সকালের শুরুটা অনেকের কাছেই এক কাপ গরম কফি ছাড়া অসম্পূর্ণ। কিন্তু কফি বানানোর পরে যে গুঁড়ো বা তলানি পড়ে থাকে, তা সাধারণত ফেলে দেওয়া হয়। আবার অনেক সময় বাড়িতে রাখা কফির মেয়াদ পেরিয়ে গেলে সেটিও আর পান করা যায় না। অথচ এই অব্যবহৃত কফিগুঁড়োই হতে পারে ঘরের নানা সমস্যার সহজ সমাধান। রান্নাঘর থেকে বাগান— নানা কাজে এর ব্যবহার বেশ উপকারী।
হাতের দুর্গন্ধ দূর করতে কার্যকর
মাছ কাটা, রসুন বা পেঁয়াজ কুচোনোর পরে হাতে এক ধরনের গন্ধ থেকে যায়। অনেক সময় সাবান দিয়েও সেই গন্ধ সহজে যায় না। এ ক্ষেত্রে ব্যবহার করা যেতে পারে কফির তলানি। সামান্য কফিগুঁড়ো হাতে নিয়ে ভালো করে ঘষে ধুয়ে নিলে দুর্গন্ধ অনেকটাই কমে যায়। পাশাপাশি হাতে হালকা কফির সুবাসও থেকে যায়।

ফ্রিজ ও মাইক্রোওভেনের গন্ধ দূর করে
ফ্রিজে দীর্ঘ দিন খাবার রাখলে ভিতরে এক ধরনের মিশ্র গন্ধ তৈরি হয়। একই সমস্যা মাইক্রোওভেনেও হতে পারে। এই পরিস্থিতিতে একটি ছোট বাটিতে শুকনো কফিগুঁড়ো রেখে ফ্রিজ বা মাইক্রোওভেনের ভিতরে কিছুক্ষণ রাখলে দুর্গন্ধ কমে যায়। কফি প্রাকৃতিক গন্ধ শোষক হিসেবে কাজ করে।
আবর্জনার পাত্রের দুর্গন্ধ কমাতে সাহায্য করে
বাড়ির ডাস্টবিনে প্রায়ই দুর্গন্ধ তৈরি হয়। বিশেষ করে রান্নাঘরের বর্জ্য জমলে সমস্যা বাড়ে। ডাস্টবিনে সামান্য কফির তলানি ছড়িয়ে দিলে সেই দুর্গন্ধ কিছুটা নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব। ফলে পরিবেশও তুলনামূলক সতেজ থাকে।
গাছের যত্নেও কাজে লাগে কফিগুঁড়ো
বাগানের মাটিতে অল্প পরিমাণ কফিগুঁড়ো মেশালে তা প্রাকৃতিক সার হিসেবে কাজ করতে পারে। এতে মাটির গুণমান কিছুটা উন্নত হয় এবং কিছু পোকামাকড় দূরে রাখতেও সাহায্য করে। তবে অতিরিক্ত ব্যবহার না করাই ভালো, কারণ বেশি কফি মাটির ভারসাম্যে প্রভাব ফেলতে পারে।
শিশুদের খেলনার বিকল্প উপকরণ
ময়দা বা ডো দিয়ে ছোটরা নানা আকৃতি তৈরি করতে ভালোবাসে। সেই ময়দার সঙ্গে সামান্য কফিগুঁড়ো মিশিয়ে দিলে রং ও গঠনে তা অনেকটা মাটির মতো দেখায়। ফলে শিশুদের সৃজনশীল খেলায় এটি নতুন মাত্রা যোগ করতে পারে।
প্রতিদিনের জীবনে ছোটখাটো এই কৌশলগুলি কাজে লাগালে একদিকে যেমন অপচয় কমবে, তেমনই ঘরের কাজও হবে আরও সহজ। তাই মেয়াদ ফুরোনো কফি বা ফিল্টারের তলানি আর ফেলে না দিয়ে কাজে লাগিয়ে দেখতে পারেন।