সঞ্চিতা উগলের আকস্মিক মৃত্যুতে শোকের ছায়া নেমে এসেছে হিন্দি টেলিভিশন জগতে। জনপ্রিয় ধারাবাহিক ‘কুমকুম ভাগ্য’-এর এই তরুণ অভিনেত্রীর মৃত্যুকে ঘিরে তৈরি হয়েছে একাধিক প্রশ্ন। প্রাথমিক তদন্তে পুলিশ আত্মহত্যার সম্ভাবনার কথা জানালেও, মৃত্যুর প্রকৃত কারণ জানতে বিস্তারিত তদন্ত চলছে।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, ১৪ জুন সন্ধ্যার দিকে নিজের বাড়িতেই সঞ্চিতাকে অচেতন অবস্থায় পাওয়া যায়। পরিবারের সদস্য এবং স্থানীয় বাসিন্দারা দ্রুত তাঁকে হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসকেরা মৃত ঘোষণা করেন। তদন্তকারীদের দাবি, ঘটনার সময় অভিনেত্রীর ঘরের দরজা ভিতর থেকে বন্ধ ছিল। পরে তাঁর দেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়। পরিবারের অভিযোগের ভিত্তিতে ১৫ জুন অস্বাভাবিক মৃত্যুর মামলা রুজু হয়েছে।
মাত্র ২২ বছর বয়সী সঞ্চিতা অভিনয়ের পাশাপাশি প্রাণবন্ত ও হাসিখুশি স্বভাবের জন্য পরিচিত ছিলেন। সামাজিক মাধ্যমে তিনি নিয়মিত সক্রিয় ছিলেন এবং মৃত্যুর আগেও তাঁর ইনস্টাগ্রাম অ্যাকাউন্টে একটি আনন্দঘন ভিডিও পোস্ট করেছিলেন। সেই পোস্ট এখন তাঁর অনুরাগীদের কাছে আবেগের কেন্দ্রবিন্দু হয়ে উঠেছে।
অভিনেত্রীর সহকর্মী মেঘা শর্মা জানিয়েছেন, চলতি বছরের জানুয়ারি মাস থেকে সঞ্চিতা মানসিক অবসাদের সঙ্গে লড়াই করছিলেন। তাঁর কথায়, সঞ্চিতার কিছু শারীরিক সমস্যাও ছিল এবং তিনি চিকিৎসাধীন ছিলেন। তবে কয়েক দিন আগেও একটি অডিশনে একসঙ্গে যাওয়ার সময় সঞ্চিতাকে ভবিষ্যৎ নিয়ে আশাবাদী বলেই মনে হয়েছিল। মেঘার দাবি, সাফল্য অর্জনের ব্যাপারে সঞ্চিতা আত্মবিশ্বাসী ছিলেন এবং নতুন সুযোগের অপেক্ষায় ছিলেন।
তবে মেঘা আরও জানিয়েছেন, অতীতে সঞ্চিতা কখনও কখনও নিজের জীবন শেষ করার মতো নেতিবাচক চিন্তার কথা প্রকাশ করতেন। বন্ধুবান্ধব ও সহকর্মীরা তাঁকে ইতিবাচক থাকার পরামর্শ দিতেন এবং এমন চিন্তা থেকে দূরে থাকার জন্য বোঝানোর চেষ্টা করতেন।
এদিকে সঞ্চিতার ভাই অবিনাশ উগলে মৃত্যুকে ঘিরে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ দাবি করেছেন। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, সঞ্চিতার শেষ সোশ্যাল মিডিয়া পোস্টটি প্রয়াত অভিনেতা Sushant Singh Rajput-কে উৎসর্গ করা হয়েছিল। উল্লেখযোগ্যভাবে, সুশান্তের মৃত্যু হয়েছিল ২০২০ সালের ১৪ জুন। অবিনাশের দাবি, সঞ্চিতার মৃত্যুর তারিখও একই হওয়ায় বিষয়টি কেবল কাকতালীয় কি না, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠছে।
অবিনাশ আরও অভিযোগ করেছেন যে, বিনোদন জগতের প্রতিযোগিতা, কাজের অনিশ্চয়তা এবং কর্মক্ষেত্রে অপমানজনক অভিজ্ঞতা সঞ্চিতার মানসিক অবস্থার উপর গভীর প্রভাব ফেলেছিল। তাঁর মতে, দীর্ঘদিনের পেশাগত চাপ এবং হতাশাই এই মর্মান্তিক ঘটনার পেছনে ভূমিকা রাখতে পারে।
তবে তদন্তকারী সংস্থার পক্ষ থেকে এখনও কোনও নির্দিষ্ট সিদ্ধান্তে পৌঁছনো হয়নি। পুলিশ জানিয়েছে, ময়নাতদন্তের রিপোর্ট এবং অন্যান্য প্রমাণ খতিয়ে দেখার পরই মৃত্যুর প্রকৃত কারণ সম্পর্কে স্পষ্ট ধারণা পাওয়া যাবে। ফলে সঞ্চিতা উগলের মৃত্যু ঘিরে তৈরি হওয়া জল্পনার অবসান ঘটাতে এখন সকলের নজর তদন্তের ফলাফলের দিকেই।

Hello friends, Myself Biplab. I have been writing horoscopes since 2019. Since 2022, I have also been writing about entertainment, lifestyle, and trending news.