আবিষ্কার হল নতুন ‘রং’! ছাপা যাবে না, তবু দেখা যাবে: ‘Olo’ নিয়ে বিজ্ঞানের নতুন চমক

রঙের জগতে বিজ্ঞানীরা এমন এক অভিজ্ঞতার সন্ধান পেয়েছেন, যা প্রচলিত রঙের ধারণাকেই নতুন করে ভাবতে বাধ্য করছে। নাম ‘Olo’ (ওলো)। এটি সাধারণ কোনো পিগমেন্ট, রং বা কালি নয়; বরং বিশেষ আলোক-প্রযুক্তির মাধ্যমে মানুষের চোখে তৈরি করা এক অস্বাভাবিক রঙের অনুভূতি। লাল, নীল, সবুজ বা হলুদের মতো প্রচলিত রং আমরা বস্তু থেকে প্রতিফলিত আলো বা রঞ্জকের মাধ্যমে দেখি। কিন্তু Olo-এর ক্ষেত্রে বিষয়টি অনেকটাই আলাদা।

Olo আসলে কী?

Olo-কে সাধারণ অর্থে কোনো রাসায়নিক রং বলা যায় না। এটি বিশেষ ধরনের আলোক-ভিত্তিক রঙের অনুভূতি, যা নির্দিষ্ট তরঙ্গদৈর্ঘ্যের আলোকে অত্যন্ত নিয়ন্ত্রিত উপায়ে চোখের নির্দিষ্ট রঙ-সংবেদী কোষে পৌঁছানোর মাধ্যমে তৈরি করা হয়। প্রকৃতিতে ময়ূরের পালক, প্রজাপতির ডানা কিংবা কিছু সামুদ্রিক প্রাণীর খোলসে যে ঝলমলে রঙ দেখা যায়, তার পেছনে থাকে ক্ষুদ্রাতিক্ষুদ্র ভৌত কাঠামো। একে বলা হয় structural color। তবে Olo-এর ধারণা আরও ভিন্ন—এখানে মূল লক্ষ্য হলো প্রচলিত দৃশ্যমান বর্ণালির বাইরে গিয়ে মানুষের রঙ দেখার ব্যবস্থাকে অত্যন্ত নির্দিষ্টভাবে উদ্দীপিত করা।

কেন Olo ছাপানো যায় না?

এখানেই Olo-এর সবচেয়ে আকর্ষণীয় বৈশিষ্ট্য।
প্রিন্টারে ব্যবহৃত CMYK কালি বা পিগমেন্ট বিভিন্ন তরঙ্গদৈর্ঘ্যের আলো শোষণ ও প্রতিফলনের মাধ্যমে রঙ তৈরি করে। অর্থাৎ কাগজে রঙের একটি বস্তুগত স্তর তৈরি হয়। কিন্তু Olo কোনো পিগমেন্টের রং নয়। ফলে সাধারণ কাগজে Olo-এর একটি নমুনা ছাপিয়ে রাখা সম্ভব নয়। শুধু ন্যানো-স্ট্রাকচার বা বিশেষ কোটিং ব্যবহার করলেও সেটি নিজে থেকেই Olo তৈরি করবে—এমন নয়; প্রয়োজন অত্যন্ত নিয়ন্ত্রিত আলোক-ব্যবস্থা। অর্থাৎ Olo-এর ‘রং’কে কাগজে রেখে দেওয়া যায় না; বরং নির্দিষ্ট পরিস্থিতিতে আলো ও চোখের মিথস্ক্রিয়ার মাধ্যমে তা দেখতে হয়।

খালি চোখে Olo দেখা যায় কীভাবে?

Olo দেখার জন্য বিশেষায়িত অপটিক্যাল প্রযুক্তি প্রয়োজন। গবেষণামূলক ব্যবস্থায় অত্যন্ত নিয়ন্ত্রিত লেজার আলো এবং অপটিক্যাল উপাদান ব্যবহার করে চোখের রেটিনার নির্দিষ্ট cone cell-গুলোকে এমনভাবে উদ্দীপিত করা হয়, যাতে স্বাভাবিক রঙের অভিজ্ঞতার তুলনায় সম্পূর্ণ ভিন্ন একটি রঙের অনুভূতি তৈরি হয়।

এ কারণে Olo কোনো সাধারণ স্ক্রিন, প্রিন্টার বা রঙের বোতলে পাওয়া যাবে না। বিশেষ পরীক্ষামূলক যন্ত্রের মাধ্যমে সীমিত পরিস্থিতিতে এটি সরাসরি পর্যবেক্ষণ করা সম্ভব।

Olo কি ভবিষ্যতের রঙের জগৎ বদলে দিতে পারে?

Olo-এর গুরুত্ব শুধু একটি ‘নতুন রং’ আবিষ্কারে সীমাবদ্ধ নয়। এটি মানুষের দৃষ্টিশক্তি, রঙের উপলব্ধি এবং আলোক-প্রযুক্তি সম্পর্কে নতুন প্রশ্ন সামনে আনছে।

ভবিষ্যতে এই ধরনের গবেষণা উন্নত ডিসপ্লে প্রযুক্তি, ভার্চুয়াল ও অগমেন্টেড রিয়্যালিটি, অপটিক্যাল গবেষণা এবং ভিজ্যুয়াল আর্টে নতুন সম্ভাবনার পথ খুলে দিতে পারে।

তবে একটি বিষয় মনে রাখা জরুরি—Olo প্রচলিত অর্থে নতুন কোনো পেইন্ট বা পিগমেন্ট নয়। এটি মূলত মানুষের চোখে একটি বিশেষ রঙের অনুভূতি তৈরি করার বৈজ্ঞানিক কৌশল।

রঙের সংজ্ঞাই যখন বদলে যায়
হাজার বছরের পরিচিত রঙের জগত আমাদের শিখিয়েছে যে রং মানেই কোনো বস্তু, পিগমেন্ট বা আলো থেকে পাওয়া দৃশ্যমান বৈশিষ্ট্য। Olo সেই ধারণার সামনে নতুন একটি প্রশ্ন রাখে—
আমরা যে রং দেখি, সেটি কি সত্যিই বস্তুর মধ্যে থাকে, নাকি শেষ পর্যন্ত তা আমাদের চোখ ও মস্তিষ্কের তৈরি একটি অনুভূতি? Olo-এর গবেষণা সেই প্রশ্নের উত্তর খোঁজার পথে বিজ্ঞানের জন্য এক চমকপ্রদ নতুন অধ্যায় খুলে দিয়েছে।

শুধু হজম শক্তি বাড়িয়ে দেয় না, জোয়ান খেলে শরীরের অনেক সমস্যা নিবারণ হয় মুখরোচক বাদাম চিক্কি খেতে দারুন, বাড়িতেই তৈরী হবে, জানুন রেসিপি এইভাবে তেজপাতা পোড়ালে দুশ্চিন্তা কেটে যাবে 5 Best Night Creams ৪ মাসের শিশু ২৪০ কোটির মালিক