Sridevi: বলিউডে আসতেই চাননি শ্রীদেবী! কেন ‘সোলোঁওয়া সাওয়ান’-এর প্রস্তাবও ফিরিয়ে দিতে চেয়েছিলেন অভিনেত্রী?

বলিউডের ‘অলিখিত সম্রাজ্ঞী’ হয়ে ওঠার বহু আগেই দক্ষিণ ভারতীয় চলচ্চিত্রে নিজের শক্ত অবস্থান তৈরি করে ফেলেছিলেন শ্রীদেবী(Sridevi)। তামিল, তেলুগু ও মালায়লাম ছবিতে সাত ও আশির দশকেই তাঁর জনপ্রিয়তা ছিল তুঙ্গে। শিশুশিল্পী হিসেবে অভিনয়ে হাতেখড়ি নেওয়ার পর ধীরে ধীরে পূর্ণাঙ্গ নায়িকা হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেন তিনি। শুধু বাণিজ্যিক ছবি নয়, শিল্পধর্মী এবং মূলধারার—দুই ধরনের সিনেমাতেই সমান দক্ষতার সঙ্গে অভিনয় করে দর্শকের মন জয় করেছিলেন শ্রীদেবী(Sridevi)। তবে ১৯৭৭ সালের তামিল ছবি ‘১৬ বয়থিনিলে’ তাঁকে এনে দেয় সর্বভারতীয় পরিচিতি। কিংবদন্তি পরিচালক ভারতীরাজার পরিচালনায় তৈরি এই ছবিতে শ্রীদেবীর সঙ্গে অভিনয় করেছিলেন কমল হাসান ও রজনীকান্ত।

‘১৬ বয়থিনিলে’ শুধু গল্প বা অভিনয়ের জন্যই নয়, তামিল সিনেমার নির্মাণশৈলীতেও গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন এনেছিল। স্টুডিওকেন্দ্রিক শুটিংয়ের বদলে আউটডোর লোকেশনকে গুরুত্ব দিয়ে ছবিটি তামিল চলচ্চিত্রের ভিজ্যুয়াল ভাষায় নতুন মাত্রা যোগ করেছিল। ছবির সাফল্যের সঙ্গে শ্রীদেবী, কমল হাসান ও রজনীকান্ত—তিন তারকার জনপ্রিয়তাও নতুন উচ্চতায় পৌঁছয়।

‘সোলোঁওয়া সাওয়ান’-এর হাত ধরে বলিউডে প্রবেশ
‘১৬ বয়থিনিলে’-এর সাফল্যের পর ১৯৭৯ সালে ভারতীরাজা ছবিটির হিন্দি সংস্করণ তৈরি করেন ‘সোলোঁওয়া সাওয়ান’ নামে। আর সেখানেই শ্রীদেবীকেই মূল চরিত্রে নেওয়া হয়। এই ছবির মাধ্যমেই হিন্দি সিনেমায় মুখ্য অভিনেত্রী হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেন তিনি। তবে মজার বিষয় হল, শুরুতে বলিউডে আসার ব্যাপারে মোটেই আগ্রহী ছিলেন না শ্রীদেবী। এমনকী ‘সোলোঁওয়া সাওয়ান’-এর প্রস্তাবও ফিরিয়ে দেওয়ার কথা ভেবেছিলেন তিনি।

কেন বলিউডে আসতে ভয় পেয়েছিলেন শ্রীদেবী?
এর পেছনে ছিল অভিনেত্রীর নিজের আশঙ্কা। জানা যায়, শ্রীদেবীর ভয় ছিল—বলিউডে এসে তিনি হয়তো অন্য অভিনেত্রীদের সঙ্গে প্রতিযোগিতায় টিকতে পারবেন না এবং সেই বিশাল ইন্ডাস্ট্রিতে হারিয়ে যাবেন। কিন্তু ভারতীরাজার উপর তাঁর ছিল গভীর আস্থা। পরিচালক নিজেই তাঁকে সাহস জোগান এবং ছবির ক্ষেত্রে যাবতীয় দায়িত্ব নিজের কাঁধে নেওয়ার আশ্বাস দেন। শেষ পর্যন্ত তাঁর কথাতেই রাজি হন শ্রীদেবী। আর সেই সিদ্ধান্তই পরবর্তীকালে ভারতীয় সিনেমার ইতিহাস বদলে দেয়।

ভারতীরাজার চোখে ‘অনন্য’ শ্রীদেবী
শ্রীদেবীর সঙ্গে খুব বেশি ছবিতে কাজ না করলেও অভিনেত্রীর প্রতিভার প্রতি ভারতীরাজার শ্রদ্ধা ছিল গভীর। তাঁর পরিচালনায় ‘১৬ বয়থিনিলে’-এর পাশাপাশি ১৯৭৮ সালের ‘সিগাপ্পু রোজাক্কাল’-এও অভিনয় করেছিলেন শ্রীদেবী। অভিনেত্রীর প্রয়াণের পর ভারতীরাজা তাঁর অভিনয়ক্ষমতার প্রশংসা করে বলেছিলেন, প্রাতিষ্ঠানিক পড়াশোনা বেশি দূর এগোয়নি ঠিকই, কিন্তু যে কোনও চরিত্রকে দ্রুত বুঝে নিয়ে অত্যন্ত স্বাভাবিকভাবে পর্দায় ফুটিয়ে তোলার অসাধারণ ক্ষমতা ছিল শ্রীদেবীর। তাঁর প্রাণখোলা হাসির কথাও বিশেষভাবে স্মরণ করেছিলেন পরিচালক।

শেষ পর্যন্ত বদলে গেল ইতিহাস
১৯৭৯ সালে ‘সোলোঁওয়া সাওয়ান’ মুক্তির পরই অবশ্য শ্রীদেবী রাতারাতি বলিউডের শীর্ষ নায়িকা হয়ে যাননি। তাঁর হিন্দি ছবির প্রকৃত সাফল্যের যুগ শুরু হয় আরও কয়েক বছর পরে। ১৯৮৩ সালে ‘হিম্মতওয়ালা’-র সাফল্যের পর হিন্দি বাণিজ্যিক সিনেমায় তাঁর জনপ্রিয়তা দ্রুত আকাশছোঁয়া হয়ে ওঠে। এরপর একের পর এক সফল ছবিতে অভিনয় করে শ্রীদেবী প্রমাণ করে দেন, বলিউডে তিনি হারিয়ে যাওয়ার জন্য আসেননি—বরং নিজের জায়গা তৈরি করতেই এসেছিলেন। যে ইন্ডাস্ট্রিতে প্রবেশ করতে একসময় ভয় পেয়েছিলেন, শেষ পর্যন্ত সেখানেই তিনি হয়ে উঠেছিলেন এক যুগের অন্যতম জনপ্রিয় এবং প্রভাবশালী অভিনেত্রী।

শ্রীদেবীর বলিউড যাত্রার শুরু তাই শুধু একটি ছবির গল্প নয়। এর সঙ্গে জড়িয়ে রয়েছে একজন পরিচালকের বিশ্বাস, একজন অভিনেত্রীর দ্বিধা এবং শেষ পর্যন্ত সেই দ্বিধাকে জয় করে ভারতীয় সিনেমার ইতিহাসে নিজের নাম চিরস্থায়ী করে নেওয়ার কাহিনি।

শুধু হজম শক্তি বাড়িয়ে দেয় না, জোয়ান খেলে শরীরের অনেক সমস্যা নিবারণ হয় মুখরোচক বাদাম চিক্কি খেতে দারুন, বাড়িতেই তৈরী হবে, জানুন রেসিপি এইভাবে তেজপাতা পোড়ালে দুশ্চিন্তা কেটে যাবে 5 Best Night Creams ৪ মাসের শিশু ২৪০ কোটির মালিক