স্ত্রীর আবদার রাখতে গিয়ে শেষ পর্যন্ত প্রাণটাই হারালেন জনপ্রিয় ব্রিটিশ ইনফ্লুয়েন্সার ইঘো টাইনি উবিরিবো। যৌনাঙ্গের আকার বাড়ানোর জন্য থাইল্যান্ডে গিয়ে হায়ালুরোনিক অ্যাসিড পেনিস ফিলার্স ট্রিটমেন্ট করিয়েছিলেন ৪৩ বছর বয়সি এই ইনফ্লুয়েন্সার। অভিযোগ, ওই চিকিৎসার পরই গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েন তিনি। পরে হাসপাতালে মৃত্যু হয় তাঁর।
নাইজেরীয় বংশোদ্ভূত ইঘো সোশ্যাল মিডিয়ায় বেশ জনপ্রিয় ছিলেন। ইনস্টাগ্রামে তাঁর প্রায় দু’লক্ষ ফলোয়ার। বিলাসবহুল জীবনযাপনের নানা ছবি নিয়মিতই পোস্ট করতেন তিনি। স্ত্রী ড্যানিয়েলার সঙ্গে বিভিন্ন মুহূর্তও উঠে আসত তাঁর সোশ্যাল মিডিয়া পোস্টে। জন্মদিন উদ্যাপন থেকে শুরু করে বিদেশে ছুটি কাটানো—দু’জনের একাধিক ছবি ছিল তাঁর ইনস্টাগ্রামে। জানা গিয়েছে, চলতি বছরের মার্চ মাসে স্ত্রীকে সঙ্গে নিয়ে থাইল্যান্ডে বেড়াতে গিয়েছিলেন ইঘো। ব্যাংককে থাকাকালীন যৌনাঙ্গের আকার বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নেন তিনি। এরপর একটি চিকিৎসাকেন্দ্রে গিয়ে হায়ালুরোনিক অ্যাসিড পেনিস ফিলার্স ট্রিটমেন্ট করান।
এই ধরনের চিকিৎসায় যৌনাঙ্গের ত্বকের নীচে হায়ালুরোনিক অ্যাসিড-ভিত্তিক ফিলার ইনজেক্ট করা হয়। এর ফলে সাময়িকভাবে যৌনাঙ্গের আকার বাড়তে পারে। সাধারণত কয়েক মাস থেকে কয়েক বছর পর্যন্ত এর প্রভাব থাকতে পারে বলে দাবি করা হয়। তবে চিকিৎসাটির সঙ্গে বিভিন্ন ধরনের ঝুঁকিও রয়েছে। ইঘোর ক্ষেত্রেও দেখা যায় গুরুতর শারীরিক সমস্যা। ইনজেকশন নেওয়ার কিছুদিন পর থেকেই বুকে তীব্র যন্ত্রণা শুরু হয় তাঁর। সময়ের সঙ্গে সেই যন্ত্রণা বাড়তে থাকে। এমনকি নিয়মিত জ্ঞান হারাতেও শুরু করেন তিনি।

পরিস্থিতি গুরুতর হওয়ায় থাইল্যান্ডের একটি হাসপাতালে ভর্তি করা হয় তাঁকে। তখন তাঁর শারীরিক অবস্থা এতটাই সঙ্কটজনক ছিল যে ঠিকমতো কথা বলার ক্ষমতাও ছিল না। ক্রমশ দুর্বল হয়ে পড়ছিল তাঁর শরীরের বিভিন্ন অঙ্গ।চিকিৎসকদের তরফে দীর্ঘ সময় ধরে তাঁকে বাঁচানোর চেষ্টা করা হয়। জানা গিয়েছে, ১০০ মিনিটেরও বেশি সময় ধরে সিপিআর দেওয়া হয়েছিল ইঘোকে। কিন্তু শেষরক্ষা হয়নি। সিটি স্ক্যান করার সময়ই তাঁর মৃত্যু হয়।

ময়নাতদন্তের রিপোর্টে শরীরে রক্ত জমাট বাঁধার বিষয়টি উঠে এসেছে বলে জানা গিয়েছে। এর ফলে শিরায় রক্ত চলাচল বাধাপ্রাপ্ত হয়েছিল। হায়ালুরোনিক অ্যাসিড শরীরে প্রবেশের সঙ্গে এই জটিলতার যোগ রয়েছে বলেও প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে। জানা গিয়েছে, এই চিকিৎসার জন্য ভারতীয় মুদ্রায় প্রায় ৮৫ লক্ষ টাকা খরচ করেছিলেন ইঘো। তাঁর বিপুল সম্পত্তিও ছিল। লস অ্যাঞ্জেলসে প্রায় ১১ লক্ষ ডলারের একটি বাড়ি এবং লন্ডনে প্রায় ৬ লক্ষ ডলারের একটি বাড়ি ছিল তাঁর। চার বছর আগে ধুমধাম করে ড্যানিয়েলাকে বিয়ে করেছিলেন তিনি।

শেষ পর্যন্ত স্ত্রীর সঙ্গে বিলাসবহুল জীবনযাপনের সেই অধ্যায় আচমকাই থেমে গেল। লন্ডনে একটি সোনার কফিনে তাঁকে সমাধিস্থ করা হয়েছে বলে জানা গিয়েছে। তবে গোটা ঘটনায় সংশ্লিষ্ট হাসপাতালের তরফে এখনও কোনও সরকারি বিবৃতি প্রকাশ্যে আসেনি।
আরও পড়ুন,
Mimi: শরীর খারাপ, তবুও কৃষ্ণভক্তিতে মগ্ন মিমি! জন্মাষ্টমীর পুজোয় ব্রতী অভিনেত্রী

Hello friends, Myself Biplab. I have been writing horoscopes since 2019. Since 2022, I have also been writing about entertainment, lifestyle, and trending news.