হিন্দি টেলিভিশনের অন্যতম জনপ্রিয় মুখ রাম কপূর। ‘বড়ে অচ্ছি লগতে হ্যায়’-এর রাম কপূর চরিত্র তাঁকে দর্শকের ঘরের মানুষ করে তুলেছিল। পর্দায় স্ত্রীকে ভালবাসা, সংসারকে আগলে রাখা, অভিমান-রাগের পরেও সম্পর্ককে আঁকড়ে ধরে থাকা—সব মিলিয়ে আদর্শ স্বামীর প্রতিচ্ছবি হয়ে উঠেছিলেন তিনি। কিন্তু বাস্তব জীবনের রাম কপূরের গল্প যে এতটা সরল নয়, তা তাঁর সাম্প্রতিক কিছু বক্তব্য এবং তাঁকে ঘিরে তৈরি হওয়া বিতর্ক থেকেই স্পষ্ট।
১ সেপ্টেম্বর জন্মদিন অভিনেতার। ৫৩ বছরে পা দিলেন তিনি। জন্মদিনের আগে ফের আলোচনায় উঠে এসেছে তাঁর ব্যক্তিগত জীবন। বিয়ের আগের একাধিক সম্পর্ক থেকে শুরু করে দাম্পত্য, বিবাহবহির্ভূত সম্পর্ক নিয়ে মন্তব্য এবং এক সহ-অভিনেত্রীর গুরুতর অভিযোগ—সব মিলিয়ে রামের ব্যক্তিজীবনও যেন কোনও চিত্রনাট্যের চেয়ে কম নাটকীয় নয়। গৌতমী কপূরের সঙ্গে দীর্ঘদিনের দাম্পত্য রাম কপূরের। তাঁদের দুই সন্তানও রয়েছে। তবে বিয়ের আগের জীবন নিয়ে কখনও বিশেষ রাখঢাক করেননি অভিনেতা। সম্প্রতি এক রিয়্যালিটি শোয়ের মঞ্চে নিজের অতীত সম্পর্কের প্রসঙ্গে খোলামেলা কথা বলেন তিনি।
রাম জানান, বিয়ের আগে তাঁর জীবনে একাধিক সম্পর্ক ছিল। নিজের সেই সময়ের জীবনকে ‘প্লেবয়’-এর সঙ্গেও তুলনা করেন অভিনেতা। তাঁর এই মন্তব্য প্রকাশ্যে আসতেই স্বাভাবিক ভাবেই প্রশ্ন ওঠে—পর্দায় যাঁকে এতদিন আদর্শ প্রেমিক কিংবা স্বামীর চরিত্রে দেখা গিয়েছে, বাস্তবে তাঁর জীবন কি একেবারেই অন্য রকম? রামের বক্তব্য থেকেই অবশ্য স্পষ্ট, তিনি পর্দার চরিত্র এবং ব্যক্তিগত জীবনকে সম্পূর্ণ আলাদা করে দেখেন।
আরও পড়ুন,
দ্বিতীয় বিয়েতেও মিলল না সুখ! ছ’মাসের আগেই ভাঙল বাদশা ও ইশার দাম্পত্য
রাম কপূরকে ঘিরে বিতর্ক আরও বাড়ে বিয়ে এবং বিবাহবহির্ভূত সম্পর্ক নিয়ে তাঁর মন্তব্যকে কেন্দ্র করে। তাঁর বক্তব্যের সারমর্ম ছিল, কোনও সম্পর্কে বিশ্বাসভঙ্গ বা পরকীয়া ঘটলেই যে সম্পর্ক শেষ করে দিতে হবে, এমন কোনও সহজ নিয়ম নেই। অভিনেতার মতে, সম্পর্কে ভালবাসা থাকলে কঠিন পরিস্থিতি সামলে নেওয়ার চেষ্টা করা যেতে পারে। তাঁর এই মতামত সমাজমাধ্যমে মিশ্র প্রতিক্রিয়া তৈরি করে। কেউ তাঁর বক্তব্যের সমালোচনা করেন, আবার কেউ মনে করেন, নিজের ব্যক্তিগত মত প্রকাশের অধিকার প্রত্যেকেরই রয়েছে।
আরও পড়ুন,
খালি গায়ে ছিপছিপে পেশিবহুল ছবি দিয়ে স্ত্রীর রোষে মাধবন! কেন এমন ছবি পোস্ট করেন অভিনেতা?
এই বিতর্কের মাঝেও রামের পাশে দাঁড়িয়েছেন স্ত্রী গৌতমী কপূর। দীর্ঘ দুই দশকেরও বেশি সময় ধরে তাঁদের দাম্পত্য। স্বামীকে ঘিরে প্রকাশ্য বিতর্ক তৈরি হলেও গৌতমীর সমর্থন রামকে স্বস্তি দিয়েছে বলেই মনে করা হয়। তাঁদের সম্পর্ক নিয়ে নানা প্রশ্ন উঠলেও প্রকাশ্যে বারবারই বোঝা গিয়েছে, তাঁদের দাম্পত্যের সমীকরণ অনেকটাই ব্যক্তিগত এবং বাইরের আলোচনা দিয়ে সেই সম্পর্ককে বিচার করা সহজ নয়।
দাম্পত্য নিয়ে বিতর্কের রেশ কাটতে না কাটতেই রিয়্যালিটি শোকে কেন্দ্র করে রামের বিরুদ্ধে আরও একটি অভিযোগ সামনে আসে। অভিনেত্রী শ্রেয়া কালরা রামের বিরুদ্ধে তাঁর ব্যক্তিগত সীমারেখা অস্বস্তিকর ভাবে লঙ্ঘনের অভিযোগ তোলেন। ঘটনাটি প্রকাশ্যে আসার পর নেটমাধ্যমে শুরু হয় তীব্র আলোচনা। রামের স্ত্রী ফের তাঁর পাশে দাঁড়ান। অন্যদিকে, রামও অভিযোগ অস্বীকার করেন। অভিনেতার দাবি, দীর্ঘ কেরিয়ারে কোনও মহিলা সহকর্মী এর আগে তাঁর বিরুদ্ধে এমন অভিযোগ করেননি।
অভিযোগটি অবশ্য রামের ভাবমূর্তি নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন তুলে দেয়। কারণ, দর্শকের কাছে এতদিন যে রাম কপূর ছিলেন ‘ভাল মানুষ’ এবং আদর্শ স্বামীর প্রতীক, বাস্তব জীবনে তাঁকে ঘিরে তৈরি হওয়া বিতর্ক সেই ছবির সঙ্গে ক্রমশ বৈপরীত্য তৈরি করেছে। তবে রাম কপূরের জীবনকে শুধুমাত্র বিতর্ক দিয়ে বিচার করলে তাঁর গল্প অসম্পূর্ণ থেকে যাবে। কেরিয়ারের একটা সময় নিজের শরীর এবং মানসিক স্বাস্থ্যের সঙ্গেও কঠিন লড়াই করতে হয়েছে তাঁকে।
টেলিভিশনে জনপ্রিয়তার শীর্ষে থাকার সময় কাজের চাপ ছিল প্রবল। দীর্ঘ সময় শুটিং এবং অনিয়মিত জীবনযাপনের কারণে তাঁর ওজন দ্রুত বাড়তে থাকে। একটা সময় প্রায় ১৪০ কেজি ওজন হয়েছিল অভিনেতার। এর পাশাপাশি অবসাদ এবং মদ্যপানের সমস্যাতেও ভুগেছিলেন তিনি। পরবর্তীতে নিজেই জানিয়েছেন, এমন সময়ও গিয়েছে যখন কাজের জায়গাতেও মদ্যপানের অভ্যাস তৈরি হয়েছিল। তবে সময়ের সঙ্গে নিজের জীবনযাত্রায় পরিবর্তন আনেন রাম। ধীরে ধীরে শরীর ও জীবনের উপর নিয়ন্ত্রণ ফিরিয়ে আনার চেষ্টা করেন তিনি।
রাম কপূরের জীবন তাই একাধিক স্তরে তৈরি। একদিকে ‘বড়ে অচ্ছি লগতে হ্যায়’-এর আদর্শ স্বামী, অন্যদিকে ব্যক্তিগত জীবনের নানা সম্পর্ক, বিতর্কিত মন্তব্য এবং অভিযোগ। তার সঙ্গে রয়েছে ওজন বৃদ্ধি, অবসাদ এবং মদ্যপানের বিরুদ্ধে তাঁর নিজের লড়াই। তবে পর্দার চরিত্র আর বাস্তবের মানুষ যে এক নয়, রাম কপূরের জীবন যেন তারই বড় উদাহরণ। ৫৩ বছরের জন্মদিনে তাঁকে ঘিরে যত বিতর্কই থাকুক, অভিনয়জীবনে তাঁর দীর্ঘ সাফল্য এবং ব্যক্তিগত জীবনের নানা ওঠাপড়া—দুই মিলিয়েই তৈরি হয়েছে এই অভিনেতার আলাদা পরিচয়।

Hello friends, Myself Biplab. I have been writing horoscopes since 2019. Since 2022, I have also been writing about entertainment, lifestyle, and trending news.