দীর্ঘদিনের শিল্পখরা কাটিয়ে বাংলায় ফের বড় বিনিয়োগের সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। রাজ্যে একাধিক নতুন শিল্প প্রকল্পের ঘোষণা করেছে সরকার। সোমবার নবান্নে সাংবাদিক বৈঠকে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী জানান, আগামী কয়েক মাসের মধ্যেই বাংলায় একাধিক বড় প্রকল্পের কাজ এগিয়ে যেতে পারে। এর মধ্যে রয়েছে লারসেন অ্যান্ড ট্রুব্রো বা এলঅ্যান্ডটির নতুন প্রকল্প এবং হলদিয়া পেট্রোকেমিক্যালসের নতুন প্ল্যান্ট। এই দুই প্রকল্প ঘিরে প্রায় ৬ হাজার কোটি টাকার বিনিয়োগ আসতে পারে বলে দাবি করা হয়েছে।
মুখ্যমন্ত্রীর বক্তব্য অনুযায়ী, আগামী ২৭ তারিখ সিলিকন ভ্যালিতে এলঅ্যান্ডটির একটি নতুন প্রকল্পের উদ্বোধন হতে পারে। এর পর পুজোর মরসুমে আরও একটি বড় শিল্প প্রকল্প চালু করার পরিকল্পনা রয়েছে। হলদিয়ায় হলদিয়া পেট্রোকেমিক্যালসের নতুন প্ল্যান্টের উদ্বোধন আগামী ১৪ অক্টোবর হতে পারে বলেও জানান তিনি। এই প্রকল্প নিয়ে শিল্পপতি পূর্ণেন্দু চট্টোপাধ্যায়ের সঙ্গে তাঁর আলোচনা হয়েছে বলে জানান মুখ্যমন্ত্রী। তাঁর দাবি, পুজোর আগেই এই দুই প্রকল্পের উদ্বোধন হলে বাংলার শিল্পক্ষেত্রে ইতিবাচক বার্তা যাবে। নতুন বিনিয়োগের হাত ধরে শিল্প পরিকাঠামোর উন্নতির পাশাপাশি কর্মসংস্থানের সুযোগও বাড়বে বলে আশা করছে রাজ্য সরকার।
দীর্ঘদিন ধরেই বাংলায় শিল্প ও বিনিয়োগের ঘাটতি নিয়ে আলোচনা হয়েছে। সেই পরিস্থিতিতে নতুন প্রকল্পগুলিকে সামনে রেখে রাজ্য সরকার শিল্পবান্ধব পরিবেশের বার্তা দিতে চাইছে। বড় সংস্থাগুলিকে বিনিয়োগে উৎসাহিত করার পাশাপাশি প্রকল্প দ্রুত বাস্তবায়নের উপরও জোর দেওয়া হচ্ছে। শুধু শিল্প নয়, স্বাস্থ্যক্ষেত্রেও বড় বিনিয়োগের ঘোষণা করা হয়েছে। নিউ টাউনে প্রায় ২ হাজার শয্যার অত্যাধুনিক হাসপাতাল তৈরি করবে আদানি গোষ্ঠী। এই প্রকল্পে রাজ্য সরকারের লিখিত সম্মতি ইতিমধ্যেই দেওয়া হয়েছে বলে জানান মুখ্যমন্ত্রী।
আরও পড়ুন,
Gold Price: মঙ্গলবার কমল সোনার দাম, কলকাতা-সহ কোন শহরে কত দামে বিক্রি হচ্ছে?
জানা গিয়েছে, আদানি গোষ্ঠীর কর্ণধার করণ আদানি মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে দেখা করে হাসপাতাল তৈরির বিষয়ে আলোচনা করেছেন। সংস্থার তরফে দ্রুত কাজ শুরু করার আগ্রহ প্রকাশ করা হয়েছে। হাসপাতাল তৈরির জন্য সম্পূর্ণ বিনিয়োগই আদানি গোষ্ঠী করবে বলে দাবি করা হয়েছে। এই হাসপাতালের অন্যতম বড় বৈশিষ্ট্য হতে চলেছে বিনামূল্যে চিকিৎসার ব্যবস্থা। মোট ২ হাজার শয্যার মধ্যে ১ হাজার শয্যা আর্থিকভাবে দুর্বল ও দরিদ্র মানুষের জন্য বিনামূল্যে রাখা হবে। বাকি ১ হাজার শয্যায় বাণিজ্যিক পরিষেবা দেওয়া হবে। আধুনিক চিকিৎসা প্রযুক্তি এবং উন্নত পরিকাঠামোও থাকবে এই হাসপাতালে।
সরকারের আশা, নিউ টাউনে এই হাসপাতাল তৈরি হলে কলকাতার পাশাপাশি আশপাশের জেলার মানুষও উন্নত চিকিৎসার সুবিধা পাবেন। একইসঙ্গে হাসপাতালকে কেন্দ্র করে স্বাস্থ্যক্ষেত্রে পরোক্ষ ও প্রত্যক্ষ কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি হতে পারে।
সব মিলিয়ে শিল্প এবং স্বাস্থ্য—দুই ক্ষেত্রেই বড় বিনিয়োগের বার্তা দিয়েছে রাজ্য সরকার। এলঅ্যান্ডটির প্রকল্প, হলদিয়া পেট্রোকেমিক্যালসের নতুন প্ল্যান্ট এবং নিউ টাউনে আদানি গোষ্ঠীর হাসপাতাল—এই তিন প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে বাংলার শিল্প, স্বাস্থ্য পরিকাঠামো এবং কর্মসংস্থানে ইতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে বলে মনে করা হচ্ছে। তবে ঘোষণার পর প্রকল্পগুলির কাজ কত দ্রুত বাস্তবায়নের পর্যায়ে পৌঁছয়, এখন সেটাই দেখার।

Hello friends, Myself Biplab. I have been writing horoscopes since 2019. Since 2022, I have also been writing about entertainment, lifestyle, and trending news.