সপ্তাহের শুরুতেই গড়িয়াহাট বাজারে পুরসভার খাদ্য সুরক্ষা দপ্তরের অভিযান। সোমবার সকালে বাজারে হানা দিয়ে একাধিক মাছ ও মাংসের দোকানে গুণগত মান এবং খাদ্য সংরক্ষণের নিয়ম খতিয়ে দেখেন পুরসভার ফুড সেফটি আধিকারিকরা। অভিযানে মাংসের দোকান থেকে কেজি কেজি ফ্রোজেন চিকেন ও মটন বাজেয়াপ্ত করা হয়। পাশাপাশি বাজারের বিভিন্ন মাছের দোকান থেকে নমুনা সংগ্রহ করে পরীক্ষার জন্য ল্যাবে পাঠানোর ব্যবস্থা করা হয়েছে।
পুরসভা সূত্রে জানা গিয়েছে, এদিন গড়িয়াহাট বাজারে একের পর এক মাছের দোকানে গিয়ে মাছের গুণগত মান পরীক্ষা করেন আধিকারিকরা। প্রতিটি দোকান থেকেই মাছের নমুনা সংগ্রহ করা হয়। সেই নমুনার সঙ্গে ব্যবসায়ীর নাম ও স্বাক্ষর নথিভুক্ত করা হয়েছে। পরে সেগুলি পরীক্ষার জন্য পাঠানো হবে বলে জানা গিয়েছে।
অভিযানের সময় মাংসের দোকানে গিয়ে বেশ কিছু অনিয়ম নজরে আসে আধিকারিকদের। সংরক্ষণের জন্য রাখা ক্রেট খুলতেই দেখা যায়, প্যাকেট করে কেজি কেজি চিকেন ও মটন রাখা রয়েছে। কিন্তু ওই ফ্রোজেন মাংসের প্যাকেটগুলিতে সংরক্ষণের তারিখ বা কতদিন পর্যন্ত তা ব্যবহারের উপযোগী থাকবে, সেই সংক্রান্ত কোনও তথ্য লেখা ছিল না।
নিয়ম অনুযায়ী, ফ্রোজেন মাংস সংরক্ষণ করা হলে তারিখ সংক্রান্ত তথ্য বা নির্দিষ্ট ডেট ট্যাগিং থাকা প্রয়োজন। হোটেল ও রেস্তরাঁয় ফ্রোজেন মাংস ব্যবহারের ক্ষেত্রেও এই ধরনের নিয়ম মেনে চলা বাধ্যতামূলক। কিন্তু গড়িয়াহাট বাজারের ওই মাংসগুলিতে প্রয়োজনীয় তারিখের উল্লেখ না থাকায় সেগুলি বাজেয়াপ্ত করার সিদ্ধান্ত নেয় পুরসভা।
পুরসভা সূত্রে খবর, প্রায় ১০ থেকে ১৫ কেজি ফ্রোজেন চিকেন-মটন বাজেয়াপ্ত করা হয়। পরে সেগুলিকে যাতে আর কোনওভাবেই খাবার হিসেবে ব্যবহার করা না যায়, তার জন্য ফিনাইল জল ঢেলে নষ্ট করে দেওয়া হয়। এরপর পুরসভার গাড়িতে করে সেগুলি ভ্যাটে ফেলে দেওয়া হয়। এদিনের অভিযানে শুধু মাংস নয়, মাছের গুণগত মান নিয়েও বিশেষ নজর দেওয়া হয়। বাজারের প্রতিটি মাছের দোকান থেকে নমুনা সংগ্রহ করে পরীক্ষাগারে পাঠানোর প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। পরীক্ষার রিপোর্ট হাতে আসার পর মাছগুলির গুণগত মান সম্পর্কে আরও স্পষ্ট তথ্য মিলবে।
আরও পড়ুন,
পিরামিডের মাথায় ডলফিনের মতো কসরত, মিশরের আকাশে ভারতের ‘ধ্রুব’
পুরসভার খাদ্য সুরক্ষা দপ্তরের এই অভিযানকে ঘিরে বাজারের ব্যবসায়ীদের মধ্যেও তৎপরতা দেখা যায়। কাঁচা মাছ ও মাংস সংরক্ষণ এবং বিক্রির ক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় নিয়ম মেনে চলার জন্য ব্যবসায়ীদের সতর্ক করেন ফুড সেফটি অফিসাররা।
উল্লেখ্য, সাম্প্রতিক সময়ে শহর ও জেলার বিভিন্ন প্রান্তে খাদ্য সুরক্ষা দপ্তরের অভিযান জোরদার হয়েছে। হোটেল, রেস্তরাঁ, মিষ্টির দোকান থেকে শুরু করে পাউরুটি ও দুধ তৈরির কারখানাতেও চলছে পরিদর্শন ও নমুনা সংগ্রহ। সেই ধারাবাহিকতায় এবার কাঁচা মাছ-মাংসের গুণগত মান এবং সংরক্ষণ পদ্ধতি যাচাইয়ে গড়িয়াহাট বাজারে পুরসভার অভিযান তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে।

Hello friends, Myself Biplab. I have been writing horoscopes since 2019. Since 2022, I have also been writing about entertainment, lifestyle, and trending news.