লিলি চক্রবর্তীর অভিনয়জীবন কয়েক দশক জুড়ে বিস্তৃত। বয়স ও অভিজ্ঞতার দীর্ঘ পথ পেরিয়েও অভিনয়ের প্রতি তাঁর আগ্রহ আজও অটুট। বড়পর্দায় এখনও নিয়মিত গুরুত্বপূর্ণ চরিত্রে দেখা যায় তাঁকে। আগামী জুলাই মাসে মুক্তি পেতে চলা পরিচালক কৌশিক গঙ্গোপাধ্যায়ের নতুন ছবি ‘আজও অর্ধাঙ্গিনী’-তেও তিনি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকায় অভিনয় করেছেন। তবে সিনেমায় কাজ চালিয়ে গেলেও ছোটপর্দার ধারাবাহিকে আর ফিরতে চান না বলে স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন এই বর্ষীয়ান অভিনেত্রী।
সম্প্রতি নিজের অবস্থান ব্যাখ্যা করতে গিয়ে লিলি চক্রবর্তী জানান, ধারাবাহিকের শুটিং-পরিবেশ তাঁর কাছে আর স্বস্তিদায়ক নয়। তাঁর কথায়, শেষবার তিনি ‘নিমফুলের মধু’ ধারাবাহিকে কাজ করেছিলেন। কিন্তু সেই কাজের শেষদিকে এসে অভিনয়ের আগ্রহও কমে গিয়েছিল। কারণ, দীর্ঘ সময় ধরে শিল্পীদের কোনও কাজ ছাড়াই অপেক্ষা করতে হয়। এই অভিজ্ঞতা এতটাই বিরক্তিকর যে, ভবিষ্যতে কাজ না থাকলেও তিনি বাড়িতে থাকতে রাজি, তবুও আর ধারাবাহিকে অভিনয় করতে চান না।
শুধু লিলি চক্রবর্তী নন, টেলিভিশনের বর্তমান কর্মপরিবেশ নিয়ে একই ধরনের অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন আরও কয়েকজন বর্ষীয়ান অভিনেত্রী। তাঁদের অভিযোগ, অনেক সময় শুটিং ফ্লোরে পৌঁছে ঘণ্টার পর ঘণ্টা বসে থাকতে হয়, অথচ চিত্রনাট্যই সময়মতো হাতে আসে না। ফলে কাজের পরিকল্পনা যেমন বিঘ্নিত হয়, তেমনই শিল্পীদের সময়ও নষ্ট হয়।
অভিনেত্রী রত্না ঘোষালও কিছুদিন আগে জানিয়েছিলেন, বর্তমান ধারাবাহিকের গল্প ও কাজের পদ্ধতি তাঁকে হতাশ করেছে। তাঁর মতে, অনেক ক্ষেত্রে গল্পের ধারাবাহিকতা ও পরিকল্পনার অভাব দেখা যায়। এমনও হয়েছে, সকাল থেকে শুটিং সেটে উপস্থিত থাকার পর সন্ধ্যা পর্যন্ত অপেক্ষা করেও দৃশ্যের চিত্রনাট্য হাতে আসেনি। এতে শিল্পীদের অযথা দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করতে হয় এবং শুটিং শেষ হতে রাত হয়ে যায়।
একই ধরনের অভিজ্ঞতার কথা জানিয়েছেন অভিনেত্রী অনামিকা সাহাও। তাঁর অভিযোগও মূলত দীর্ঘ অপেক্ষা, অনিয়মিত পরিকল্পনা এবং শুটিংয়ের সময়সূচি ঘিরেই। ফলে একসময়ের জনপ্রিয় একাধিক বর্ষীয়ান শিল্পী এখন টেলিভিশনের ধারাবাহিক থেকে দূরে থাকার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।
তবে এর অর্থ এই নয় যে, অভিজ্ঞ অভিনেতা-অভিনেত্রীরা সম্পূর্ণভাবে ছোটপর্দা ছেড়ে দিয়েছেন। এখনও অনুরাধা রায়, সঙ্ঘমিত্রা ভট্টাচার্য এবং কল্যাণী মণ্ডলের মতো বহু পরিচিত মুখ বিভিন্ন ধারাবাহিকে নিয়মিত অভিনয় করে চলেছেন। অর্থাৎ, কেউ বর্তমান কর্মপরিবেশে স্বচ্ছন্দ বোধ করছেন, আবার কেউ সেই পরিবেশের সঙ্গে নিজেকে মানিয়ে নিতে না পেরে অন্য পথ বেছে নিচ্ছেন।
সব মিলিয়ে, লিলি চক্রবর্তীর মন্তব্য আবারও টেলিভিশন ধারাবাহিকের শুটিং ব্যবস্থাপনা ও কর্মপরিবেশ নিয়ে প্রশ্ন তুলে দিল। তাঁর বক্তব্যে স্পষ্ট, অভিনয়ের প্রতি ভালোবাসা আজও অটুট থাকলেও কাজের পরিবেশ যদি শিল্পীর কাছে সন্তোষজনক না হয়, তাহলে সেই মাধ্যম থেকে সরে দাঁড়াতেও তিনি দ্বিধা করেন না।

Hello friends, Myself Biplab. I have been writing horoscopes since 2019. Since 2022, I have also been writing about entertainment, lifestyle, and trending news.