ছবিটা দেখলে প্রথম ঝলকে মনে হতে পারে, এটি বুঝি আট-নয়ের দশকের কোনও পারিবারিক অ্যালবাম থেকে উঠে আসা এক ছোট্ট মেয়ের ছবি। মাথায় গোলাপি হেয়ারব্যান্ড, ছোট করে কাটা চুল আর মুখজুড়ে শিশুসুলভ মায়া—আজকের পরিচিত অভিনেত্রীর সঙ্গে এই ছোট্ট মেয়েটির মিল খুঁজে পাওয়া সত্যিই কঠিন।
কিন্তু এই একরত্তি মেয়েটিই বড় হয়ে বাংলা বিনোদন জগতের পরিচিত মুখ ইশা সাহা। ছোটবেলায় অবশ্য অভিনয়ের জগতের সঙ্গে তাঁর কোনও সরাসরি যোগ ছিল না। পড়াশোনাতেও ছিলেন মনোযোগী। আইন নিয়ে পড়াশোনা করেছিলেন ইশা। তবে শেষ পর্যন্ত আদালতের বদলে ক্যামেরার সামনেই নিজের পরিচিতি তৈরি করেন তিনি।
টেলিভিশনের মাধ্যমে অভিনয় জগতে পথচলা শুরু। এরপর বড়পর্দায় সুযোগ আসে। আর প্রথম ছবিতেই এমন একটি চরিত্রে অভিনয় করেন, যা দর্শকের নজর কেড়ে নেয়। মধ্যবিত্ত বাঙালি পরিবার, সম্পর্কের টানাপড়েন এবং নিজের মতো করে বাঁচার ইচ্ছেকে ঘিরে তৈরি সেই চরিত্র তাঁর অভিনয়জীবনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ মাইলস্টোন হয়ে ওঠে। প্রথম ছবির অভিনয়ের জন্য সমালোচকদের কাছ থেকেও প্রশংসা পেয়েছিলেন তিনি। এরপর একের পর এক ছবিতে নিজেকে ভেঙেছেন ইশা। কখনও সহজ-সরল তরুণী, কখনও রহস্যের সমাধানে ছুটে চলা চরিত্র, আবার কখনও নিজের আত্মবিশ্বাস খুঁজে পাওয়া সাধারণ এক মেয়ের ভূমিকায় দর্শকের সামনে হাজির হয়েছেন তিনি।
বিশেষ করে ‘টুকু’ চরিত্রটি তাঁর অভিনয়জীবনে আলাদা ছাপ ফেলেছিল। এই চরিত্রের মাধ্যমে ইশার অভিনয়ের অন্য একটি দিক দর্শকের সামনে উঠে আসে। চরিত্রের আবেগ, ব্যক্তিত্ব এবং সূক্ষ্ম অনুভূতিগুলো পর্দায় ফুটিয়ে তুলে প্রশংসা কুড়িয়েছিলেন অভিনেত্রী। বড়পর্দার পাশাপাশি ওয়েব সিরিজেও নিজের অভিনয়ের পরিসর বাড়িয়েছেন ইশা সাহা। ‘প্রজাপতি বিস্কুট’, ‘সোয়েটার’, ‘গুপ্তধনের সন্ধানে’, ‘গোলন্দাজ’, ‘মহানন্দা’, ‘কর্ণসুবর্ণের গুপ্তধন’-সহ একাধিক ছবিতে নানা ধরনের চরিত্রে দেখা গিয়েছে তাঁকে।
অভিনয়ের পাশাপাশি সময়ের সঙ্গে তাঁর স্টাইল স্টেটমেন্টও নজর কেড়েছে। ছোটবেলার গোলাপি হেয়ারব্যান্ড পরা সেই শিশুটি আজ বাংলা ছবির পর্দায় নিজের স্বতন্ত্র জায়গা তৈরি করেছেন। একদিকে অভিনয়ের দক্ষতা, অন্যদিকে সাবলীল ও আধুনিক ফ্যাশন সেন্স—সব মিলিয়ে ইশা সাহা এখন টলিউডের অন্যতম পরিচিত ও স্টাইলিশ অভিনেত্রী।
তাই ছোট্ট ইশার এই ছবি দেখলে আজকের অভিনেত্রীকে চিনতে না পারাটাই স্বাভাবিক। গোলাপি হেয়ারব্যান্ড পরা সেই একরত্তি যে একদিন বাংলা বিনোদন জগতের পরিচিত মুখ হয়ে উঠবেন, তা কে-ই বা জানত!

Hello friends, Myself Biplab. I have been writing horoscopes since 2019. Since 2022, I have also been writing about entertainment, lifestyle, and trending news.