দেশের বৈদেশিক মুদ্রার ভাণ্ডার সুরক্ষিত রাখতে নাগরিকদের আগামী এক বছর সোনা না কেনার আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। পশ্চিম এশিয়ায় যুদ্ধ পরিস্থিতি ও আন্তর্জাতিক অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তার প্রেক্ষাপটে এই বার্তা সামনে আসতেই দেশের স্বর্ণ ব্যবসায়ীদের মধ্যে উদ্বেগ ছড়িয়েছে। বিশেষ করে রাজস্থানের জয়পুরের ঐতিহ্যবাহী জহুরি বাজার-সহ বিভিন্ন গয়নার বাজারে ক্রেতার সংখ্যা কমতে শুরু করেছে বলে দাবি ব্যবসায়ীদের।
স্বর্ণ ব্যবসায়ীদের একাংশের আশঙ্কা, এই আহ্বানের প্রভাব দীর্ঘস্থায়ী হলে দেশের গয়নার বাজারে ২৫ থেকে ৩০ শতাংশ পর্যন্ত মন্দা দেখা দিতে পারে। বিক্রি কমে গেলে সবচেয়ে বেশি সমস্যায় পড়বেন কারিগর ও কর্মচারীরা। বহু ছোট ও মাঝারি ব্যবসায়ী জানিয়েছেন, আয় কমে গেলে কর্মীদের নিয়মিত বেতন দেওয়া কঠিন হয়ে উঠবে। এমনকি কর্মী ছাঁটাইয়ের পরিস্থিতিও তৈরি হতে পারে।

এই পরিস্থিতিতে ব্যবসায়ীদের পক্ষ থেকে সরকারের কাছে আর্থিক সহায়তার দাবি উঠেছে। তাঁদের বক্তব্য, যদি দীর্ঘ সময় ধরে সোনার বিক্রি কম থাকে, তাহলে জিএসটি-সহ বিভিন্ন করের ক্ষেত্রে ছাড় দেওয়া উচিত। পাশাপাশি বিদ্যুৎ বিল বা শোরুম পরিচালনার খরচে ভর্তুকির দাবিও জানানো হয়েছে।
তবে সব ব্যবসায়ী একই মত পোষণ করছেন না। অনেকেই মনে করছেন, দেশের অর্থনৈতিক স্বার্থে সাময়িক ক্ষতি মেনে নেওয়া উচিত। তাঁদের মতে, বিদেশি মুদ্রা সাশ্রয়ের জন্য এই উদ্যোগ প্রয়োজনীয় হতে পারে।

অন্যদিকে সাধারণ ক্রেতাদের মধ্যেও মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা যাচ্ছে। যাঁদের বাড়িতে বিয়ে বা শুভ অনুষ্ঠান রয়েছে, তাঁরা জানিয়েছেন ভারতীয় সংস্কৃতিতে সোনা গুরুত্বপূর্ণ অংশ হওয়ায় পুরোপুরি কেনা বন্ধ করা সম্ভব নয়। তবে প্রয়োজন ছাড়া সোনা কেনা কমানোর বিষয়ে অনেকেই ইতিবাচক মনোভাব দেখাচ্ছেন।
প্রধানমন্ত্রী তাঁর বক্তব্যে বলেন, বিদেশ ভ্রমণ, বিদেশে বিয়ে বা অতিরিক্ত বিলাসিতার কারণে বিদেশি মুদ্রার ওপর চাপ বাড়ছে। তাই দেশের স্বার্থে অন্তত এক বছরের জন্য সোনা কেনা এড়িয়ে চলার আবেদন জানিয়েছেন তিনি। তাঁর মতে, অতীতে সংকটের সময়ে মানুষ দেশের জন্য সোনা দান করতেন, আর এখন প্রয়োজন সচেতন সিদ্ধান্ত নেওয়ার।

Hello friends, Myself Biplab. I have been writing horoscopes since 2019. Since 2022, I have also been writing about entertainment, lifestyle, and trending news.