জ্বালানি সাশ্রয় এবং প্রশাসনিক খরচ কমানোর লক্ষ্যে একাধিক নতুন পদক্ষেপ ঘোষণা করল দিল্লির সরকার। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সাশ্রয়ী জীবনযাপন ও জ্বালানি ব্যবহারে সংযমের আহ্বানের পরই রাজধানীতে এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, দিল্লির সরকারি দফতরের কর্মীদের সপ্তাহে অন্তত দু’দিন বাড়ি থেকে কাজ করতে হবে। সরকারের মতে, এতে অফিসে যাতায়াত কমবে, ফলে জ্বালানি খরচও উল্লেখযোগ্যভাবে হ্রাস পাবে।
শুধু ওয়ার্ক ফ্রম হোম নয়, সরকারি বৈঠকের ক্ষেত্রেও বড় পরিবর্তন আনা হচ্ছে। প্রশাসনের তরফে জানানো হয়েছে, সরকারি দফতরের প্রায় অর্ধেক বৈঠক এখন থেকে অনলাইন মাধ্যমে আয়োজন করা হবে। এর ফলে সময় বাঁচার পাশাপাশি যানবাহনের ব্যবহারও কমবে বলে মনে করা হচ্ছে।
রাজধানীর রাস্তায় যানজট কমানোর জন্য অফিসের সময়সূচিতেও বদল আনার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। দিল্লি সরকার ও পুরসভার দফতরগুলির জন্য আলাদা সময় নির্ধারণ করা হতে পারে, যাতে একই সময়ে অতিরিক্ত যানবাহনের চাপ না পড়ে। প্রশাসনের আশা, এই উদ্যোগে শহরের ট্র্যাফিক পরিস্থিতিরও উন্নতি হবে।
সরকারি আধিকারিকদের গাড়ি ব্যবহারের ক্ষেত্রেও কড়াকড়ি আরোপ করা হয়েছে। সরকারি আধিকারিকদের জন্য বরাদ্দ পেট্রোলের পরিমাণ ২০ শতাংশ কমানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। আগে যেখানে মাসে ২০০ লিটার পর্যন্ত জ্বালানি বরাদ্দ থাকত, এখন তা অনেকটাই কমে যাবে।
এছাড়া সাধারণ মানুষের মধ্যেও জ্বালানি সাশ্রয়ের বার্তা পৌঁছে দিতে বিশেষ প্রচার অভিযান চালানো হবে। বিজেপি নেতৃত্বাধীন দিল্লি সরকার ‘আমার ভারত, আমার অবদান’ নামে একটি বিশেষ কর্মসূচিও শুরু করেছে। এর অংশ হিসেবে প্রতি সোমবার ‘মেট্রো দিবস’ পালন করা হবে। ওই দিন মন্ত্রী, সরকারি আধিকারিক ও কর্মচারীদের মেট্রো ব্যবহার করে যাতায়াত করার আহ্বান জানানো হয়েছে।
সরকার আরও জানিয়েছে, সপ্তাহে অন্তত একদিন সাধারণ মানুষকে ‘নো ভেহিকল ডে’ পালনের অনুরোধ করা হবে। পাশাপাশি আগামী ছয় মাসের মধ্যে নতুন পেট্রোল, ডিজেল বা বৈদ্যুতিক গাড়ি না কেনার সিদ্ধান্তও নেওয়া হয়েছে। প্রশাসনের দাবি, এই সমস্ত উদ্যোগ একসঙ্গে কার্যকর হলে জ্বালানি সাশ্রয়ের পাশাপাশি পরিবেশ দূষণ ও যানজটও অনেকটাই নিয়ন্ত্রণে আসবে।

Hello friends, Myself Biplab. I have been writing horoscopes since 2019. Since 2022, I have also been writing about entertainment, lifestyle, and trending news.