বাংলা বিনোদন জগতে হঠাৎ করেই নেমে এসেছে শোকের ছায়া। রবিবার বিকেলে অভিনেতা রাহুল অরুণোদয় বন্দ্যোপাধ্যায়-এর মৃত্যুসংবাদ ছড়িয়ে পড়তেই স্তব্ধ হয়ে যায় টলিপাড়া থেকে সাধারণ দর্শক। শুটিং চলাকালীন সমুদ্রে ডুবে তাঁর মৃত্যুর ঘটনায় উঠছে একাধিক প্রশ্ন, আর সেইসঙ্গে জোরালো হচ্ছে ‘ন্যায়বিচার চাই’ দাবিও।

এই আকস্মিক ঘটনায় সবচেয়ে বেশি আঘাত পেয়েছেন তাঁর সহকর্মীরা। তাঁদেরই একজন অভিনেত্রী শ্রীমা বন্দ্যোপাধ্যায়, যিনি সম্প্রতি তাঁর সঙ্গে কাজ করেছিলেন আসন্ন ছবি ‘আইসিইউ’-তে। মৃত্যুর কয়েকদিন পর তিনি স্মৃতিচারণ করতে গিয়ে বারবার আবেগে ভেঙে পড়েন।
“শেষ কথোপকথন আজও কানে বাজে”
শ্রীমা জানান, মৃত্যুর মাত্র দু’দিন আগেও তাঁদের মধ্যে কথা হয়েছিল। তাঁর জন্মদিন উপলক্ষে শুভেচ্ছাও জানিয়েছিলেন রাহুল। সেই স্বাভাবিক কথোপকথনের পর এত বড় দুর্ঘটনা—এটা মেনে নিতে পারেননি তিনি। প্রথমে খবরটি গুজব বলে মনে হলেও পরে সত্যি জানার পর যেন চারপাশটাই অবাস্তব মনে হতে থাকে।
ন্যায়বিচারের দাবি
রাহুলের মৃত্যুকে ঘিরে নানা প্রশ্ন উঠছে। ঠিক কীভাবে এই দুর্ঘটনা ঘটল, তা জানতে চান শ্রীমা। তাঁর কথায়, সত্যিটা সামনে আসা অত্যন্ত জরুরি। শিল্পী মহল থেকেও ইতিমধ্যে ন্যায়বিচারের দাবি তোলা হয়েছে, যার সঙ্গে তিনিও একমত।
শুটিং সেটে নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন
শুটিং চলাকালীন অনেক সময়ই নিরাপত্তা ব্যবস্থা যথেষ্ট থাকে না—এ কথাও স্বীকার করেছেন শ্রীমা। বাজেট বা সময়ের সীমাবদ্ধতায় অনেক সময় শিল্পীরা ঝুঁকি নিয়েই কাজ করেন। তবে রাহুলের ক্ষেত্রে কোনও গাফিলতি ছিল কি না, তা খতিয়ে দেখা প্রয়োজন বলেই মনে করেন তিনি।
মানুষ রাহুল—স্মৃতিতে উজ্জ্বল

শুধু অভিনেতা হিসেবে নয়, মানুষ হিসেবেও রাহুল ছিলেন অত্যন্ত প্রাণবন্ত—এটাই বারবার উঠে এসেছে শ্রীমার কথায়।
তিনি বলেন—
সবসময় হাসিখুশি থাকতেন
সহকর্মীদের সঙ্গে সহজেই মিশে যেতেন
জীবনের নানা দিক নিয়ে আলোচনা করতেন
আরও পড়ুন :‘জাস্টিস ফর রাহুল’—রাস্তায় নামছে টলিউড! কারা থাকছেন এই পদযাত্রায়?
লাঞ্চ ব্রেক হোক বা শুটিং শেষে, ইউনিটের সবার সঙ্গে মিলে উনো খেলতেন তিনি। সেই ছোট ছোট মুহূর্তগুলোই আজ স্মৃতির পাতায় সবচেয়ে বেশি উজ্জ্বল।
এক অভিনেতার অসমাপ্ত যাত্রা
শ্রীমার মতে, রাহুল শুধু প্রতিভাবান অভিনেতাই ছিলেন না, বরং একজন সৎ ও সংবেদনশীল মানুষও ছিলেন। তাঁর কাছ থেকে অনেক কিছু শেখার ছিল। কাজ করতে গিয়েই তিনি বুঝতে পেরেছিলেন রাহুলের গভীরতা ও নিষ্ঠা।
শেষ কথা
হঠাৎ করেই থেমে গেল এক সম্ভাবনাময় জীবনের পথচলা। তবে তাঁর কাজ, তাঁর ব্যবহার এবং তাঁর স্মৃতিগুলো বেঁচে থাকবে সহকর্মী ও দর্শকদের মনে। শ্রীমার কথায়—
“রাহুলদা আমাদের হৃদয়ে চিরকাল থেকে যাবে।”

Hello, I am BB. I have been working in blogging for more than four years.