পশ্চিমবঙ্গে কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্যবিমা প্রকল্প ‘আয়ুষ্মান ভারত প্রধানমন্ত্রী জন আরোগ্য যোজনা’ কার্যকর করার পথে গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। সোমবার দিল্লিতে কেন্দ্র ও রাজ্য সরকারের মধ্যে একটি সমঝোতা চুক্তি (MoU) স্বাক্ষরিত হয়েছে। এর ফলে রাজ্যের বিপুল সংখ্যক মানুষ দেশের বিভিন্ন প্রান্তে তালিকাভুক্ত হাসপাতালগুলিতে নগদবিহীন চিকিৎসা পরিষেবা পাওয়ার সুযোগ পাবেন।
রাজ্যের কোটি কোটি মানুষের জন্য নতুন সুযোগ
রাজ্য প্রশাসনের শীর্ষস্তরের কর্মকর্তাদের মতে, এতদিন যে বিপুল সংখ্যক মানুষ এই কেন্দ্রীয় প্রকল্পের আওতার বাইরে ছিলেন, তাঁরা এখন এর সুবিধা পেতে পারবেন। বিশেষ করে অর্থনৈতিকভাবে দুর্বল ও যোগ্য পরিবারগুলির জন্য চিকিৎসা ব্যয়ের চাপ অনেকটাই কমবে বলে আশা করা হচ্ছে।
সরকারি সূত্রের দাবি, পশ্চিমবঙ্গের প্রায় ১ কোটি ৪৩ লক্ষ পরিবার এই প্রকল্পের আওতায় আসতে পারে। উপভোক্তাদের জন্য পৃথক স্বাস্থ্যকার্ডও দেওয়া হবে।
৭০ বছরের বেশি বয়সিদের জন্য বিশেষ সুবিধা
প্রকল্পে প্রবীণ নাগরিকদের জন্য আলাদা গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। রাজ্যে ৭০ বছরের ঊর্ধ্বে প্রায় ৪০ লক্ষ মানুষের জন্য অতিরিক্ত স্বাস্থ্যসুরক্ষার ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। তাঁদের চিকিৎসার জন্য নির্দিষ্ট আর্থিক কভারেজ থাকবে, যার ফলে বয়স্কদের চিকিৎসা সংক্রান্ত খরচের বোঝা অনেকটাই কমতে পারে।
দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসার সুযোগ
এই প্রকল্প চালু হওয়ার ফলে পশ্চিমবঙ্গের বাসিন্দারা শুধু রাজ্যের মধ্যেই নয়, দেশের অন্যান্য রাজ্যের তালিকাভুক্ত হাসপাতালেও চিকিৎসা করাতে পারবেন। আগে বহু রোগীকে উন্নত চিকিৎসার জন্য হায়দরাবাদ, চেন্নাই বা অন্য রাজ্যের বিশেষায়িত হাসপাতালে যেতে হলে ব্যক্তিগত খরচ বা বেসরকারি বিমার উপর নির্ভর করতে হত।
এখন আয়ুষ্মান ভারতের নেটওয়ার্কভুক্ত হাসপাতালগুলিতে নির্ধারিত নিয়ম অনুযায়ী চিকিৎসা পরিষেবা পাওয়া যাবে। কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্য মন্ত্রকের তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে সারা দেশে ৩৬ হাজারেরও বেশি হাসপাতাল এই প্রকল্পের সঙ্গে যুক্ত রয়েছে, যার মধ্যে উল্লেখযোগ্য সংখ্যক বেসরকারি হাসপাতালও রয়েছে।
ভিন্রাজ্যে থাকা বাংলার বাসিন্দারাও পাবেন সুবিধা
যাঁদের স্থায়ী ঠিকানা পশ্চিমবঙ্গে হলেও কাজ বা অন্যান্য কারণে দেশের অন্য রাজ্যে বসবাস করেন, তাঁরাও এই প্রকল্পের আওতায় সুবিধা নিতে পারবেন। ফলে কর্মসূত্রে দিল্লি, মুম্বই, বেঙ্গালুরু বা অন্য শহরে থাকা বহু মানুষ চিকিৎসা পরিষেবার ক্ষেত্রে অতিরিক্ত সুবিধা পাবেন।
আশা কর্মীরাও উপকৃত হবেন
রাজ্যের বিপুল সংখ্যক আশা কর্মীকেও এই স্বাস্থ্যসুরক্ষা প্রকল্পের সুবিধার আওতায় আনার কথা জানানো হয়েছে। এর ফলে স্বাস্থ্য পরিষেবার সঙ্গে যুক্ত মাঠপর্যায়ের কর্মীরাও উপকৃত হবেন।
কেন্দ্রের দাবি: প্রকল্পের বিস্তার অব্যাহত
কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্য মন্ত্রকের তথ্য অনুযায়ী, ২০১৮ সালে প্রকল্প চালুর পর থেকে দেশে ৪৪ কোটিরও বেশি আয়ুষ্মান কার্ড বিতরণ করা হয়েছে। ২০২৬ সালের মে মাসের শেষ পর্যন্ত ৩৬ হাজারেরও বেশি হাসপাতাল এই কর্মসূচির সঙ্গে যুক্ত হয়েছে।
সরকারি হিসাব অনুযায়ী, এখন পর্যন্ত ১২ কোটিরও বেশি হাসপাতালে ভর্তি রোগী এই প্রকল্পের সুবিধা পেয়েছেন এবং চিকিৎসা ব্যয়ে বিপুল পরিমাণ আর্থিক সহায়তা প্রদান করা হয়েছে। উপভোক্তাদের মধ্যে মহিলাদের অংশগ্রহণও উল্লেখযোগ্য বলে দাবি করেছে কেন্দ্র।
রাজনৈতিক তরজা অব্যাহত
চুক্তি স্বাক্ষরের অনুষ্ঠানে কেন্দ্র ও রাজ্যের প্রতিনিধিরা একে স্বাস্থ্য পরিষেবার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে তুলে ধরেন। একই সঙ্গে পূর্ববর্তী সরকারের ভূমিকা নিয়ে রাজনৈতিক সমালোচনাও শোনা যায়। স্বাস্থ্য প্রকল্প বাস্তবায়ন, কেন্দ্রীয় বরাদ্দের ব্যবহার এবং বিভিন্ন স্বাস্থ্য কর্মসূচি নিয়ে রাজনৈতিক বিতর্কও সামনে আসে।
তবে সাধারণ মানুষের কাছে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হল, প্রকল্পটি কার্যকর হলে যোগ্য উপভোক্তারা দেশের বিস্তৃত হাসপাতাল নেটওয়ার্কে চিকিৎসা পরিষেবা পাওয়ার সুযোগ পাবেন। বিশেষ করে প্রবীণ নাগরিক, নিম্ন ও মধ্যবিত্ত পরিবার এবং ভিন্রাজ্যে বসবাসকারী পশ্চিমবঙ্গের বাসিন্দাদের জন্য এটি বড় স্বস্তির কারণ হতে পারে।

Hello friends, Myself Biplab. I have been writing horoscopes since 2019. Since 2022, I have also been writing about entertainment, lifestyle, and trending news.