দার্জিলিংয়ের আড্ডা থেকে পরিচালকের পথ—কোয়েল মল্লিককে নিয়ে অন্নপূর্ণার স্মৃতিচারণ

দার্জিলিংয়ের ঠান্ডা আবহে এক সাধারণ আড্ডা—সেখান থেকেই যেন বদলে গিয়েছিল এক তরুণীর জীবনের দিশা। অভিনেত্রী Koel Mallick-এর একটি সরল প্রশ্নই পরিচালনায় আসার সাহস জুগিয়েছিল অন্নপূর্ণাকে।

অন্নপূর্ণার পরিবারের সঙ্গে কোয়েলের পরিচয় বহু দিনের। তাঁর বাবা Gautam Basu একসময় ‘Nater Guru’ ছবির শিল্প নির্দেশক হিসেবে কাজ করেছিলেন। সেই সূত্রেই প্রথম কোয়েলের অভিনয় দেখে মুগ্ধ হন তিনি এবং বাড়িতে মেয়েকে বলেন, এই অভিনেত্রীর মধ্যে রয়েছে আলাদা সম্ভাবনা।

শৈশবেই অন্নপূর্ণার কোয়েলের পরিবারের সঙ্গে ওঠাবসা শুরু। গল্ফগ্রিনের বাড়িতে যাতায়াত, মায়ের সাংবাদিকতার কাজের সূত্রে সাক্ষাৎ—সব মিলিয়ে ধীরে ধীরে এক পরিচিতি তৈরি হয়। তবে পেশাদার সম্পর্ক গড়ে ওঠে অনেক পরে, যখন অন্নপূর্ণা পরিচালক Kaushik Ganguly-র সহকারী হিসেবে কাজ শুরু করেন।

সেই সময় একটি শুটিংয়ের জন্য দার্জিলিংয়ে গিয়ে কোয়েলের সঙ্গে তাঁর ঘনিষ্ঠতা বাড়ে। শুটিংয়ের পর আড্ডা, আলাপচারিতার মধ্যেই ধরা পড়ে কোয়েলের ব্যক্তিত্ব—সময়নিষ্ঠা, শৃঙ্খলা এবং সহজে মিশে যাওয়ার ক্ষমতা। এই গুণগুলো অন্নপূর্ণাকে গভীরভাবে প্রভাবিত করে।

একদিন দার্জিলিংয়ের একটি রেস্তরাঁয় বসেই কোয়েল তাঁকে প্রশ্ন করেন—নিজে পরিচালনা করার কথা ভাবছেন না কেন? অন্নপূর্ণার কাছে এই প্রশ্ন ছিল সম্পূর্ণ অপ্রত্যাশিত। তখনও তিনি নিজের পরিচালনার ইচ্ছার কথা কাউকে জানাননি। কিন্তু সেই মুহূর্তটাই যেন তাঁর জীবনে মোড় ঘুরিয়ে দেয়।

এরপর ধীরে ধীরে তৈরি হয় নতুন পথ। ২০২৩ সালের শুরুতে অন্নপূর্ণা এবং চিত্রনাট্যকার Sandeep Bhattacharya মিলে ‘Swarthopor’ ছবির ভাবনা নিয়ে কোয়েলের কাছে যান। গল্পের স্বাতন্ত্র্য কোয়েলকে আকৃষ্ট করে এবং তিনি খুব দ্রুতই কাজ করতে রাজি হয়ে যান। প্রায় এক থেকে দেড় বছরের চিত্রনাট্য নির্মাণের পর শুরু হয় ছবির কাজ।

পরিচালক হিসেবে অন্নপূর্ণার মনে কিছু সংশয় ছিল—বয়সে ছোট হওয়ায় কোয়েল তাঁর নির্দেশ কতটা মেনে চলবেন। কিন্তু শুটিংয়ে সেই দ্বিধা কেটে যায়। কোয়েল সম্পূর্ণ পেশাদারিত্বের সঙ্গে পরিচালকের নির্দেশ অনুসরণ করেন এবং প্রতিটি দৃশ্যে নিজের সর্বোচ্চটা দেওয়ার চেষ্টা করেন। এমনকি শুটিং চলাকালীন সমস্যার মুহূর্তে অন্নপূর্ণাকে মানসিকভাবে সামলাতেও এগিয়ে আসেন তিনি।

সময়ের সঙ্গে এই সম্পর্ক শুধু কাজের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকেনি। বন্ধুত্বেও রূপ নিয়েছে। কোয়েলের ব্যক্তিগত জীবনের সরলতা, পরিবারের প্রতি তাঁর টান এবং কাজের প্রতি নিষ্ঠা—সব মিলিয়ে অন্নপূর্ণার কাছে তিনি এক বিশেষ মানুষ হয়ে উঠেছেন।

অন্নপূর্ণার মতে, কোয়েলের সাফল্যের মূল রহস্য তাঁর ভারসাম্য বজায় রাখার ক্ষমতা—পরিবার ও কাজ, দুটোই সমান গুরুত্ব দিয়ে সামলানো। এই গুণই তাঁকে অন্যদের থেকে আলাদা করেছে।

পরিচালক অন্নপূর্ণা এবং চিত্রনাট্যকার সদীপ ভট্টাচার্যের সঙ্গে কোয়েল। নিজস্ব চিত্র।

কোয়েলের জন্মদিনে অন্নপূর্ণার শুভেচ্ছা—তিনি যেন ভবিষ্যতেও নতুন নতুন কাজের মাধ্যমে সাফল্যের শিখরে পৌঁছন এবং একইভাবে পরিবার ও কাজের মধ্যে সুন্দর সমন্বয় বজায় রাখেন।

শুধু হজম শক্তি বাড়িয়ে দেয় না, জোয়ান খেলে শরীরের অনেক সমস্যা নিবারণ হয় মুখরোচক বাদাম চিক্কি খেতে দারুন, বাড়িতেই তৈরী হবে, জানুন রেসিপি এইভাবে তেজপাতা পোড়ালে দুশ্চিন্তা কেটে যাবে 5 Best Night Creams ৪ মাসের শিশু ২৪০ কোটির মালিক