বিশ্বজুড়ে গত দুই দশকে জন্মহার ধারাবাহিকভাবে কমছে। অর্থনৈতিক পরিবর্তন, শিক্ষার প্রসার, নারীর কর্মসংস্থান ও পরিবার পরিকল্পনার মতো নানা কারণের পাশাপাশি সাম্প্রতিক কয়েকটি গবেষণায় স্মার্টফোন ব্যবহারের বৃদ্ধিকেও একটি সম্ভাব্য প্রভাবক হিসেবে বিবেচনা করা হয়েছে।
গবেষকদের পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী, ২০০৭ সালের পর স্মার্টফোনের দ্রুত বিস্তারের সময় থেকেই বহু দেশে জন্মহারে নিম্নমুখী প্রবণতা স্পষ্ট হতে শুরু করে। যদিও এই দুই ঘটনার মধ্যে সরাসরি কারণ-ফল সম্পর্ক প্রমাণিত হয়নি, তবুও পরিসংখ্যানগত মিল গবেষকদের আগ্রহের বিষয় হয়ে উঠেছে।
একটি গবেষণায় দেখা যায়, স্মার্টফোন সহজলভ্য হওয়ার সঙ্গে তরুণদের সামাজিক মেলামেশার ধরনে পরিবর্তন এসেছে। বন্ধু বা সঙ্গীর সঙ্গে সরাসরি সময় কাটানোর বদলে অনলাইন যোগাযোগ, সামাজিক মাধ্যম ও ডিজিটাল বিনোদনের দিকে ঝোঁক বেড়েছে। এর ফলে ঘনিষ্ঠ সম্পর্কের সুযোগ ও আগ্রহেও পরিবর্তন দেখা দিতে পারে বলে গবেষকদের ধারণা।

বিশেষজ্ঞদের মতে, স্মার্টফোনের মাধ্যমে গর্ভনিরোধক, যৌনস্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা সম্পর্কিত তথ্য সহজে পাওয়া যায়। ফলে অনিচ্ছাকৃত গর্ভধারণ প্রতিরোধে সচেতনতা বেড়েছে, যা জন্মহার কমার অন্যতম কারণ হতে পারে।
অন্যদিকে, ইন্টারনেটভিত্তিক বিনোদন এবং প্রাপ্তবয়স্ক কনটেন্টের সহজ প্রাপ্যতাও মানুষের আচরণে প্রভাব ফেলছে বলে কিছু গবেষণায় উল্লেখ করা হয়েছে। তবে এই বিষয়েও আরও বিস্তৃত গবেষণার প্রয়োজন রয়েছে।
বিশ্বের বিভিন্ন দেশের তথ্য বিশ্লেষণ করে করা আরেকটি সমীক্ষায় দেখা গেছে, স্বাস্থ্যনীতি, অর্থনৈতিক অবস্থা বা সাংস্কৃতিক পার্থক্য থাকা সত্ত্বেও বহু দেশেই প্রায় একই সময়ে জন্মহার কমেছে। গবেষকদের মতে, প্রযুক্তিনির্ভর জীবনযাত্রা সেই পরিবর্তনের একটি সম্ভাব্য উপাদান হতে পারে।
তবে জনসংখ্যাবিদরা সতর্ক করে বলছেন, জন্মহার কমার পেছনে একক কোনও কারণ কাজ করে না। শিক্ষা, নগরায়ণ, জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধি, দেরিতে বিয়ে, কর্মজীবনের অগ্রাধিকার এবং পরিবার পরিকল্পনার মতো বহু সামাজিক ও অর্থনৈতিক বিষয় একসঙ্গে এই প্রবণতাকে প্রভাবিত করে। তাই স্মার্টফোনের ব্যবহার ও জন্মহ্রাসের মধ্যে সম্পর্ক থাকলেও, সেটিকে সরাসরি কারণ হিসেবে দেখার আগে আরও বৈজ্ঞানিক প্রমাণ প্রয়োজন।
Sumi has been waiting lifestyle, vastu Tips since 2026.