গান রেকর্ডিংয়ের স্টুডিয়ো থেকে পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠান—সর্বত্রই প্রায় একই সাজে দেখা যেত কিংবদন্তি গায়িকা লতা মঙ্গেশকরকে। ধবধবে সাদা শাড়ি, কপালে লাল টিপ, বিনুনি করা চুল এবং কানে হিরের দুল—এই পরিচিত সাজই হয়ে উঠেছিল তাঁর নিজস্ব স্টাইল স্টেটমেন্ট। জীবনের প্রায় আট দশকের দীর্ঘ সঙ্গীতজীবনেও সেই পরিচিত সাজে বিশেষ পরিবর্তন আনেননি তিনি।
লতা মঙ্গেশকর শুধু কণ্ঠের জাদুতেই নয়, নিজের ব্যক্তিত্ব ও পোশাকের স্বাতন্ত্র্যেও অনুরাগীদের মনে আলাদা জায়গা করে নিয়েছিলেন। মধুবালা থেকে প্রীতি জিন্টা—একাধিক প্রজন্মের অভিনেত্রীর ঠোঁটে তাঁর কণ্ঠ মানিয়ে গিয়েছে। দেশের বিভিন্ন ভাষায় গান গাওয়া এই কিংবদন্তি গায়িকার সাদা শাড়ির প্রতি ছিল বিশেষ টান।
অনেকের ধারণা ছিল, লতার সাদা শাড়ি পরার অভ্যাস তাঁর অত্যন্ত সাধারণ জীবনযাপনেরই প্রতিফলন। তবে তাঁর পোশাকের পছন্দের মধ্যে ছিল নিজস্ব রুচিও। শুভ্র সাদা রং তাঁর অত্যন্ত প্রিয় ছিল। লাইভ অনুষ্ঠানে কখনও কখনও রঙিন পাড়ের সাদা তাঁতের শাড়ি পরলেও, অধিকাংশ সময়ই তাঁকে দেখা যেত সাদার বিভিন্ন আভায়।
শুধু পোশাক নয়, অলঙ্কারের ক্ষেত্রেও ছিল তাঁর বিশেষ পছন্দ। সাদা শাড়ির সঙ্গে কানে থাকত হিরের দুল। মেকআপের প্রতিও তাঁর বিশেষ আগ্রহ ছিল না। স্বাভাবিক সাজেই থাকতে পছন্দ করতেন তিনি। ফলে সাদা শাড়ি, লাল টিপ এবং হিরের গয়না মিলেই তৈরি হয়েছিল লতা মঙ্গেশকরের স্বতন্ত্র উপস্থিতি। তবে জীবনে তাঁর কাছে শাড়ি ও হিরের গয়না ছিল অন্যতম বিলাসিতা হলেও, সেই শৌখিনতা কখনওই তাঁর সঙ্গীতসাধনার পথে বাধা হয়ে দাঁড়ায়নি।
নিজের প্রথম উপার্জনের স্মৃতিচারণ করতে গিয়ে এক সাক্ষাৎকারে লতা মঙ্গেশকর জানিয়েছিলেন, প্রথম রোজগারের টাকা দিয়ে তিনি মায়ের জন্য সোনার গয়না তৈরি করিয়েছিলেন। নিজের জন্য কিনেছিলেন বিশেষভাবে নকশা করা একটি হিরে ও রুবির আংটি। সেই আংটির উপর খোদাই করা ছিল তাঁর নামের আদ্যক্ষর ‘LM’—Lata Mangeshkar।
জানা যায়, ১৯৪৭ সালে প্রায় ৭০০ টাকা খরচ করে সেই আংটি কিনেছিলেন তিনি। জীবনের শেষ দিন পর্যন্ত সেটি তাঁর কাছে বিশেষ মূল্যবান স্মৃতি হয়ে ছিল।
লতা মঙ্গেশকর ৯২ বছর বয়সে প্রয়াত হলেও তাঁর কণ্ঠের পাশাপাশি তাঁর সেই চিরপরিচিত শুভ্র সাজও আজও মানুষের স্মৃতিতে অমলিন। সাদা শাড়িকে নিজের ব্যক্তিত্বের সঙ্গে এমনভাবে মিশিয়ে দিয়েছিলেন তিনি যে, লতা মঙ্গেশকরের কথা মনে পড়লেই অনুরাগীদের চোখের সামনে ভেসে ওঠে সেই ধবধবে সাদা শাড়ি, লাল টিপ আর মায়াময় হাসি।

Hello friends, Myself Biplab. I have been writing horoscopes since 2019. Since 2022, I have also been writing about entertainment, lifestyle, and trending news.