প্রতিষ্ঠিত গায়ক ও অভিনেতা শিলাজিৎ মজুমদারকে ঘিরে ফের সামনে এসেছে একটি পুরনো বাড়ি-সংক্রান্ত আইনি বিতর্ক। দক্ষিণ কলকাতার একটি বাড়ি নিয়ে দীর্ঘদিনের এই বিরোধ সম্প্রতি আবারও আলোচনায় উঠে এসেছে, যখন বাদ্যযন্ত্রশিল্পী অর্ণব বাচস্পতি চক্রবর্তী সমাজমাধ্যমে বিষয়টি নিয়ে নতুন করে সরব হন।
অর্ণবের দাবি, তাঁদের পরিবারের মালিকানাধীন বাড়িটি ২০১১ সালে শিলাজিৎকে নির্দিষ্ট সময়ের জন্য ভাড়া দেওয়া হয়েছিল। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, প্রথমে এক বছরের জন্য বাড়িটি ব্যবহার করার চুক্তি হয়েছিল এবং মূল উদ্দেশ্য ছিল গান-বাজনার মহড়া ও সৃজনশীল কাজের জন্য জায়গাটি ব্যবহার করা। তবে পরবর্তী সময়ে পরিস্থিতির পরিবর্তন ঘটে বলে অভিযোগ।
অর্ণবের কথায়, চুক্তির মেয়াদ শেষ হওয়ার পর তা আর নবীকরণ করা হয়নি। তবুও শিলাজিৎ ওই বাড়ি ব্যবহার করতে থাকেন এবং ধীরে ধীরে সেখানে বসবাসও শুরু করেন বলে দাবি তাঁর। পরিবারের পক্ষ থেকে একাধিকবার বাড়ি খালি করার অনুরোধ জানানো হলেও সময় চেয়ে নেওয়া হয় বলে অভিযোগ। অর্ণবের দাবি, বছরের পর বছর ধরে সেই সময়সীমা বাড়তে থাকে এবং শেষ পর্যন্ত বিষয়টি নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে বিরোধ তীব্র আকার নেয়।
তাঁর আরও অভিযোগ, ২০১৪ সালের দিকে পরিস্থিতি এমন পর্যায়ে পৌঁছয় যে বাড়ি ছাড়ার বিষয়ে আর কোনও ইতিবাচক সাড়া মেলেনি। এরপর থেকেই পরিবারের পক্ষ থেকে আইনি পথে সমস্যার সমাধানের চেষ্টা শুরু হয়। অর্ণব জানান, এই বিরোধের বিস্তারিত বিবরণ তিনি ২০১৬ সালেই সমাজমাধ্যমে প্রকাশ করেছিলেন। সম্প্রতি আবারও সেই প্রসঙ্গ সামনে এনে তিনি দাবি করেন, দীর্ঘ আইনি লড়াই সত্ত্বেও এখনও পর্যন্ত সমস্যার সমাধান হয়নি।
অর্ণবের বক্তব্য অনুযায়ী, এই মামলার সূত্রপাত প্রায় এক দশকেরও বেশি আগে। এর মধ্যে তাঁর দাদু এবং বাবা দু’জনেই প্রয়াত হয়েছেন। তাঁদের জীবদ্দশায় বিষয়টির নিষ্পত্তি হয়নি বলেও আক্ষেপ প্রকাশ করেছেন তিনি। বর্তমানে তিনি এবং তাঁর মা আইনি লড়াই চালিয়ে যাচ্ছেন। এমনকি নিজের পৈতৃক বাড়িতে থাকতে না পেরে তাঁকে ভাড়া বাড়িতে বসবাস করতে হচ্ছে বলেও দাবি করেছেন অর্ণব।
অন্যদিকে, অভিযোগ প্রসঙ্গে প্রতিক্রিয়া দিতে গিয়ে শিলাজিৎ মজুমদার স্পষ্ট জানান যে বিষয়টি বর্তমানে আদালতের বিচারাধীন। সেই কারণে তিনি মামলার বিষয়ে প্রকাশ্যে কোনও মন্তব্য করতে চান না। গায়কের বক্তব্য, আইনজীবীদের সঙ্গে আলোচনা চলছে এবং বিচারপ্রক্রিয়া চলাকালীন এই বিষয়ে বিস্তারিত কিছু বলা তাঁর পক্ষে সম্ভব নয়।
একই সঙ্গে সমাজমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া বিভিন্ন পোস্ট নিয়েও অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন শিলাজিৎ। তাঁর দাবি, ইচ্ছাকৃতভাবে তাঁর ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ণ করার চেষ্টা করা হচ্ছে এবং সেই কারণেই বিভিন্ন বিভ্রান্তিকর বক্তব্য প্রচার করা হচ্ছে।
ফলে একদিকে যেমন বাড়ির মালিকপক্ষের অভিযোগ সামনে এসেছে, অন্যদিকে গায়কও বিচারাধীন মামলার কথা উল্লেখ করে মন্তব্য করা থেকে বিরত থেকেছেন। দীর্ঘদিনের এই আইনি জটিলতার চূড়ান্ত নিষ্পত্তি এখন আদালতের রায়ের দিকেই তাকিয়ে রয়েছে।

Hello friends, Myself Biplab. I have been writing horoscopes since 2019. Since 2022, I have also been writing about entertainment, lifestyle, and trending news.