হিন্দু ধর্মে প্রদোষ ব্রত শিবভক্তদের কাছে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি উপোস ও সাধনার দিন। বিশ্বাস করা হয়, প্রদোষ তিথিতে ভগবান শিব ও দেবী পার্বতীর যথাযথ আরাধনা করলে জীবনের নানা বাধা-বিপত্তি দূর হয় এবং সুখ, শান্তি ও সমৃদ্ধি লাভ হয়। শুক্রবারে প্রদোষ ব্রত পড়লে তাকে বলা হয় শুক্র প্রদোষ ব্রত, যা বিশেষভাবে সৌভাগ্য ও আর্থিক উন্নতির সঙ্গে যুক্ত।
কবে পড়েছে ২০২৬ সালের প্রথম শুক্র প্রদোষ ব্রত?
পঞ্জিকা অনুযায়ী, ২০২৬ সালের প্রথম শুক্র প্রদোষ ব্রত পড়েছে মাঘ মাসের শুক্লপক্ষের ত্রয়োদশী তিথিতে।
ত্রয়োদশী তিথি শুরু হচ্ছে ৩০ জানুয়ারি ২০২৬ সকাল ১১টা ০৮ মিনিটে এবং শেষ হবে ৩১ জানুয়ারি ২০২৬ সকাল ৮টা ২৪ মিনিটে। উদয় তিথি ও প্রদোষ কালের গুরুত্ব অনুসারে, ৩০ জানুয়ারি ২০২৬ শুক্রবার দিনেই শুক্র প্রদোষ ব্রত পালন করা হবে।
শিব-পার্বতীর পুজোর শুভ সময়
প্রদোষ ব্রতের পুজো সব সময় সন্ধ্যার প্রদোষ কালে করা হয়।
এই দিনে শিব-পার্বতীর আরাধনার জন্য শুভ সময় থাকবে —
বিকেল ৫টা ৫৮ মিনিট থেকে রাত ৮টা ৩৬ মিনিট পর্যন্ত।
প্রায় ২ ঘণ্টা ৩৮ মিনিট এই সময়কাল জুড়ে পুজো করা অত্যন্ত ফলদায়ক বলে বিশ্বাস। শাস্ত্র মতে, এই সময়ে মহাদেব কৈলাসে আনন্দ নৃত্যে মেতে ওঠেন, তাই প্রদোষ কালের আরাধনা দ্রুত ফল দেয়।
শুক্র প্রদোষ ব্রতের পুজোর নিয়ম ও উপাচার
শুক্র প্রদোষ ব্রতের দিন ভোরে ঘুম থেকে উঠে স্নান করে পরিষ্কার ও শুভ্র পোশাক পরা উচিত। এই দিনে সাদা রঙের পোশাক বিশেষ শুভ বলে মানা হয়। উপোস রেখে সকালেই সম্ভব হলে শিব মন্দিরে গিয়ে জলাভিষেক করুন।
প্রদোষ কালে আবার স্নান করে পুজোর প্রস্তুতি নিন। শিবলিঙ্গে পঞ্চামৃত— গঙ্গাজল, দুধ, দই, ঘি, মধু ও চিনি দিয়ে অভিষেক করুন। এরপর বেলপাতা, ধুতুরা, অক্ষত চাল, সাদা চন্দন ও ভস্ম নিবেদন করুন।
‘ওঁ নমঃ শিবায়’ মন্ত্র জপ করুন, শুক্র প্রদোষ ব্রতকথা পাঠ করুন এবং শেষে শিবের আরতি করুন।
শুক্র প্রদোষ ব্রত কেন করবেন?
প্রচলিত বিশ্বাস অনুযায়ী, শুক্রবারে প্রদোষ ব্রত পালন করলে জীবনে আরাম-আয়েশ ও বিলাসিতা বৃদ্ধি পায়। এই ব্রত আর্থিক কষ্ট দূর করে এবং সুখ-সমৃদ্ধি নিয়ে আসে।
বিশেষত বিবাহিত মহিলারা এই ব্রত পালন করলে সৌভাগ্য লাভ করেন। সন্তান কামনায় নিষ্ঠার সঙ্গে শুক্র প্রদোষ ব্রত পালন করা অত্যন্ত শুভ বলে মনে করা হয়। যাঁদের জন্মকুণ্ডলীতে শুক্র গ্রহ দুর্বল, তাঁদের জন্য এই দিনে শিবের আরাধনা বিশেষ ফলপ্রসূ।
বিশ্বাস ও ভক্তির সঙ্গে শুক্র প্রদোষ ব্রত পালন করলে মহাদেবের কৃপায় জীবনের বহু অশান্তি দূর হয়—এই বিশ্বাসেই যুগ যুগ ধরে ভক্তরা পালন করে আসছেন এই বিশেষ ব্রত।

Hello friends, Myself Biplab. I have been writing horoscopes since 2019. Since 2022, I have also been writing about entertainment, lifestyle, and trending news.