মৃত্যুর পরেও যেন পর্দা জুড়ে বেঁচে রইলেন অভিনেতা রাহুল অরুণোদয় বন্দ্যোপাধ্যায়। তাঁর অভিনীত শেষ সিনেমা ‘ছবিওয়ালা’র বিশেষ প্রদর্শনী ঘিরে আবেগে ভাসল টলিপাড়া। মাত্র দেড় মাস আগে ধারাবাহিকের শুটিং করতে গিয়ে তালসারির সমুদ্রে দুর্ঘটনায় প্রাণ হারান এই জনপ্রিয় অভিনেতা। কিন্তু তাঁর শেষ অভিনয় যেন আবারও দর্শকদের মনে করিয়ে দিল, শিল্পী চলে গেলেও শিল্প থেকে যায়।
পরিচালক শুভ্রজিৎ মিত্রের ‘ছবিওয়ালা’ মূলত এক সংগ্রামী ফটোগ্রাফারের গল্প। সমাজের চোখে ক্রমশ গুরুত্ব হারাতে থাকা এক শিল্পীর জীবনযুদ্ধকে কেন্দ্র করেই এগিয়েছে ছবির কাহিনি। রাহুল এখানে অভিনয় করেছেন এক সংবেদনশীল আলোকচিত্রী চরিত্রে, যে মানুষের আনন্দের মুহূর্ত নয়, বরং মৃত মানুষের ছবি তুলেই জীবিকা নির্বাহ করতে বাধ্য হয়। শিল্পের প্রতি গভীর ভালোবাসা থাকলেও বাস্তবের কঠিন পরিস্থিতি তাকে প্রতিনিয়ত ভেঙে দেয়।
ছবিতে তাঁর স্ত্রীর ভূমিকায় দেখা গেছে দেবলীনা দত্ত-কে। সংসারের হাল ধরতে কারখানায় কাজ করা এক নারীর চরিত্রে তাঁর অভিনয়ও সমানভাবে প্রশংসিত হয়েছে। ভালোবাসা থাকলেও অর্থকষ্টের চাপে দম্পতির জীবন ক্রমশ জটিল হয়ে ওঠে। বহুদিন ধরে কাঙ্ক্ষিত একটি ছবির খোঁজে ঘুরে বেড়ানো সেই ফটোগ্রাফারের জীবনে শেষমেশ এক মর্মান্তিক ঘটনার মধ্য দিয়েই আসে সাফল্য।
এই সিনেমায় আরও অভিনয় করেছেন শান্তনু নাথ, রানা বসু ঠাকুর, রিমি দেব এবং বিশেষ একটি চরিত্রে রয়েছেন শ্রীলেখা মিত্র।
স্ক্রিনিং অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন অভিনেতার দাদা অনির্বাণ বন্দ্যোপাধ্যায়। ভাইয়ের শেষ ছবি দেখতে এসে আবেগপ্রবণ হয়ে তিনি স্মৃতিচারণ করেন রাহুলের প্রথম সিনেমা ‘চিরদিনই তুমি যে আমার’-এর দিনগুলির কথা। তাঁর কথায়, অভিনয়, লেখালেখি, পডকাস্ট— একাধিক ক্ষেত্রে প্রতিভাবান রাহুলের অকালপ্রয়াণ বহু সম্ভাবনার ইতি টেনে দিল।
ছবির প্রদর্শনীতে উপস্থিত ছিলেন রুদ্রনীল ঘোষ, সুদেষ্ণা রায়, অভিজিৎ গুহ, ইন্দ্রাশিস আচার্য এবং দীপ্সিতা ধর-সহ বহু পরিচিত মুখ। সকলের কথাতেই উঠে আসে রাহুলের মানবিকতা, সততা এবং শিল্পের প্রতি তাঁর নিষ্ঠার প্রসঙ্গ।
স্ক্রিনিং চলাকালীন আবেগ সামলাতে পারেননি দেবলীনা দত্তও। তাঁর বিশ্বাস, রাহুল যেন এখনও তাঁদের সঙ্গেই রয়েছেন। প্রেক্ষাগৃহে বসে ছবিটি দেখার সময় বারবার সেই অনুভূতিই ফিরে এসেছে তাঁর কাছে।
‘ছবিওয়ালা’ শুধুমাত্র একটি সিনেমা নয়, এটি শিল্পীজীবনের অনিশ্চয়তা, স্বপ্নভঙ্গ এবং ভালোবাসার এক আবেগঘন দলিল। আর সেই কারণেই রাহুল অরুণোদয় বন্দ্যোপাধ্যায়ের এই শেষ কাজ দর্শকের মনে দীর্ঘদিন থেকে যাবে।

Hello, I am BB. I have been working in blogging for more than five years.