টলিউডের জনপ্রিয় অভিনেত্রী Aparajita Aadhya এবার সরাসরি সোশ্যাল মিডিয়ার ট্রোলারদের বিরুদ্ধে কড়া অবস্থান নিলেন। দীর্ঘদিন ধরে চলতে থাকা কটুক্তি ও ব্যক্তিগত আক্রমণে বিরক্ত হয়ে তিনি জানিয়ে দিয়েছেন—আর চুপ করে থাকবেন না।
বর্তমান সময়ে সোশ্যাল মিডিয়া যেমন দ্রুত যোগাযোগের মাধ্যম হয়ে উঠেছে, তেমনই এটি অনেকের কাছে হয়ে উঠেছে অপমান ও বিদ্বেষ ছড়ানোর প্ল্যাটফর্ম। বিশেষ করে তারকাদের ক্ষেত্রে এই প্রবণতা আরও বেশি চোখে পড়ে। এই পরিস্থিতি নিয়েই নিজের ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন অপরাজিতা।
সম্প্রতি নিজের সোশ্যাল মিডিয়া পোস্টে অভিনেত্রী জানান, ক্রমাগত নেতিবাচক মন্তব্য এবং কুরুচিকর ভাষার কারণে তিনি বাধ্য হয়ে নিজের কমেন্ট সেকশন বন্ধ করে দিয়েছেন। তাঁর মতে, কিছু মানুষ এতটাই সংবেদনশীলতার অভাব দেখাচ্ছেন যে অসুস্থ মানুষ বা শোকাহত ব্যক্তিকেও আক্রমণ করতে পিছপা হচ্ছেন না।
অপরাজিতা স্পষ্ট ভাষায় বলেন, এ ধরনের আচরণ শুধু অমানবিকই নয়, বরং মানসিকভাবে অত্যন্ত ক্ষতিকর। এর ফলে অনেকেই গভীর মানসিক অবসাদে ভুগতে পারেন, এমনকি চরম সিদ্ধান্তও নিয়ে ফেলতে পারেন। তাই এই বিষয়কে আর হালকাভাবে নেওয়া উচিত নয় বলেই মনে করছেন তিনি।
সবচেয়ে তাৎপর্যপূর্ণভাবে, অভিনেত্রী হুঁশিয়ারি দিয়ে জানিয়েছেন যে খুব শীঘ্রই তিনি ট্রোলারদের একটি তালিকা প্রকাশ করবেন। তাঁর বক্তব্য, “চুপ থাকা মানে আর সম্মান নয়, বরং এই অন্যায়কে প্রশ্রয় দেওয়া।” একইসঙ্গে তিনি মনে করিয়ে দেন যে, ভারতের আইনে এই ধরনের অনলাইন অপমান দণ্ডনীয় অপরাধ।
এছাড়াও তিনি প্রযুক্তি সংস্থা Google এবং জনপ্রিয় সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম Instagram-এর উদ্দেশ্যে কড়া বার্তা দিয়েছেন। তাঁর দাবি, যেসব অ্যাকাউন্ট নিয়মিত অপমানজনক মন্তব্য করে, তাদের দ্রুত নিষিদ্ধ করা উচিত এবং আরও কঠোর কনটেন্ট মডারেশন ব্যবস্থা চালু করা প্রয়োজন।
উল্লেখ্য, সম্প্রতি এক শোকাবহ ঘটনার পরেও সোশ্যাল মিডিয়ায় যেভাবে ব্যক্তিগত আক্রমণ করা হয়েছিল, তা নিয়েও তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখা গিয়েছিল টলিউডে। এই ধরনের সংবেদনহীন আচরণই অভিনেত্রীকে আরও কঠোর পদক্ষেপ নিতে বাধ্য করেছে।
সব মিলিয়ে, অপরাজিতা আঢ্যের এই অবস্থান শুধু ব্যক্তিগত ক্ষোভের বহিঃপ্রকাশ নয়, বরং সোশ্যাল মিডিয়ায় সুস্থ পরিবেশ গড়ে তোলার একটি গুরুত্বপূর্ণ বার্তাও বহন করছে। এখন দেখার, তাঁর এই পদক্ষেপ কতটা বাস্তব পরিবর্তন আনতে পারে।

Hello, I am BB. I have been working in blogging for more than four years.