Hair Care: খুশকি বারবার ফিরে আসে কেন? কারণ জানলেই মিলবে দীর্ঘস্থায়ী সমাধান

অনেকেই মনে করেন, এক-দু’বার শ্যাম্পু করলেই খুশকির সমস্যা দূর হয়ে যাবে। কিন্তু বাস্তবে দেখা যায়, সকালে মাথা ধোয়ার পর কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই আবার চুলকানি, সাদা গুঁড়ো এবং মাথার ত্বকে অস্বস্তি ফিরে আসে। তাই শুধু বাহ্যিকভাবে খুশকি সরিয়ে ফেললেই সমাধান হয় না। এর প্রকৃত কারণ বুঝে ব্যবস্থা নেওয়াই সবচেয়ে জরুরি।

খুশকির আসল কারণ কী?
মাথার ত্বকে স্বাভাবিকভাবেই ম্যালাসেজিয়া (Malassezia) নামে এক ধরনের ইস্ট বা ছত্রাক বাস করে। সাধারণ অবস্থায় এটি ক্ষতিকর নয়। কিন্তু মাথার ত্বকে অতিরিক্ত তেল, ঘাম, গরম আবহাওয়া বা মানসিক চাপ বেড়ে গেলে এই ছত্রাক দ্রুত বৃদ্ধি পেতে শুরু করে।

Hair Care: খুশকি বারবার ফিরে আসে কেন? কারণ জানলেই মিলবে দীর্ঘস্থায়ী সমাধান
Hair Care: খুশকি বারবার ফিরে আসে কেন? কারণ জানলেই মিলবে দীর্ঘস্থায়ী সমাধান

এর ফলে মাথার ত্বকে প্রদাহ তৈরি হয় এবং ত্বকের কোষ স্বাভাবিকের তুলনায় দ্রুত ঝরে পড়তে থাকে। এই মৃত কোষগুলিই খুশকি হিসেবে দেখা যায়।

খুশকির দুই ধরন

১. তৈলাক্ত খুশকি
এই ধরনের খুশকি সাধারণত হলদেটে ও কিছুটা আঠালো হয়। সহজে ঝরে পড়ে না, বরং মাথার ত্বকে লেগে থাকে। এর সঙ্গে তীব্র চুলকানি, জ্বালাভাব এবং সংক্রমণের ঝুঁকিও বাড়তে পারে। যাঁদের মাথার ত্বক খুব তৈলাক্ত, তাঁদের মধ্যে এই সমস্যা বেশি দেখা যায়।

২. শুষ্ক খুশকি
শুষ্ক খুশকি হাত দিয়ে মাথা ঘষলেই গুঁড়ো গুঁড়ো হয়ে ঝরে পড়ে। অনেক সময় কাঁধ, জামাকাপড় বা মুখেও এই মৃত চামড়ার কণা দেখা যায়। শীতকালে এটি বেশি হলেও গরমকালেও হতে পারে। শুধু মাথায় তেল লাগালেই এই সমস্যা দূর হয় না।

গরমকালে কেন খুশকি বাড়ে?
গরম ও আর্দ্র আবহাওয়ায় মাথায় বেশি ঘাম ও তেল জমে। এই পরিবেশ ছত্রাকের বৃদ্ধির জন্য অত্যন্ত উপযোগী। এছাড়া দীর্ঘ সময় হেলমেট পরে থাকা, ভেজা চুল বেঁধে রাখা বা মাথা দীর্ঘক্ষণ স্যাঁতসেঁতে থাকলেও খুশকি দ্রুত বাড়তে পারে।

কীভাবে নিয়ন্ত্রণে রাখবেন?

সঠিক শ্যাম্পু ব্যবহার করুন
সাধারণ শ্যাম্পু সাময়িকভাবে মৃত কোষ পরিষ্কার করলেও ছত্রাকের বৃদ্ধি কমাতে পারে না। তাই চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী অ্যান্টিফাঙ্গাল উপাদানযুক্ত মেডিকেটেড শ্যাম্পু ব্যবহার করলে দীর্ঘমেয়াদে ভালো ফল পাওয়া যায়।

নিয়ম মেনে ব্যবহার জরুরি
খুশকি কমে গেলেই শ্যাম্পু ব্যবহার বন্ধ করে দিলে সমস্যা আবার ফিরে আসতে পারে। শুরুতে সপ্তাহে দুই থেকে তিনবার, পরে সপ্তাহে একবার এবং পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে মাসে অন্তত দু’বার ব্যবহার করলে পুনরায় খুশকি হওয়ার ঝুঁকি কমে।

খুশকি প্রতিরোধে আরও কিছু অভ্যাস
*মাথা বেশি ঘেমে গেলে যত দ্রুত সম্ভব পরিষ্কার জল দিয়ে ধুয়ে নিন বা ভালোভাবে শুকিয়ে নিন।
*ভেজা বা ঘামে ভেজা চুল কখনও বেঁধে রাখবেন না।
*হেলমেট, স্কাল ক্যাপ, তোয়ালে ও চিরুনি নিয়মিত পরিষ্কার করুন।
*অতিরিক্ত চুলকানো এড়িয়ে চলুন, কারণ এতে মাথার ত্বকে ক্ষত তৈরি হয়ে সংক্রমণের আশঙ্কা বাড়ে।

শেষ কথা
খুশকি শুধুমাত্র সৌন্দর্যের সমস্যা নয়; দীর্ঘদিন অবহেলা করলে মাথার ত্বকে প্রদাহ, অস্বস্তি এবং চুল পড়ার সমস্যাও বাড়তে পারে। তাই ঘরোয়া টোটকার উপর নির্ভর না করে সমস্যার ধরন বুঝে সঠিক পরিচর্যা এবং প্রয়োজনে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়াই সবচেয়ে কার্যকর উপায়।

শুধু হজম শক্তি বাড়িয়ে দেয় না, জোয়ান খেলে শরীরের অনেক সমস্যা নিবারণ হয় মুখরোচক বাদাম চিক্কি খেতে দারুন, বাড়িতেই তৈরী হবে, জানুন রেসিপি এইভাবে তেজপাতা পোড়ালে দুশ্চিন্তা কেটে যাবে 5 Best Night Creams ৪ মাসের শিশু ২৪০ কোটির মালিক