been working in blogging for more than four years. I began my journey in the digital media industry in 2021.
Along with covering daily news and current events, I write articles on tech news, smartphones, and astrology. My work is created strictly for educational purposes use only.