পশ্চিমবঙ্গে মহিলাদের জন্য নতুন আর্থিক সহায়তা প্রকল্প ‘অন্নপূর্ণা ভাণ্ডার’ নিয়ে রাজনৈতিক মহলে জোর চর্চা শুরু হয়েছে। বিজেপির তরফে দাবি করা হয়েছে, রাজ্যে তারা ক্ষমতায় এলে ২৫ থেকে ৬০ বছর বয়সি মহিলাদের প্রতি মাসে ৩ হাজার টাকা করে দেওয়া হবে এই প্রকল্পের মাধ্যমে। সম্প্রতি নবান্নে এক সাংবাদিক বৈঠকে অন্নপূর্ণা যোজনার আবেদনপত্র প্রকাশ করা হয়।
বুধবার বিকেলে আয়োজিত ওই অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন রাজ্যের মন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পাল, মুখ্যসচিব মনোজ আগরওয়াল, মুখ্যমন্ত্রীর উপদেষ্টা সুব্রত গুপ্ত-সহ একাধিক প্রশাসনিক আধিকারিক। সেখানেই মোট ১২ পাতার আবেদনপত্র প্রকাশ করা হয়।
কী জানালেন শুভেন্দু অধিকারী?
শুভেন্দু অধিকারী জানান, এই প্রকল্পের জন্য তাড়াহুড়ো করে আবেদন করার প্রয়োজন নেই। ধাপে ধাপে সকল যোগ্য মহিলার আবেদন গ্রহণ করা হবে। তিনি দাবি করেন, বর্তমানে লক্ষ্মীর ভাণ্ডার প্রকল্পে প্রায় ২ কোটি ২০ লক্ষ মহিলা সুবিধা পাচ্ছেন। তবে তার মধ্যে প্রায় ৩০ লক্ষ নাম নিয়ে অভিযোগ রয়েছে বলে দাবি করেন তিনি।
তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, আগামী ২ জুনের মধ্যে ফর্ম ফিলআপ করতে পারবেন। এরপর ৩ জুন থেকে উপভোক্তাদের অ্যাকাউন্টে টাকা পাঠানোর প্রক্রিয়া শুরু হতে পারে। আগামী ৯০ দিন ধরে আবেদন প্রক্রিয়া চলবে বলেও জানানো হয়েছে।

অনলাইন ও অফলাইন— দুইভাবেই আবেদন
অন্নপূর্ণা ভাণ্ডারের আবেদন অনলাইন এবং অফলাইন— দুই পদ্ধতিতেই করা যাবে। প্রশাসনের তরফে জানানো হয়েছে, বিডিও অফিস, পুরসভা, ওয়ার্ড অফিস এবং পঞ্চায়েত স্তরে আবেদনপত্র জমা নেওয়া হবে। পাশাপাশি বাড়ি বাড়ি গিয়েও ফর্ম পূরণের কাজে সাহায্য করা হতে পারে।
কত টাকা পাবেন উপভোক্তারা?
এই প্রকল্পের আওতায় যোগ্য মহিলাদের প্রতি মাসে ৩ হাজার টাকা দেওয়ার কথা বলা হয়েছে। বর্তমানে লক্ষ্মীর ভাণ্ডারে যে টাকা দেওয়া হয়, তার দ্বিগুণ অর্থ দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছে বলে বিজেপি নেতৃত্বের দাবি।
অগ্নিমিত্রা পাল বলেন, বিভিন্ন জায়গা থেকে এমন অভিযোগ এসেছে যে বহু অযোগ্য ব্যক্তি সরকারি প্রকল্পের সুবিধা পাচ্ছেন। সেই কারণেই নতুনভাবে তথ্য যাচাইয়ের জন্য এই আবেদনপত্র আনা হয়েছে বলে দাবি করা হয়।
কেন আনা হল নতুন ফর্ম?
বিজেপি নেতৃত্বের বক্তব্য, প্রকৃত উপভোক্তাদের চিহ্নিত করতেই নতুন ফর্ম চালু করা হয়েছে। আবেদনকারীদের তথ্য যাচাই করে তারপরই সুবিধা দেওয়া হবে। প্রশাসনের সহযোগিতায় এই কাজ সম্পন্ন করা হবে বলেও জানানো হয়েছে।
তবে একদিনেই আবেদন করতে হবে এমন কোনও বাধ্যবাধকতা নেই। সাধারণ মানুষকে সময় নিয়ে সঠিক তথ্য দিয়ে আবেদন করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। অনলাইনে আবেদনকারীরাও খুব দ্রুত ফর্ম পেয়ে যাবেন বলে দাবি করা হয়েছে।

Hello, I am BB. I have been working in blogging for more than five years.