মাইগ্রেন এমন একটি স্নায়বিক সমস্যা, যা বর্তমানে সব বয়সের মানুষের মধ্যেই দ্রুত বাড়ছে। অনিয়মিত জীবনযাপন, পর্যাপ্ত ঘুমের অভাব, মানসিক চাপ, অস্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস এবং শরীরচর্চার অভাব— এই সব কারণই অনেক ক্ষেত্রে মাইগ্রেনের সমস্যা বাড়িয়ে দিতে পারে। যাঁরা দীর্ঘদিন ধরে এই সমস্যায় ভুগছেন, তাঁদের কাছে মাথাব্যথার প্রতিটি পর্বই অত্যন্ত কষ্টদায়ক।
মাইগ্রেনের ক্ষেত্রে সাধারণ মাথাব্যথার মতো নয়, বরং মাথার এক পাশেই তীব্র ধকধক করা ব্যথা অনুভূত হয়। অনেকের ক্ষেত্রে এই যন্ত্রণা টানা ৪৮ থেকে ৭২ ঘণ্টা পর্যন্ত স্থায়ী হতে পারে। এর পাশাপাশি বমিভাব, মাথা ঘোরা, আলো বা উচ্চ শব্দে অস্বস্তি বেড়ে যাওয়ার মতো উপসর্গও দেখা দেয়।
সাধারণত চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী ওষুধই মাইগ্রেন নিয়ন্ত্রণের প্রধান উপায়। তবে এমন পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে, যখন প্রয়োজনের সময়ে হাতের কাছে ওষুধ থাকে না। সে ক্ষেত্রে একটি সহজ ঘরোয়া পদ্ধতি সাময়িক আরাম দিতে পারে। সেটি হল আইস থেরাপি।

বিশেষজ্ঞদের মতে, তর্জনী ও বুড়ো আঙুলের মাঝখানের নরম অংশে একটি বরফের টুকরো কয়েক মিনিট ধরে হালকা চাপ দিয়ে রাখলে অনেকের ক্ষেত্রে ব্যথার তীব্রতা কিছুটা কমতে পারে। এই অংশটি শরীরের একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রেসার পয়েন্ট হিসেবে পরিচিত। ঠান্ডার প্রভাবে ওই স্থানের সংবেদনশীল স্নায়ু উদ্দীপ্ত হয় এবং মস্তিষ্কে ঠান্ডা অনুভূতির সংকেত পৌঁছায়। এর ফলে ব্যথার অনুভূতি কিছুটা হ্রাস পেতে পারে।
তবে বিশেষজ্ঞরা মনে করিয়ে দেন, এই পদ্ধতি মাইগ্রেনের স্থায়ী চিকিৎসা নয়। এটি কেবল সাময়িক স্বস্তি দিতে পারে। ব্যথা শুরু হওয়ার প্রথম দিকেই আইস থেরাপি ব্যবহার করলে তুলনামূলক ভালো ফল পাওয়া যেতে পারে।
যাঁদের ঘন ঘন মাইগ্রেন হয় বা ব্যথা বারবার ফিরে আসে, তাঁদের অবশ্যই স্নায়ুরোগ বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নেওয়া উচিত। একই সঙ্গে পর্যাপ্ত ঘুম, নিয়মিত ব্যায়াম, পর্যাপ্ত পানি পান, মানসিক চাপ নিয়ন্ত্রণ এবং সুষম খাদ্যাভ্যাস মেনে চললে মাইগ্রেনের প্রকোপ অনেকটাই কমানো সম্ভব।
Sumi has been waiting lifestyle, vastu Tips since 2026.