দেশজুড়ে তীব্র গরমে নাজেহাল পরিস্থিতি। দুপুরের রোদ যেন আগুন ঝরাচ্ছে। চিকিৎসকেরা বারবার সতর্ক করছেন, প্রয়োজন ছাড়া রোদে বেরোবেন না। কারণ অতিরিক্ত গরমে হিটস্ট্রোক, জলশূন্যতা এবং ক্লান্তির ঝুঁকি অনেকটাই বেড়ে যায়। কিন্তু সমস্যা হল, শরীরের জন্য অত্যন্ত জরুরি ভিটামিন ডি-র প্রধান উৎস আবার সূর্যের আলোই। ফলে প্রশ্ন উঠছে— এই ভয়াবহ গরমে রোদ এড়িয়ে চললে শরীরে ভিটামিন ডি-র চাহিদা পূরণ হবে কী ভাবে?
বিশেষজ্ঞদের মতে, ভিটামিন ডি শরীরের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি উপাদান। এটি ক্যালশিয়াম ও ফসফরাস শোষণে সাহায্য করে, ফলে হাড় ও দাঁত মজবুত থাকে। পাশাপাশি রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ানো, পেশির কার্যকারিতা ঠিক রাখা এবং মানসিক স্বাস্থ্যের ভারসাম্য বজায় রাখতেও এই ভিটামিনের বড় ভূমিকা রয়েছে।
চিকিৎসকদের বক্তব্য, সূর্যের অতিবেগনি বি বা ইউভিবি রশ্মির সাহায্যেই শরীরে ভিটামিন ডি তৈরি হয়। তবে খুব ভোরের নরম রোদে সেই রশ্মির মাত্রা তুলনামূলক কম থাকে। আবার দুপুরের কড়া রোদ দীর্ঘ সময় গায়ে লাগলে ত্বকের ক্ষতি, হিটস্ট্রোক কিংবা শরীর খারাপের ঝুঁকি তৈরি হতে পারে। তাই সময় বেছে রোদে থাকা জরুরি।

বিশেষজ্ঞদের একাংশের মতে, গরমের দিনে সকাল ৭টা থেকে ৯টার মধ্যে কিছুটা সময় রোদে থাকলে তুলনামূলক নিরাপদ ভাবে ভিটামিন ডি পাওয়া যেতে পারে। এ সময়ে সূর্যের তাপ খুব বেশি তীব্র হয় না, অথচ শরীরে ভিটামিন ডি তৈরির জন্য প্রয়োজনীয় আলো পাওয়া যায়।
তবে কত ক্ষণ রোদে থাকা প্রয়োজন, তা সবার ক্ষেত্রে এক নয়। গায়ের রং, বয়স, বাসস্থানের পরিবেশ এবং দৈনন্দিন জীবনযাত্রার উপর নির্ভর করে এই সময় বদলে যেতে পারে। সাধারণ ভাবে যাঁদের ত্বক উজ্জ্বল, তাঁদের কম সময় রোদে থাকলেই কাজ হতে পারে। অন্য দিকে গায়ের রং তুলনামূলক গাঢ় হলে কিছুটা বেশি সময় সূর্যালোকের প্রয়োজন হতে পারে।
চিকিৎসকেরা আরও জানাচ্ছেন, দূষণ এবং অতিরিক্ত সানস্ক্রিন ব্যবহারের কারণেও শরীরে ইউভিবি রশ্মি কম পৌঁছতে পারে। ফলে অনেকের শরীরে পর্যাপ্ত ভিটামিন ডি তৈরি হয় না। তাই শুধুমাত্র সূর্যের আলোর উপর নির্ভর না করে খাবারের দিকেও নজর দেওয়া জরুরি।
ভিটামিন ডি সমৃদ্ধ খাবারের মধ্যে রয়েছে ডিমের কুসুম, চর্বিযুক্ত মাছ, ফর্টিফায়েড দুধ, ফর্টিফায়েড সিরিয়াল, মাশরুম এবং কড লিভার অয়েল। নিয়মিত খাদ্যতালিকায় এগুলি রাখলে কিছুটা উপকার মিলতে পারে। তবে বিশেষজ্ঞদের মতে, শুধুমাত্র খাবার থেকেই সব সময় প্রয়োজনীয় ভিটামিন ডি পাওয়া সম্ভব হয় না।
যাঁদের শরীরে ভিটামিন ডি-র ঘাটতি বেশি, তাঁদের ক্ষেত্রে রক্তপরীক্ষা করে মাত্রা জেনে নেওয়া জরুরি। প্রয়োজন হলে চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী সাপ্লিমেন্টও খেতে হতে পারে। নিজের মতো করে ওষুধ খাওয়া বা অতিরিক্ত সাপ্লিমেন্ট নেওয়া বিপজ্জনক হতে পারে বলেও সতর্ক করছেন চিকিৎসকেরা।
অন্য দিকে, সকাল বা বিকেলের বাইরে দুপুর ১১টা থেকে বিকেল ৪টার মধ্যে রোদে দীর্ঘ সময় না থাকাই ভাল। কারণ এই সময়ে সূর্যের তাপ সবচেয়ে বেশি থাকে এবং শরীর দ্রুত জলশূন্য হয়ে পড়তে পারে।
অর্থাৎ, গরমের দিনে সম্পূর্ণ রোদ এড়িয়ে চলা যেমন ঠিক নয়, তেমনই অতিরিক্ত রোদে থাকা-ও বিপজ্জনক। সঠিক সময় বেছে সীমিত সময়ের জন্য সূর্যালোক গ্রহণ, পুষ্টিকর খাবার এবং প্রয়োজন হলে চিকিৎসকের পরামর্শ— এই তিনের সমন্বয়েই ভিটামিন ডি-র ঘাটতি অনেকটাই সামাল দেওয়া সম্ভব।
Sumi has been waiting lifestyle, vastu Tips since 2026.