ভারতের সংগীতজগতের অন্যতম কিংবদন্তি নাম Asha Bhosle। তাঁর কণ্ঠ শুধু শ্রোতার হৃদয় ছুঁয়েছে তা-ই নয়, সময়ের সঙ্গে তা এক বিশাল আর্থিক সম্পদে পরিণত হয়েছে। কয়েক দশক ধরে তিনি যেভাবে নিজের মূল্য তৈরি করেছেন, তা সত্যিই বিস্ময়কর।
শুরুটা ছিল খুব সাধারণ
পঞ্চাশ ও ষাটের দশকে যখন তিনি কেরিয়ার শুরু করেন, তখন প্লেব্যাক গায়কদের পারিশ্রমিক ছিল তুলনামূলকভাবে কম। সেই সময়ে একটি গান গাওয়ার জন্য তিনি পেতেন আনুমানিক ১০০ থেকে ৫০০ টাকা। তখন সংগীতশিল্পীদের জন্য রয়্যালটি প্রায় ছিল না বললেই চলে—একবার রেকর্ডিং শেষ, অর্থপ্রাপ্তি শেষ।

জনপ্রিয়তার সঙ্গে বাড়তে থাকে পারিশ্রমিক
সত্তরের দশকে এসে তাঁর জনপ্রিয়তা তুঙ্গে পৌঁছায়। এই সময়ে প্রতি গানের পারিশ্রমিক বেড়ে দাঁড়ায় প্রায় ২,০০০ থেকে ৫,০০০ টাকা। বলিউডে তাঁর কণ্ঠ তখন একেবারে অপরিহার্য হয়ে উঠেছিল।
সোনালী যুগ: ৮০-৯০ দশকের আয়
আশি ও নব্বইয়ের দশকে তিনি ইন্ডাস্ট্রির শীর্ষে। এই সময়ে প্রতি গানের জন্য তিনি ২৫,০০০ থেকে ১ লক্ষ টাকা পর্যন্ত পারিশ্রমিক নিতেন। বিশেষ করে Rahul Dev Burman-এর সঙ্গে তাঁর জুটি অসংখ্য সুপারহিট গান উপহার দেয়, যা তাঁর বাজারমূল্য আরও বাড়িয়ে দেয়।
২০০০-এর পর: কম গান, কিন্তু বেশি মূল্য
২০০০ সালের পর তিনি সিনেমায় কম গান গাইলেও তাঁর ব্র্যান্ড ভ্যালু কমেনি। বিভিন্ন রিপোর্ট অনুযায়ী, বিশেষ প্রকল্প বা গানের জন্য তিনি ২ থেকে ৫ লক্ষ টাকা বা তারও বেশি পারিশ্রমিক পেতেন।
রয়্যালটির যুগ: আসল আয়ের উৎস
আগে গানের জন্য রয়্যালটি না থাকলেও সময়ের সঙ্গে পরিস্থিতি বদলায়। Indian Performing Right Society-এর মতো সংস্থার মাধ্যমে শিল্পীরা তাঁদের গানের পুনঃপ্রচার থেকে আয় করতে শুরু করেন।
আশা ভোঁসলের হাজার হাজার গান আজও রেডিও, টিভি, ইউটিউব এবং ওটিটি প্ল্যাটফর্মে বাজে। ফলে প্রতিবার বাজানোর সঙ্গে সঙ্গে তাঁর আয়ের ধারাও অব্যাহত থাকে।
নিজের অধিকারের জন্য লড়াই
শুধু গান গাওয়াই নয়, নিজের প্রাপ্য অধিকার আদায়েও তিনি ছিলেন সোচ্চার। রয়্যালটির দাবিতে তিনি আইনি লড়াইও করেন এবং শেষ পর্যন্ত জয় পান। আদালতের নির্দেশে একটি সংগীত সংস্থাকে তাঁকে প্রায় ১.১২ কোটি টাকা বকেয়া রয়্যালটি পরিশোধ করতে হয়।
চিরসবুজ গান, অবিরাম আয়
‘দম মারো দম’ বা ‘মেরা নাম হ্যায় শবনম’-এর মতো তাঁর গান আজও সমান জনপ্রিয়। এই গানগুলো থেকে প্রতি বছর লক্ষ থেকে কোটি টাকার রয়্যালটি আসে বলে জানা যায়।
উপসংহার
আশা ভোঁসলে শুধু একজন গায়িকা নন, তিনি এক চলমান সংগীত প্রতিষ্ঠান। তাঁর কণ্ঠ সময়ের সঙ্গে শুধু জনপ্রিয়ই হয়নি, বরং এক লাভজনক সম্পদে রূপান্তরিত হয়েছে। আজও তাঁর পুরনো গানই তাঁকে এনে দিচ্ছে নিয়মিত আয়—যা প্রমাণ করে, সত্যিকারের শিল্প কখনও পুরোনো হয় না।

Hello, I am BB. I have been working in blogging for more than four years.