কলকাতা পুরসভার পুরবোর্ড ভাঙল রাজ্য, প্রশাসকের হাতে দায়িত্ব

কলকাতা পুরসভার পুরবোর্ড ভেঙে প্রশাসক নিয়োগ করল রাজ্য সরকার। সোমবার জারি হওয়া সরকারি নির্দেশিকা অনুযায়ী, পুরসভার কমিশনার স্মিতা পাণ্ডেকে প্রশাসকের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। ফলে আপাতত নির্বাচিত পুরবোর্ডের পরিবর্তে প্রশাসনিক ব্যবস্থার মাধ্যমে কলকাতা পুরসভার কাজকর্ম পরিচালিত হবে।

ঘটনার সূত্রপাত মেয়র ফিরহাদ হাকিমের পদত্যাগকে ঘিরে। গত শুক্রবার তিনি মেয়র পদ থেকে সরে দাঁড়ানোর পর নতুন মেয়র নির্বাচনের প্রশ্ন সামনে আসে। সেই পরিস্থিতিতে রাজ্যের পুর ও নগরোন্নয়ন দফতর পুরসভার কাছে ব্যাখ্যা চেয়ে নোটিস পাঠায়। নোটিসে জানতে চাওয়া হয়েছিল, মেয়রের পদত্যাগের পর কেন পুরবোর্ড ভেঙে দেওয়া হবে না এবং নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে নতুন মেয়রের নামও জানাতে বলা হয়েছিল।

তবে নির্ধারিত সময়সীমার মধ্যে নতুন মেয়রের নাম চূড়ান্ত করে রাজ্য সরকারকে জানানো সম্ভব হয়নি। এরপরই কলকাতা পুরসভা আইন, ১৯৮০-এর প্রাসঙ্গিক ধারার আওতায় পুরবোর্ড ভেঙে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

সরকারি নোটিসে উল্লেখ করা হয়েছিল যে, মেয়রের পদ শূন্য হয়ে যাওয়ার ফলে পুরসভার স্বাভাবিক প্রশাসনিক কার্যক্রম এবং নাগরিক পরিষেবা ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। সংবিধান ও প্রযোজ্য আইনের আওতায় পুরসভার যে দায়িত্ব রয়েছে, তা যথাযথভাবে পালন করা কঠিন হয়ে পড়তে পারে বলেও উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়।

আইনের সংশ্লিষ্ট ধারায় রাজ্য সরকারের হাতে এমন ক্ষমতা রয়েছে যে, কোনও পুরসভা যদি তার দায়িত্ব পালনে ব্যর্থ হয়, ধারাবাহিকভাবে কর্তব্যে গাফিলতি করে অথবা প্রশাসনিকভাবে অচলাবস্থার মধ্যে পড়ে, তাহলে সরকার প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে পারে। সেই আইনি বিধান অনুসারেই পুরবোর্ড ভেঙে প্রশাসক নিয়োগের সিদ্ধান্ত কার্যকর হয়েছে।

রাজ্যে রাজনৈতিক পরিবর্তনের পর থেকেই কলকাতা পুরসভার প্রশাসনিক ক্ষমতার বড় অংশ কমিশনারের হাতে কেন্দ্রীভূত হয়েছিল বলে রাজনৈতিক মহলে আলোচনা চলছিল। শাসকদলের একাংশের কাউন্সিলরও অভিযোগ করেছিলেন যে, তাঁরা স্বাধীনভাবে কাজ করার পর্যাপ্ত সুযোগ পাচ্ছেন না। এই প্রেক্ষাপটেই ফিরহাদ হাকিমের পদত্যাগকে অনেকেই তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছেন।

অন্যদিকে, নতুন মেয়র নির্বাচনের লক্ষ্যে দলীয় স্তরে বৈঠকের প্রস্তুতি থাকলেও শেষ মুহূর্তে তা স্থগিত হয়ে যায়। রাজনৈতিক মহলে জল্পনা ছিল যে, ওই বৈঠকেই পরবর্তী মেয়রের নাম নিয়ে সিদ্ধান্ত হতে পারে। কিন্তু তা না হওয়ায় অনিশ্চয়তা আরও বেড়ে যায়।

বর্তমানে কলকাতা পুরসভায় শাসকদলের সংখ্যাগরিষ্ঠতা থাকলেও বিভিন্ন বিতর্ক, গ্রেফতারি এবং অভ্যন্তরীণ মতভেদের কারণে দলীয় ঐক্য নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। কয়েকজন কাউন্সিলর প্রকাশ্যে অসন্তোষও জানিয়েছেন। এই পরিস্থিতিও নতুন নেতৃত্ব নির্বাচনের প্রক্রিয়াকে জটিল করে তুলেছে বলে রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের একাংশের মত।

পুরবোর্ড ভেঙে যাওয়ার ফলে পুরসভার নির্ধারিত অধিবেশনও আর অনুষ্ঠিত হবে না। আগামী ১৯ জুন যে সভা হওয়ার কথা ছিল, সেটিও কার্যত বাতিল হয়ে গেল। এখন প্রশাসকের নেতৃত্বেই কলকাতা পুরসভার দৈনন্দিন কাজ পরিচালিত হবে এবং ভবিষ্যতে নতুন প্রশাসনিক বা রাজনৈতিক সিদ্ধান্তের দিকে নজর থাকবে শহরবাসীর।

সংক্ষিপ্ত সার:
মেয়র ফিরহাদ হাকিমের পদত্যাগের পর নির্ধারিত সময়ের মধ্যে নতুন মেয়র নির্বাচিত না হওয়ায় কলকাতা পুরসভার পুরবোর্ড ভেঙে দিয়েছে রাজ্য সরকার। কমিশনার স্মিতা পাণ্ডেকে প্রশাসক হিসেবে নিয়োগ করা হয়েছে। ফলে আপাতত প্রশাসকের হাতেই কলকাতা পুরসভার দায়িত্ব রইল।

শুধু হজম শক্তি বাড়িয়ে দেয় না, জোয়ান খেলে শরীরের অনেক সমস্যা নিবারণ হয় মুখরোচক বাদাম চিক্কি খেতে দারুন, বাড়িতেই তৈরী হবে, জানুন রেসিপি এইভাবে তেজপাতা পোড়ালে দুশ্চিন্তা কেটে যাবে 5 Best Night Creams ৪ মাসের শিশু ২৪০ কোটির মালিক