উচ্চতা মাত্র ৩ থেকে সাড়ে ৩ ফুট। মাথার খুলি ও মস্তিষ্কও আধুনিক মানুষের তুলনায় অনেক ছোট। কিন্তু হাঁটাচলার ধরন? সেখানেই বড় চমক। ইন্দোনেশিয়ার ফ্লোরেস দ্বীপে পাওয়া রহস্যময় মানবপ্রজাতি হোমো ফ্লোরেসিয়েন্সিস, যাকে জনপ্রিয়ভাবে ‘হবিট মানব’ বলা হয়, তাদের চলাফেরা নিয়ে নতুন গবেষণায় উঠে এসেছে চাঞ্চল্যকর তথ্য। ২০০৩ সালে ফ্লোরেস দ্বীপের লিয়াং বুয়া গুহা থেকে হোমো ফ্লোরেসিয়েন্সিসের কঙ্কাল আবিষ্কৃত হয়। মাত্র প্রায় ১ মিটার উচ্চতার এই মানবপ্রজাতির শারীরিক গঠন আধুনিক মানুষের থেকে ছিল বেশ আলাদা। ছোট মাথার খুলি এবং তুলনামূলক ছোট মস্তিষ্কের কারণে বিজ্ঞানীদের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরেই প্রশ্ন ছিল—এই ক্ষুদ্রাকৃতির মানবরা আদৌ কি আধুনিক মানুষের মতো সোজা হয়ে হাঁটতে পারত?
গবেষকেরা হোমো ফ্লোরেসিয়েন্সিসের কঙ্কালের শ্রোণি বা পেলভিসের হাড় অত্যন্ত সূক্ষ্মভাবে পরীক্ষা করেছেন। মাইক্রো-সিটি স্ক্যানিংয়ের মতো উন্নত প্রযুক্তির সাহায্যে হাড়ের গঠন ও বিভিন্ন পরিমাপ বিশ্লেষণ করা হয়। গবেষণায় দেখা যায়, শ্রোণির প্রায় প্রতিটি গুরুত্বপূর্ণ পরিমাপ আধুনিক মানুষের স্বাভাবিক পরিসরের মধ্যেই রয়েছে। এই তথ্য থেকেই গবেষকদের ধারণা, দুই পায়ে সোজা হয়ে হাঁটার সময় হোমো ফ্লোরেসিয়েন্সিসের শরীরের নড়াচড়া আগের ধারণার তুলনায় অনেকটাই আধুনিক মানুষের মতো ছিল। অর্থাৎ ছোট আকারের শরীর এবং অস্বাভাবিক শারীরিক গঠন থাকলেও তাদের হাঁটা হয়তো অতটা ‘আদিম’ ছিল না, যতটা আগে মনে করা হত।
তবে এর অর্থ এই নয় যে তারা আধুনিক মানুষের মতো একই গতিতে হাঁটত। গবেষকদের মতে, ছোট পা এবং শরীরের বিশেষ অনুপাতের কারণে তাদের হাঁটার গতি সম্ভবত আধুনিক মানুষের তুলনায় কিছুটা কম ছিল।
আরও পড়ুন,
নেপালের সুড়ঙ্গে থার্মাল ড্রোন পাঠিয়েও খোঁজ নেই ৯৩ শ্রমিকের! মৃতের সংখ্যা ৯৩৯, নিখোঁজ প্রায় ৪ হাজার
হোমো ফ্লোরেসিয়েন্সিসকে ঘিরে অবশ্য রহস্য এখনও কাটেনি। সবচেয়ে বড় প্রশ্ন—এই ক্ষুদ্র মানবপ্রজাতির উৎপত্তি কোথা থেকে? তারা কি আকারে ছোট হয়ে যাওয়া হোমো ইরেক্টাসের উত্তরসূরি? নাকি আরও প্রাচীন কোনও মানবগোষ্ঠী থেকে তাদের বিবর্তন হয়েছিল? আরও একটি বড় রহস্য হল, কীভাবে এই ক্ষুদ্রাকৃতির মানবরা ইন্দোনেশিয়ার ফ্লোরেস দ্বীপে পৌঁছেছিল এবং সেখানে গিয়ে কেন তাদের শরীরের আকার এতটা ছোট হয়ে গেল।
আরও পড়ুন,
Vastu: বাস্তুদোষেই বাড়ছে দেদার ঋণ! আর্থিক সংকট কাটাতে মানতেই হবে এই ৫ নিয়ম
হাজার হাজার বছরের পুরনো হাড়, কঙ্কাল আর গুহার মাটির স্তরের মধ্যেই হয়তো লুকিয়ে রয়েছে সেই উত্তর। নতুন গবেষণা তাদের হাঁটার ধরন সম্পর্কে কিছুটা ধারণা দিলেও, ‘হবিট মানব’-এর বিবর্তনের পুরো কাহিনি এখনও বিজ্ঞানীদের কাছে এক গভীর রহস্য।

Hello friends, Myself Biplab. I have been writing horoscopes since 2019. Since 2022, I have also been writing about entertainment, lifestyle, and trending news.