প্রতি বছর ইদ এলেই ভক্তদের চোখ থাকে বলিউডের ‘কিং’ নামে পরিচিত অভিনেতা Shah Rukh Khan–এর দিকে। সাধারণত এই সময় তাঁর মুম্বাইয়ের বাসভবন Mannat-এর সামনে ভক্তদের ভিড় লেগেই থাকে। অনেকে অপেক্ষা করেন তাঁর এক ঝলক দেখার জন্য। তবে ২০২৬ সালের ইদে সেই চিরচেনা দৃশ্য কিছুটা বদলে যায়। এ বছর তিনি ব্যালকনিতে এসে ভক্তদের দর্শন না দিলেও সোশ্যাল মিডিয়ার মাধ্যমে শুভেচ্ছা জানান।
নিজের অফিসিয়াল অ্যাকাউন্টে তিনি একটি ছবি শেয়ার করেন, যেখানে তাঁকে সবুজ শেরওয়ানি ও কালো সালোয়ারে রাজকীয় সাজে দেখা যায়। ছবির সঙ্গে তিনি সকলকে ইদের শুভেচ্ছা জানিয়ে লেখেন— পরিবারের সঙ্গে শান্তি, ভালোবাসা ও আলোর মুহূর্ত বজায় থাকুক। তাঁর এই শুভেচ্ছা বার্তা দ্রুতই ভক্তদের মধ্যে ছড়িয়ে পড়ে।
সোশ্যাল মিডিয়ায় ভক্তদের প্রতিক্রিয়ার ঢল
পোস্টটি প্রকাশের পর অল্প সময়ের মধ্যেই লাখ লাখ লাইক ও মন্তব্য জমা পড়ে। ভক্তদের প্রতিক্রিয়ায় কয়েকটি বিষয় বিশেষভাবে নজরে আসে।
অনেকেই মন্তব্যে জানান, শাহরুখের একটি ছবি বা শুভেচ্ছা বার্তাই তাঁদের কাছে ইদের সেরা উপহার। কারও মতে, অভিনেতার হাসিই তাঁদের উৎসবকে সম্পূর্ণ করে তোলে।
আরেকটি বড় অংশের ভক্ত আলোচনা করেছেন তাঁর আসন্ন সিনেমা নিয়ে। অনেকেই অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছেন তাঁর নতুন ছবি King–এর জন্য। কেউ কেউ মজা করে লিখেছেন, ইদের সেমাই খাওয়া হয়ে গেছে, এবার যেন ছবির ট্রেলারও দ্রুত দেখা যায়।
শুধু ভারত থেকেই নয়, বিশ্বের নানা প্রান্ত থেকেও শুভেচ্ছা এসেছে। পাকিস্তান, বাংলাদেশ, সংযুক্ত আরব আমিরাত থেকে শুরু করে ইউরোপের বিভিন্ন দেশ থেকেও ভক্তরা তাঁর পোস্টে শুভেচ্ছা জানিয়েছেন।
Here’s wishing you and your families a joyful, peaceful and blessed Eid. Love and light to one and all, may we get all that we pray for and more… Eid Mubarak!! pic.twitter.com/29tBOYTGHr
— Shah Rukh Khan (@iamsrk) March 21, 2026
ভিন্ন ধর্মের পরিবার, তবু মিলনের বার্তা
শাহরুখ খানের ব্যক্তিগত জীবন বহুদিন ধরেই মানুষের আগ্রহের কেন্দ্র। তিনি মুসলিম পরিবারে জন্মালেও তাঁর স্ত্রী Gauri Khan একজন হিন্দু। এই ভিন্ন ধর্মের দুই মানুষের সংসারকে অনেকেই উদাহরণ হিসেবে দেখেন।
তাঁদের তিন সন্তান— Aryan Khan, Suhana Khan এবং AbRam Khan— ছোটবেলা থেকেই দুই ধর্মের সংস্কৃতি ও মূল্যবোধের মধ্যে বড় হয়েছেন। পরিবারে কখনও কোনও নির্দিষ্ট ধর্ম চাপিয়ে দেওয়া হয়নি বলে শাহরুখ বিভিন্ন সাক্ষাৎকারে জানিয়েছেন।
একবার একটি রিয়েলিটি শোতে তিনি বলেছিলেন, তাঁর সন্তানদের কাছে সবচেয়ে বড় পরিচয় ধর্ম নয়, বরং মানুষ হিসেবে নিজেদের পরিচয়। স্কুলে যখন ধর্ম সম্পর্কে প্রশ্ন উঠেছিল, তখন তিনি তাঁদের শিখিয়েছিলেন— আগে মানুষ ও ভারতীয় হিসেবে নিজেদের ভাবতে।
একই ঘরে কুরআন ও পূজার স্থান
শাহরুখের পরিবারে ধর্মীয় সহাবস্থানের বিষয়টি শুধু কথাতেই সীমাবদ্ধ নয়, তা তাঁদের জীবনযাপনেও দেখা যায়। জানা যায়, তাঁদের বাড়িতে যেমন পবিত্র কুরআন রাখা আছে, তেমনই রয়েছে পূজার জন্য নির্দিষ্ট স্থান ও মূর্তি।
ফলে সন্তানরা ছোট থেকেই দুই ধর্মের আচার-অনুষ্ঠান, প্রার্থনা এবং সংস্কৃতি সম্পর্কে সমানভাবে জানার সুযোগ পেয়েছে। উৎসবের সময় এই মিলনের ছবি আরও স্পষ্ট হয়ে ওঠে।
ইদ যেমন, তেমনি দীপাবলি ও গণেশ চতুর্থীও
শুধু ইদ নয়, পরিবারে অন্যান্য ধর্মীয় উৎসবও যথেষ্ট উৎসাহের সঙ্গে পালিত হয়। ইদের আনন্দ যেমন থাকে, তেমনি দীপাবলি বা গণেশ চতুর্থীর সময়ও বাড়িতে উৎসবের আবহ তৈরি হয়।
অনেক সময় দেখা যায়, ছোট ছেলে আব্রাম বাবার সঙ্গে ইদের নামাজে যোগ দিচ্ছে, আবার অন্যদিকে মন্দিরে প্রণামও করছে। এই স্বাভাবিক ও মুক্ত পরিবেশেই বড় হয়েছেন আরিয়ান ও সুহানা।
আধুনিক দৃষ্টিভঙ্গি নিয়ে বড় হওয়া সন্তানরা
পরিবারের বড় দুই সন্তান আরিয়ান ও সুহানা নিজেদের জীবনদর্শনে বেশ আধুনিক বলে পরিচিত। তাঁরা কঠোর ধর্মীয় নিয়মের মধ্যে নিজেদের সীমাবদ্ধ রাখেন না। বরং বাবা-মায়ের কাছ থেকে পাওয়া মানবিকতা, পারস্পরিক শ্রদ্ধা এবং সব ধর্মের প্রতি সম্মান—এই মূল্যবোধই তাঁদের জীবনে বড় ভূমিকা রাখে।
সব মিলিয়ে, শাহরুখ খানের পরিবার অনেকের কাছেই এক ধরনের উদাহরণ— যেখানে ভিন্ন ধর্ম থাকা সত্ত্বেও পারস্পরিক সম্মান ও ভালোবাসাই প্রধান। আর সেই কারণেই ইদের শুভেচ্ছা ঘিরে তাঁর একটি সাধারণ পোস্টও ভক্তদের কাছে বিশেষ হয়ে ওঠে।

Hello, I am BB. I have been working in blogging for more than four years.