২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচন ঘিরে রাজ্য রাজনীতি ক্রমশ উত্তপ্ত হয়ে উঠছে। প্রথম দফার ভোটগ্রহণের পর দ্বিতীয় দফার আগে শেষ মুহূর্তের প্রচারে জোর কদমে মাঠে নেমেছে বিভিন্ন রাজনৈতিক দল। এই আবহেই তৃণমূল কংগ্রেসের প্রচারমঞ্চে নতুন চমক হিসেবে দেখা গেল অভিনেতা-পরিচালক পরমব্রত চট্টোপাধ্যায়-কে।
নদিয়ার কৃষ্ণনগর দক্ষিণ কেন্দ্রের তৃণমূল প্রার্থী উজ্জ্বল বিশ্বাসের সমর্থনে আয়োজিত এক জনসভায় অংশ নিয়ে তিনি কার্যত নিজের রাজনৈতিক যাত্রার সূচনা করেন। এই সভায় উপস্থিত ছিলেন সাংসদ-অভিনেত্রী জুন মালিয়া-ও।
মঞ্চ থেকে বক্তব্য রাখতে গিয়ে পরমব্রত বলেন, ২০২৬ সালের নির্বাচন শুধুমাত্র সরকার গঠনের ভোট নয়, এটি বাঙালির আত্মসম্মান ও আত্মমর্যাদা রক্ষার লড়াই। তাঁর কথায়, এই লড়াইয়ে প্রত্যেক বাঙালির সক্রিয় অংশগ্রহণ জরুরি।
তিনি বিরোধী শিবির, বিশেষ করে ভারতীয় জনতা পার্টি-কে কটাক্ষ করে বলেন, বাইরে থেকে এসে বাংলার নারীদের নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন তোলা গ্রহণযোগ্য নয়। তাঁর দাবি, পশ্চিমবঙ্গ এখনও মহিলাদের জন্য তুলনামূলক নিরাপদ রাজ্য, এবং সেই বাস্তবতাকে অস্বীকার করা হচ্ছে রাজনৈতিক স্বার্থে।
এছাড়াও ভোটার তালিকা সংশোধন প্রক্রিয়া নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করেন তিনি। অভিযোগ তোলেন, বৈধ ভোটারদের নাম বাদ দেওয়ার মতো ঘটনা ঘটেছে, যা গণতান্ত্রিক ব্যবস্থার পরিপন্থী। এই বিষয়েও সাধারণ মানুষের জবাব দেওয়ার সময় এসেছে বলে মত তাঁর।
একই দিনে চাপড়া কেন্দ্রেও তৃণমূল প্রার্থীর সমর্থনে রোড শো করেন পরমব্রত ও জুন মালিয়া। সেখানে সাধারণ মানুষের ব্যাপক ভিড় লক্ষ্য করা যায়, যা প্রচারের উত্তাপ আরও বাড়িয়ে তোলে।
উল্লেখযোগ্য বিষয় হল, এর আগে সরাসরি কোনও রাজনৈতিক দলের হয়ে মঞ্চে দাঁড়িয়ে বক্তব্য রাখতে দেখা যায়নি পরমব্রতকে। ফলে তাঁর এই উপস্থিতি যেমন তৃণমূল শিবিরে উৎসাহ বাড়িয়েছে, তেমনই রাজনৈতিক মহলেও নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে।
সব মিলিয়ে, ২০২৬-এর নির্বাচন ঘিরে তারকাদের অংশগ্রহণ এবং তীব্র বাকযুদ্ধ রাজ্যের রাজনৈতিক পরিবেশকে আরও উত্তেজনাপূর্ণ করে তুলছে।

Hello, I am BB. I have been working in blogging for more than four years.