একসময় সন্তান লালনপালন মানেই ছিল কঠোর নিয়ম, শাসন আর সারাক্ষণের নজরদারি। বড়দের নির্দেশই ছিল শেষ কথা। কিন্তু সময়ের সঙ্গে সঙ্গে বদলেছে সেই ধারা। আধুনিক সমাজে অভিভাবকত্বের ধারণায় এসেছে নতুন চিন্তাভাবনা, যেখানে গুরুত্ব পাচ্ছে স্বাধীনতা, অভিজ্ঞতা এবং ব্যক্তিগত শেখার প্রক্রিয়া। এই পরিবর্তনের অন্যতম আলোচিত ধারা হল ‘ফ্যাফো পেরেন্টিং’।
‘ফ্যাফো’ শব্দটি ইংরেজি একটি চলতি কথার সংক্ষিপ্ত রূপ, যার সারকথা—নিজের কাজের ফল নিজে বুঝে নেওয়া। পেরেন্টিং-এর ক্ষেত্রে এই ধারণার অর্থ দাঁড়ায়, সন্তানকে সবসময় আগলে না রেখে তাকে নিজের সিদ্ধান্ত নিতে দেওয়া এবং সেই সিদ্ধান্তের ফলাফল থেকে শেখার সুযোগ করে দেওয়া।
এই পদ্ধতিতে অভিভাবকরা সন্তানের প্রতিটি পদক্ষেপে হস্তক্ষেপ করেন না। বরং তারা একটি নিরাপদ সীমার মধ্যে থেকে সন্তানের স্বাধীনতাকে সম্মান করেন। যেমন, কোনও শিশু যদি নিজের ইচ্ছায় শীতেও গরম কাপড় না পরে, তাহলে তাকে জোর না করে পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে দেওয়া হয়। ঠান্ডা অনুভব করার পর সে নিজেই উপলব্ধি করে নেয় সঠিক সিদ্ধান্তের গুরুত্ব।
এই ধরনের অভিজ্ঞতাভিত্তিক শেখার ফলে শিশুর মধ্যে আত্মবিশ্বাস গড়ে ওঠে। সে বুঝতে শেখে কোন সিদ্ধান্তের কী ফল হতে পারে। এর ফলে তার বিচারবোধ উন্নত হয় এবং ভবিষ্যতে সমস্যার মোকাবিলা করার মানসিক শক্তিও বাড়ে। ছোটখাটো চ্যালেঞ্জ সামলাতে গিয়ে সে ভয় পায় না, বরং নিজেই সমাধানের পথ খোঁজে।
তবে এই পদ্ধতি নিখুঁত নয়। অতিরিক্ত স্বাধীনতা অনেক সময় শিশুর মনে একাকিত্বের অনুভূতি তৈরি করতে পারে। যদি অভিভাবকরা সম্পূর্ণভাবে দূরে সরে যান, তাহলে শিশুর মনে নিরাপত্তাহীনতাও জন্ম নিতে পারে। আবার কিছু ভুলের পরিণতি যদি গুরুতর হয়, তাহলে তা শিশুর মনে নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।
তাই বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, এই পদ্ধতি প্রয়োগের ক্ষেত্রে সচেতনতা অত্যন্ত জরুরি। এমন পরিস্থিতিতেই সন্তানকে স্বাধীনভাবে সিদ্ধান্ত নিতে দেওয়া উচিত, যেখানে বড় ধরনের শারীরিক বা মানসিক ক্ষতির আশঙ্কা নেই। অর্থাৎ, স্বাধীনতা দেওয়া হলেও অভিভাবকের নজরদারি এবং সমর্থন থাকা প্রয়োজন।
সব মিলিয়ে বলা যায়, ‘ফ্যাফো পেরেন্টিং’ মূলত একটি ভারসাম্যের খেলা। এখানে একদিকে রয়েছে সন্তানের স্বাধীনতা, অন্যদিকে অভিভাবকের সুরক্ষা। এই দুইয়ের সঠিক মেলবন্ধন ঘটাতে পারলেই শিশুর সার্বিক বিকাশ সম্ভব। ভুল করেই শেখা—এই চিরন্তন সত্যকেই নতুনভাবে সামনে আনছে এই আধুনিক পেরেন্টিং ধারা।

Hello friends, Myself Biplab. I have been writing horoscopes since 2019. Since 2022, I have also been writing about entertainment, lifestyle, and trending news.