মানবতাবিরোধী অপরাধ, পূর্বপরিকল্পিত হত্যা ও নির্যাতনের অভিযোগে সিরিয়ার ক্ষমতাচ্যুত প্রেসিডেন্ট বাশার আল-আসাদকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছে দামাস্কাসের একটি ফৌজদারি আদালত। দীর্ঘ বিচারপ্রক্রিয়া শেষে এই রায় ঘোষণা করা হয়েছে। একই মামলায় আসাদের আত্মীয় আতেফ নাজিবকেও মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়েছে।
২০০০ সালে সিরিয়ার প্রেসিডেন্টের দায়িত্ব নেন বাশার আল-আসাদ। তাঁর আগে দীর্ঘদিন দেশটির ক্ষমতায় ছিলেন তাঁর বাবা হাফেজ আল-আসাদ। ২০১১ সালে বাশার সরকারের বিরুদ্ধে গণআন্দোলন ও বিদ্রোহ শুরু হলে তা ক্রমে গৃহযুদ্ধে রূপ নেয়। দীর্ঘ ১৩ বছরের সংঘাতের পর ২০২৪ সালের ডিসেম্বরে আসাদ সরকারের পতন ঘটে।
বিদ্রোহী গোষ্ঠী হায়াত তাহরির আল-শাম (এইচটিএস)-এর নেতৃত্বে অভিযান শুরু হওয়ার পর দ্রুত সিরিয়ার একাধিক শহর বিদ্রোহীদের নিয়ন্ত্রণে চলে যায়। শেষ পর্যন্ত দামাস্কাসেও প্রবেশ করে বিদ্রোহীরা। রাজধানীর পতনের আগেই সপরিবার দেশ ছেড়ে রাশিয়ায় চলে যান বাশার আল-আসাদ। বর্তমানে তিনি রাশিয়াতেই রয়েছেন বলে জানা যায়।
আসাদ সরকারের বিরুদ্ধে গৃহযুদ্ধ চলাকালীন হত্যা, নির্যাতন, বেআইনিভাবে মানুষকে আটক এবং বিভিন্ন মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগ ওঠে। সরকারি বাহিনীর বিরুদ্ধে রাসায়নিক অস্ত্র ব্যবহারের অভিযোগও ছিল। ২০১৩ সালের রাসায়নিক হামলার ঘটনায় আসাদের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারির কথাও উল্লেখ করা হয়েছে।
আদালতের রায়ে আসাদকে মানবতাবিরোধী অপরাধে দায়ী করা হয়েছে। একই সঙ্গে আতেফ নাজিবকে পূর্বপরিকল্পিত হত্যা ও নির্যাতনের অভিযোগে দোষী সাব্যস্ত করে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়েছে। বিচারপ্রক্রিয়ার সময় নাজিব আদালতে সশরীরে উপস্থিত ছিলেন।
সিরিয়ার দীর্ঘ গৃহযুদ্ধের পর ক্ষমতার পালাবদলের প্রেক্ষাপটে এই রায়কে আসাদ আমলের বিরুদ্ধে বিচারপ্রক্রিয়ার একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে।

Hello friends, Myself Biplab. I have been writing horoscopes since 2019. Since 2022, I have also been writing about entertainment, lifestyle, and trending news.