কঙ্গোয় ইবোলার ভয়াবহ থাবা, মৃত ২ হাজারের বেশি! দ্রুত ছড়াচ্ছে সংক্রমণ, সতর্ক বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা

মধ্য আফ্রিকাজুড়ে ফের উদ্বেগ বাড়াচ্ছে মারণ ইবোলা ভাইরাস। মাত্র কয়েক মাসের মধ্যেই সংক্রমণ ভয়াবহ আকার নিয়েছে বলে দাবি করা হয়েছে। সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত ডেমোক্র্যাটিক রিপাবলিক অব কঙ্গো (DR Congo)। সরকারি পরিসংখ্যান অনুযায়ী, সেখানে এখনও পর্যন্ত ইবোলায় আক্রান্ত হয়েছেন ৪ হাজার ৩৮১ জন। মৃত্যু হয়েছে ২ হাজার ১১ জনের। হাসপাতালে ও আইসোলেশন কেন্দ্রে চিকিৎসাধীন রয়েছেন আরও ৭০৪ জন।

দুর্গম এলাকাতেও ছড়াচ্ছে সংক্রমণ
কঙ্গোর স্বাস্থ্যকর্মীদের দাবি, দেশের প্রত্যন্ত ও দুর্গম এলাকাতেও দ্রুত ছড়িয়ে পড়ছে সংক্রমণ। অনেক জায়গায় আক্রান্তদের কাছে সময়মতো চিকিৎসা পরিষেবা পৌঁছনো কঠিন হয়ে দাঁড়িয়েছে। ফলে পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠছে। কঙ্গোর গণ্ডি পেরিয়ে প্রতিবেশী উগান্ডাতেও ইবোলা সংক্রমণের খবর সামনে এসেছে। সেখানে এখনও পর্যন্ত ২০ জন আক্রান্ত হওয়ার খবর পাওয়া গিয়েছে। মৃত্যু হয়েছে ২ জনের।

সতর্ক বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা
পরিস্থিতির গুরুত্ব বিবেচনা করে উচ্চ সতর্কতা জারি করেছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (WHO)। কঙ্গোয় ইবোলার নতুন ভ্যারিয়েন্ট বুন্দিবুগি শনাক্ত হওয়ার কথাও উল্লেখ করা হয়েছে। সংক্রমণের দ্রুত বিস্তার এবং প্রত্যন্ত অঞ্চলে চিকিৎসা পরিষেবা পৌঁছে দিতে সমস্যার কারণে উদ্বেগ আরও বাড়ছে। পরিস্থিতি মোকাবিলায় আক্রান্তদের দ্রুত শনাক্তকরণ, আইসোলেশন এবং চিকিৎসার উপর জোর দেওয়া হচ্ছে।

ভারতেও বাড়ানো হচ্ছে নজরদারি
কঙ্গো ও উগান্ডায় সংক্রমণের খবরের পর ভারতও সতর্কতামূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করছে। সন্দেহভাজন রোগীদের দ্রুত শনাক্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য ল্যাবরেটরিগুলিকে প্রস্তুত রাখা হচ্ছে। পাশাপাশি বিমানবন্দরগুলিতে নজরদারি বাড়ানো হচ্ছে। সমুদ্রবন্দরগুলিতেও সতর্কতা জারি করা হয়েছে। স্বাস্থ্য সংক্রান্ত বিষয়ে আতঙ্ক বা গুজব না ছড়িয়ে নির্ভরযোগ্য সূত্রের তথ্য অনুসরণ করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

কীভাবে ছড়ায় ইবোলা?
ইবোলা অত্যন্ত সংক্রামক ও প্রাণঘাতী ভাইরাসজনিত রোগ। সংক্রমিত ব্যক্তির রক্ত বা শরীরের অন্যান্য তরলের সরাসরি সংস্পর্শে এলে সংক্রমণের ঝুঁকি থাকে। আক্রান্ত ব্যক্তির ব্যবহৃত সামগ্রী বা দূষিত পৃষ্ঠের সংস্পর্শ থেকেও সংক্রমণ ছড়াতে পারে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, ফলখেকো বাদুড় ইবোলা ভাইরাসের প্রাকৃতিক বাহক হিসেবে বিবেচিত হয়। প্রাণী থেকে মানুষের শরীরেও ভাইরাসটি সংক্রমিত হতে পারে। আক্রান্ত ব্যক্তির সঙ্গে ঘনিষ্ঠ শারীরিক সংস্পর্শের মাধ্যমেও দ্রুত ছড়িয়ে পড়তে পারে সংক্রমণ।

ইবোলার প্রধান উপসর্গ কী?
ইবোলায় আক্রান্ত হলে সাধারণত জ্বর, দুর্বলতা, বমি, ডায়রিয়া-সহ একাধিক উপসর্গ দেখা দিতে পারে। রোগটি দ্রুত গুরুতর আকার নিতে পারে এবং সময়মতো চিকিৎসা না হলে মৃত্যুর ঝুঁকি উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়ে যায়। তবে একটি বিষয় মনে রাখা জরুরি—ইবোলা সাধারণ মানুষের মধ্যে দৈনন্দিন কথাবার্তা বা স্বাভাবিকভাবে পাশাপাশি থাকার মাধ্যমে সহজে ছড়ায় না। সংক্রমিত ব্যক্তির শরীরের তরল বা দূষিত সামগ্রীর সরাসরি সংস্পর্শই সংক্রমণের অন্যতম প্রধান পথ।

পরিস্থিতির দিকে নজর গোটা বিশ্বের
কঙ্গো ও উগান্ডায় সংক্রমণের বিস্তার এবং মৃত্যুর সংখ্যা বৃদ্ধির জেরে আন্তর্জাতিক মহলে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণে দ্রুত রোগী শনাক্তকরণ, আইসোলেশন, চিকিৎসা এবং স্বাস্থ্যকর্মীদের সুরক্ষার উপর জোর দেওয়া হচ্ছে। পরিস্থিতির উপর নজর রাখছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থাও।

শুধু হজম শক্তি বাড়িয়ে দেয় না, জোয়ান খেলে শরীরের অনেক সমস্যা নিবারণ হয় মুখরোচক বাদাম চিক্কি খেতে দারুন, বাড়িতেই তৈরী হবে, জানুন রেসিপি এইভাবে তেজপাতা পোড়ালে দুশ্চিন্তা কেটে যাবে 5 Best Night Creams ৪ মাসের শিশু ২৪০ কোটির মালিক