বাসা তৈরি শুধু ইট, বালি, সিমেন্ট আর নকশার বিষয় নয়—ভারতীয় বাস্তুশাস্ত্রের মতে এটি একটি শক্তিক্ষেত্রও বটে। তাই বাড়ি নির্মাণের সময় জমির অবস্থান, দিকনির্দেশ, প্রবেশপথ, ঘরের বিন্যাস এবং আশপাশের পরিবেশকে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়। বাস্তুশাস্ত্রে বিশ্বাস করা হয়, পরিকল্পনায় কিছু ত্রুটি থেকে গেলে তার প্রভাব পরিবারের সুখ-শান্তি, আর্থিক স্থিতি এমনকি স্বাস্থ্য ও সম্পর্কের উপরও পড়তে পারে। যদিও এই ধারণাগুলির বৈজ্ঞানিক প্রমাণ নেই, তবুও বহু মানুষ শাস্ত্রীয় বিশ্বাস মেনে গৃহনির্মাণের সময় এসব নিয়ম অনুসরণ করেন।
বাড়ির চারপাশে খোলা জায়গা রাখার পরামর্শ
বাস্তু মতে, একেবারে গা ঘেঁষে বা একই দেওয়াল ব্যবহার করে দুটি বাড়ি তৈরি করা শুভ বলে ধরা হয় না। বিশেষ করে মূল প্রবেশদ্বারের সামনে পর্যাপ্ত খোলা জায়গা থাকলে ইতিবাচক শক্তির প্রবাহ বজায় থাকে বলে বিশ্বাস করা হয়। একই সঙ্গে উত্তর বা পূর্ব প্রান্ত সম্পূর্ণ ঘেঁষে বাড়ি নির্মাণ না করে জমির ভারসাম্য বজায় রাখার পরামর্শও দেওয়া হয়।

কেন্দ্রস্থলের গুরুত্ব
বাস্তুশাস্ত্রে বাড়ির মাঝের অংশকে ‘ব্রহ্মস্থান’ বলা হয়। এই জায়গাকে যতটা সম্ভব খোলা ও ভারমুক্ত রাখার কথা বলা হয়। এই অংশে খাবার ঘর, শৌচালয়, লিফট বা অতিরিক্ত ভারী নির্মাণ থাকলে পারিবারিক অশান্তি ও নানা বাধা তৈরি হতে পারে বলে শাস্ত্রে উল্লেখ রয়েছে।
দিক অনুযায়ী নির্মাণের নিয়ম
বাস্তু মতে, পূর্ব ও পশ্চিম দিকের ভারসাম্য বজায় রাখা জরুরি। এছাড়া দক্ষিণ দিকে বড় জলাশয় বা স্থায়ী জলাধার থাকাকে অনেকেই অশুভ বলে মনে করেন। শাস্ত্রীয় বিশ্বাস অনুযায়ী, এমন অবস্থান পরিবারের সদস্যদের স্বাস্থ্য ও মানসিক শান্তির উপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।
গাছপালা ও প্রবেশপথের অবস্থান
দক্ষিণ-পূর্ব কোণে বড় আকারের বট, অশ্বত্থ বা পাকুরের মতো বৃক্ষ লাগানো বাস্তুতে নিরুৎসাহিত করা হয়। আবার মূল দরজার ঠিক সামনে বড় গাছ, বৈদ্যুতিক খুঁটি বা সোজাসুজি রাস্তা থাকাকেও ‘দ্বারদোষ’ হিসেবে ব্যাখ্যা করা হয়। এমন পরিস্থিতিতে বাড়ির ইতিবাচক শক্তির প্রবাহ ব্যাহত হয় বলে শাস্ত্রে উল্লেখ রয়েছে।
ছায়া ও আশপাশের কাঠামো
বাস্তুবিশ্বাস অনুযায়ী, দিনের দীর্ঘ সময় ধরে যদি মন্দির, উঁচু ভবন বা পাহাড়ের ছায়া বাড়ির উপর পড়ে, তবে সেটি শুভ নয়। তাই নতুন বাড়ি তৈরির আগে আশপাশের পরিবেশও খতিয়ে দেখার পরামর্শ দেওয়া হয়।
পুরোনো নির্মাণসামগ্রী ব্যবহারে সতর্কতা
অনেকেই খরচ বাঁচাতে পুরোনো কাঠ বা নির্মাণসামগ্রী ব্যবহার করেন। তবে বাস্তুশাস্ত্রে নতুন বাড়ি তৈরির ক্ষেত্রে নতুন উপকরণ ব্যবহারকেই বেশি গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। এছাড়া শিলান্যাসের দিন ও দিক নির্ধারণেও জ্যোতিষ ও বাস্তুসংক্রান্ত নিয়ম অনুসরণের প্রচলন রয়েছে।
মনে রাখবেন
বাস্তুশাস্ত্র বহু মানুষের কাছে বিশ্বাস ও ঐতিহ্যের অংশ। তবে গৃহনির্মাণের ক্ষেত্রে নিরাপদ নকশা, প্রকৌশলগত মান, সঠিক নির্মাণসামগ্রী এবং স্থানীয় বিল্ডিং বিধি মেনে চলাই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। বাস্তুসংক্রান্ত নিয়ম মানবেন কি না, তা সম্পূর্ণ ব্যক্তিগত বিশ্বাসের বিষয়।এই প্রতিবেদনটি মূল লেখার তথ্যকে নতুন ভাষা ও কাঠামোয় উপস্থাপন করেছে, ফলে সরাসরি কপি না হয়ে মৌলিকভাবে রূপান্তরিত হয়েছে।
Sumi has been waiting lifestyle, vastu Tips since 2026.