ঘুমের সমস্যা বা খিটখিটে মেজাজই নয়, রজোনিবৃত্তির সময়ে দেখা দিতে পারে এই অজানা উপসর্গগুলিও

নারীদের জীবনে রজোনিবৃত্তি (মেনোপজ) একটি স্বাভাবিক শারীরবৃত্তীয় পরিবর্তন। সাধারণত ৪৫ থেকে ৫০ বছরের মধ্যে ঋতুচক্র স্থায়ীভাবে বন্ধ হওয়ার সঙ্গে শরীরে নানা ধরনের হরমোনগত পরিবর্তন ঘটে। এই সময়ে খিটখিটে মেজাজ, হট ফ্ল্যাশ, অনিদ্রা বা অস্থিসন্ধির ব্যথার মতো সমস্যা অনেকেরই হয়। তবে চিকিৎসকদের মতে, এর বাইরেও এমন কিছু উপসর্গ দেখা দিতে পারে, যেগুলি অনেকেই রজোনিবৃত্তির সঙ্গে সম্পর্কিত বলে বুঝতে পারেন না।

রজোনিবৃত্তির সময়ে কী কী অজানা উপসর্গ দেখা দিতে পারে?

ইস্ট্রোজেন হরমোনের মাত্রা কমে যাওয়ার ফলে শরীরের বিভিন্ন অঙ্গ ও স্নায়ুতন্ত্রের উপর প্রভাব পড়ে। এর ফলে অনেক মহিলার মধ্যে দেখা দিতে পারে—
*পায়ে ঝিঁঝিঁ ধরা বা অবশ অনুভূতি
*বারবার মাথা ঘোরা
*স্মৃতিশক্তি দুর্বল হয়ে যাওয়া
*কাজে মনোযোগ ধরে রাখতে অসুবিধা
*শরীরের ভারসাম্য বজায় রাখতে সমস্যা
*হাঁটার সময় বা হঠাৎ পড়ে যাওয়ার আশঙ্কা
*পেশিশক্তি কমে যাওয়া
*উদ্বেগ ও অবসাদ
*বুক ধড়ফড় করা
*সিঁড়ি ওঠানামার সময় আত্মবিশ্বাসের অভাব
*আচমকা কান বা মাথায় ভোঁ ভোঁ শব্দ হওয়া
*তীব্র মাথাব্যথা

কেন হয় এই সমস্যাগুলি?

বিশেষজ্ঞদের মতে, রজোনিবৃত্তির সময়ে ইস্ট্রোজেন হরমোন কমতে থাকলে শরীরের ভারসাম্য রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালনকারী অন্তঃকর্ণ, পেশি, অস্থিসন্ধি এবং কেন্দ্রীয় স্নায়ুতন্ত্রের কার্যক্ষমতায় প্রভাব পড়ে। এর ফলে মস্তিষ্ক ও শরীরের সমন্বয়ে সমস্যা তৈরি হতে পারে। পাশাপাশি পেশিক্ষয়, ক্লান্তি, উদ্বেগ ও মানসিক অবসাদও দেখা দিতে পারে।

কোন উপসর্গকে গুরুত্ব দেওয়া উচিত?

হট ফ্ল্যাশ বা মাঝেমধ্যে মাথা ঘোরা অনেক সময় স্বাভাবিক হতে পারে। তবে নিচের উপসর্গগুলি দীর্ঘদিন ধরে চলতে থাকলে অবশ্যই চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত—
*নিয়মিত বা তীব্র মাথা ঘোরা
*শরীরের ভারসাম্য বজায় রাখতে সমস্যা
*ঘুমের সমস্যা ক্রমশ বাড়তে থাকা
*বারবার তীব্র মাথাব্যথা
*কানে কম শোনা বা অস্বাভাবিক শব্দ হওয়া
স্মৃতিশক্তি বা মনোযোগের সমস্যা দীর্ঘস্থায়ী হওয়া
*স্নায়ুজনিত উপসর্গ ক্রমাগত বাড়তে থাকা

Lifestyle: সাতসকালেই বুক টনটন করছে? হার্ট অ্যাটাকের আগে শরীরের এই ৫ সতর্কবার্তা কখনও অবহেলা করবেন না

কী করবেন?

রজোনিবৃত্তির সময়ে শরীরে নানা পরিবর্তন হওয়া স্বাভাবিক। তবে সব উপসর্গকে অবহেলা করা উচিত নয়। যদি হরমোনের পরিবর্তনের প্রভাব দৈনন্দিন জীবনযাত্রায় বাধা সৃষ্টি করে বা উপসর্গ দীর্ঘদিন ধরে স্থায়ী হয়, তাহলে দ্রুত স্ত্রীরোগ বিশেষজ্ঞ বা সংশ্লিষ্ট চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া প্রয়োজন। সময়মতো চিকিৎসা ও জীবনযাপনে প্রয়োজনীয় পরিবর্তন আনলে এই সময়টিকে অনেকটাই স্বাভাবিক ও স্বস্তিদায়ক করে তোলা সম্ভব।

শুধু হজম শক্তি বাড়িয়ে দেয় না, জোয়ান খেলে শরীরের অনেক সমস্যা নিবারণ হয় মুখরোচক বাদাম চিক্কি খেতে দারুন, বাড়িতেই তৈরী হবে, জানুন রেসিপি এইভাবে তেজপাতা পোড়ালে দুশ্চিন্তা কেটে যাবে 5 Best Night Creams ৪ মাসের শিশু ২৪০ কোটির মালিক