বলিউড অভিনেত্রী Janhvi Kapoor বর্তমানে দক্ষিণী সিনেমার অন্যতম প্রতীক্ষিত প্রকল্প Peddi-এর মুক্তির অপেক্ষায় রয়েছেন। এরই মধ্যে এক সাক্ষাৎকারে তিনি নিজের ব্যক্তিগত জীবন, অভিনয়জীবন এবং পরিবারের মূল্যবোধ নিয়ে কথা বলতে গিয়ে স্মরণ করেছেন তাঁর মা, কিংবদন্তি অভিনেত্রী Sridevi-কে। সেই স্মৃতিচারণে উঠে এসেছে এক সুপারস্টারের আড়ালে থাকা স্নেহময়ী মা, দায়িত্বশীল স্ত্রী এবং অসাধারণ একজন মানুষের প্রতিচ্ছবি।
জানভির কথায়, ছোটবেলার অনেকটা সময় তিনি বুঝতেই পারেননি তাঁর মা ভারতীয় চলচ্চিত্রজগতের কত বড় তারকা ছিলেন। পরিবারের ভেতরে শ্রীদেবী ছিলেন অত্যন্ত সাধারণ, সংযত এবং লাজুক স্বভাবের মানুষ। কিন্তু কাজের ক্ষেত্রে তাঁর নিষ্ঠা ছিল অসাধারণ। খুব অল্প বয়সেই অভিনয়জীবন শুরু করা শ্রীদেবী সাফল্যের শিখরে পৌঁছেও একসময় পরিবারকে অগ্রাধিকার দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেন। নিজের ব্যস্ত ক্যারিয়ার থেকে দূরে সরে গিয়ে তিনি সংসার, স্বামী এবং দুই মেয়ের দেখভালে মনোযোগী হন।
জানভি মনে করেন, তাঁর মায়ের সবচেয়ে বড় শক্তি ছিল যে দায়িত্বই তিনি গ্রহণ করতেন, তা সম্পূর্ণ আন্তরিকতার সঙ্গে পালন করতেন। অভিনয় হোক কিংবা পরিবার—প্রতিটি ক্ষেত্রেই তিনি নিজের সর্বস্ব উজাড় করে দিতেন। সন্তানদের বড় করে তোলার পর তিনি আবার অভিনয়ে ফিরলেও, ততদিনে একজন আদর্শ মা হিসেবে নিজের দায়িত্ব নিখুঁতভাবে পালন করেছিলেন।
মায়ের জীবনের একটি স্মৃতি জানভির মনে আজও স্পষ্ট। একটি ছবির শুটিংয়ের কারণে পরিবারের গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্তে উপস্থিত থাকতে না পারায় শ্রীদেবী ভীষণ আবেগপ্রবণ হয়ে পড়েছিলেন। কাজের প্রয়োজনে দূরে থাকলেও পরিবারের প্রতি তাঁর টান এবং ভালোবাসা ছিল গভীর। এই ঘটনাই প্রমাণ করে, জনপ্রিয়তার শীর্ষে থাকা একজন শিল্পীর মধ্যেও কতটা মানবিকতা এবং পারিবারিক বন্ধন কাজ করতে পারে।
জানভি আরও জানান, আলোচিত তারকা হওয়ার পরও শ্রীদেবী ঘরোয়া জীবনকে সমান গুরুত্ব দিতেন। পরিবারের সদস্যদের জন্য নিজের হাতে রান্না করা, স্বামীর প্রয়োজনের খেয়াল রাখা কিংবা সন্তানদের সঙ্গে সময় কাটানো—এসব সাধারণ কাজেই তিনি আনন্দ খুঁজে পেতেন। খ্যাতি ও ব্যক্তিগত জীবনের মধ্যে ভারসাম্য রক্ষার এই ক্ষমতাই তাঁকে অন্যদের থেকে আলাদা করেছে।
সম্প্রতি অভিনেতা Ram Charan-এর সঙ্গে কাজ করার অভিজ্ঞতা নিয়েও কথা বলেন জানভি। তাঁর মতে, রাম চরণের বাবা Chiranjeevi এবং শ্রীদেবীর মধ্যে কর্মনিষ্ঠা, শৃঙ্খলা ও পেশাদারিত্বের ক্ষেত্রে অনেক মিল রয়েছে। এই গুণগুলোই তাঁদের দীর্ঘ সময় ধরে দর্শকের ভালোবাসার কেন্দ্রবিন্দুতে রেখেছে।
মায়ের কাছ থেকে পাওয়া সবচেয়ে মূল্যবান শিক্ষার কথাও শেয়ার করেন জানভি। তিনি জানান, শ্রীদেবী তাঁকে শিখিয়েছিলেন যে অভিনয়ে সত্যিকারের আবেগ প্রকাশ করতে হলে প্রথমে একজন ভালো মানুষ হতে হবে। কারণ ক্যামেরার সামনে কৃত্রিমতা বেশিক্ষণ টেকে না; মানুষের ভেতরের সত্যিকারের অনুভূতিই শেষ পর্যন্ত পর্দায় ফুটে ওঠে।
তবে মায়ের সঙ্গে নিজের তুলনা করতে নারাজ জানভি। তাঁর মতে, শ্রীদেবী ছিলেন এক ও অদ্বিতীয় ব্যক্তিত্ব। সেই উচ্চতায় পৌঁছানো সম্ভব নয়। বরং তিনি চান মায়ের তৈরি করা উত্তরাধিকারকে সম্মান জানিয়ে নিজের স্বতন্ত্র পরিচয় গড়ে তুলতে।
মায়ের প্রয়াণের বহু বছর পরও সেই শূন্যতা তাঁকে তাড়িয়ে বেড়ায়। জানভির ভাষ্য, অনেক সময় তিনি এমন স্বপ্ন দেখেন যেখানে মনে হয় তাঁর মা আবার ফিরে আসবেন। বাস্তবতা ভিন্ন হলেও সেই অনুভূতি তাঁকে মায়ের স্মৃতির আরও কাছাকাছি নিয়ে যায়।
তিনি বিশ্বাস করেন, জীবনের কিছু বিশেষ মুহূর্তে এখনও মায়ের উপস্থিতি অনুভব করা যায়। বিশেষ করে ক্যামেরার সামনে দাঁড়ালে কিংবা তিরুপতিতে গেলে তাঁর মনে হয়, কোথাও না কোথাও শ্রীদেবীর আশীর্বাদ এবং স্নেহ এখনও তাঁকে ঘিরে রয়েছে।
২০১৮ সালের ফেব্রুয়ারিতে দুবাইয়ে শ্রীদেবীর আকস্মিক মৃত্যু ভারতীয় চলচ্চিত্রজগতকে শোকাহত করেছিল। তবে সময়ের সঙ্গে তাঁর স্মৃতি মুছে যায়নি। বরং তাঁর কাজ, জীবনদর্শন এবং পারিবারিক মূল্যবোধ আজও নতুন প্রজন্মের কাছে অনুপ্রেরণার উৎস। আর জানভি কাপুরের জীবনে সেই প্রভাব এখনও সমানভাবে শক্তিশালী ও জীবন্ত।

Hello, I am BB. I have been working in blogging for more than five years.