গরমের দিনে দীর্ঘ সময় রান্নাঘরে কাটাতে অনেকেরই অনীহা থাকে। বিশেষ করে সপ্তাহান্তের ছুটির দিনে সবাই চান কম সময়ে সুস্বাদু ও ঘরোয়া কোনও পদ তৈরি করতে। এমন পরিস্থিতিতে পটলের ঘণ্ট হতে পারে আদর্শ পছন্দ। যাঁরা সাধারণত পটল খেতে পছন্দ করেন না, তাঁরাও এই বিশেষ রান্নার স্বাদে মুগ্ধ হতে পারেন। সঠিক মশলা, নারকেল ও আলুর সংমিশ্রণে তৈরি এই পদ ভাত কিংবা রুটির সঙ্গে সমান উপভোগ্য।
পটলের ঘণ্টের বিশেষত্ব হল এর সহজ প্রস্তুত প্রণালী এবং কম সময়ে রান্না হয়ে যাওয়ার সুবিধা। প্রথমে পটলের খোসা ছাড়িয়ে টুকরো করে কেটে নিতে হবে। পরে তা বেটে নেওয়া বা খুব সূক্ষ্মভাবে কুচি করে রাখা যেতে পারে। পাশাপাশি আলুও ছোট ছোট টুকরো করে কেটে রাখতে হবে।
রান্নার শুরুতে কড়াইয়ে সর্ষের তেল গরম করে তেজপাতা, শুকনো লঙ্কা এবং গোটা জিরে ফোড়ন দেওয়া হয়। এরপর আদা কুচি বা বাটা যোগ করে তার সঙ্গে আলু ভেজে নেওয়া হয়। আলু কিছুটা নরম হয়ে এলে কুরোনো নারকেল মিশিয়ে হালকা ভাজা হয়। তারপর ধনে গুঁড়ো, জিরে গুঁড়ো, হলুদ এবং স্বাদমতো লঙ্কাগুঁড়ো দিয়ে মশলা কষিয়ে নেওয়া প্রয়োজন।

মশলা থেকে সুন্দর গন্ধ বেরোতে শুরু করলে তাতে পটলের বাটা বা কুচি মিশিয়ে দিতে হবে। কম আঁচে ধীরে ধীরে রান্না করলে পটল ও আলু ভালোভাবে সেদ্ধ হয়ে যায়। প্রয়োজন হলে সামান্য গরম জল ব্যবহার করা যেতে পারে। রান্না প্রায় শেষের দিকে এলে স্বাদ অনুযায়ী চিনি যোগ করা হয়। সবশেষে সামান্য ঘি ও গরম মশলা ছড়িয়ে ভালোভাবে মিশিয়ে নিলেই প্রস্তুত হয়ে যায় সুগন্ধি পটলের ঘণ্ট।
এই পদটির সবচেয়ে বড় আকর্ষণ হল এর নরম ও মাখামাখা গঠন, যা শিশুদের কাছেও জনপ্রিয় হতে পারে। অনেক সময় সবজি খেতে অনীহা থাকা সদস্যরাও এই রান্না সহজেই খেয়ে নেন। অল্প উপকরণ, কম সময় এবং চমৎকার স্বাদের কারণে ছুটির দিনের মধ্যাহ্নভোজে পটলের ঘণ্ট একটি দারুণ সংযোজন হতে পারে।