‘লভ জিহাদ’ বিতর্কে অবশেষে মুখ খুললেন বলিউড অভিনেতা আমির খান। ব্যক্তিগত জীবন ও একাধিক আন্তঃধর্মীয় বিয়ে নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই নানা বিতর্কের মুখে পড়তে হয়েছে তাঁকে। সম্প্রতি তৃতীয় বার গৌরী স্প্র্যাটকে বিয়ে করার পর সেই বিতর্ক নতুন করে সামনে এসেছে। তবে এ বার সরাসরি সমস্ত জল্পনার জবাব দিয়েছেন অভিনেতা। স্পষ্ট ভাষায় তিনি জানিয়েছেন, তাঁর কোনও স্ত্রীই বিয়ের পরে ধর্ম পরিবর্তন করেননি।
সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে আমির বলেন, তাঁর জীবনের তিন গুরুত্বপূর্ণ মানুষ— রিনা দত্ত, কিরণ রাও এবং বর্তমান স্ত্রী গৌরী স্প্র্যাট— কেউই ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করেননি। অভিনেতার দাবি, তাঁদের সমস্ত বিয়ে হয়েছে বিশেষ বিবাহ আইনের আওতায় ‘সিভিল ম্যারেজ’-এর মাধ্যমে, যেখানে ধর্মের কোনও ভূমিকা ছিল না।
আমিরের কথায়, “গৌরী, কিরণ বা রিনা— কেউই নিজেদের ধর্ম পরিবর্তন করেননি। আমাদের বিয়ে হয়েছিল সিভিল ম্যারেজের মাধ্যমে। গৌরী তো হিন্দুও নন, তিনি খ্রিস্টান। তবে ধর্মীয় আচারও বিশেষ পালন করেন না।” গোটা বিতর্ক প্রসঙ্গে খানিক শ্লেষের সুরে অভিনেতা আরও বলেন, “সময়ের সঙ্গে সঙ্গে জীবনটা যেন আরও হাস্যকর হয়ে উঠছে।”
অভিনেতার বক্তব্য, সম্পর্কের ভিত্তি কখনওই ধর্ম নয়। বরং পারস্পরিক শ্রদ্ধা, বিশ্বাস এবং ব্যক্তিগত সিদ্ধান্তই তাঁর কাছে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। সেই কারণেই ধর্মীয় পরিচয়কে কেন্দ্র করে যে বিতর্ক তৈরি হয়েছে, তা তাঁর কাছে সম্পূর্ণ অযৌক্তিক বলে মনে হয়।
আমির আরও জানিয়েছেন, তাঁদের পরিবারে আন্তঃধর্মীয় বিয়ে কোনও নতুন বিষয় নয়। তাঁর দুই বোনের বিয়ে হয়েছে হিন্দু পরিবারে। তাঁর মেয়েও এক হিন্দু যুবককে বিয়ে করেছেন। পাশাপাশি, তাঁর খুড়তুতো ভাই মনসুর খানের স্ত্রী খ্রিস্টান। ফলে ধর্মের ভিত্তিতে সম্পর্ককে বিচার করার প্রবণতা তাঁদের পারিবারিক সংস্কৃতির সঙ্গে কোনও ভাবেই মেলে না বলেই মনে করেন অভিনেতা।
তবে আমিরের এই মন্তব্যের পরেও বিতর্ক থামেনি। উত্তরপ্রদেশের মুসলিম পার্সোনাল দারুল ইফতার শাহী চিফ মুফতি মওলানা চৌধুরী ইব্রাহিম হুসেনের একটি ফতোয়া ঘিরে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। তাঁর মতে, কোনও মুসলিম পুরুষ যদি অন্য ধর্মের কোনও নারীকে বিয়ে করতে চান, তবে সেই নারীকে ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করা উচিত।
অন্য দিকে, মহারাষ্ট্রের মন্ত্রী তথা বিজেপি নেতা নীতেশ রাণেও আমির খানের বিয়ে নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। তাঁর দাবি, সমাজে জনপ্রিয় ব্যক্তিত্বদের ব্যক্তিগত সিদ্ধান্ত সাধারণ মানুষের উপর প্রভাব ফেলে। তাই এই ধরনের বিয়ে সমাজে কী বার্তা দিচ্ছে, তা নিয়ে ভাবার প্রয়োজন রয়েছে। একই সঙ্গে, আমিরের সাম্প্রতিক বিয়েকে ‘লভ জিহাদ’-এর প্রেক্ষাপটে দেখা উচিত কি না, সেই প্রশ্নও তুলেছেন তিনি।
উল্লেখ্য, গত ৫ জুলাই মুম্বইয়ের পালি হিলের বাসভবনে ঘনিষ্ঠ আত্মীয় ও বন্ধুদের উপস্থিতিতে গৌরী স্প্র্যাটকে বিয়ে করেন আমির খান। এর আগে ১৯৮৬ সালে রিনা দত্তের সঙ্গে তাঁর প্রথম বিয়ে হয়। ২০০২ সালে সেই সম্পর্কের ইতি ঘটে। পরে ২০০৫ সালে পরিচালক কিরণ রাওয়ের সঙ্গে নতুন জীবন শুরু করেন অভিনেতা। ২০২১ সালে তাঁদের বিচ্ছেদ হলেও, ছেলে আজাদের যৌথ অভিভাবকত্বের দায়িত্ব এখনও একসঙ্গেই পালন করছেন আমির ও কিরণ।
ব্যক্তিগত সম্পর্ক ও ধর্মীয় পরিচয় নিয়ে চলতে থাকা বিতর্কের আবহে আমির খানের এই স্পষ্ট বক্তব্য নতুন করে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে উঠে এসেছে। অভিনেতার মতে, সম্পর্কের মূল ভিত্তি হওয়া উচিত পারস্পরিক সম্মান ও বোঝাপড়া, ধর্ম নয়।

Hello friends, Myself Biplab. I have been writing horoscopes since 2019. Since 2022, I have also been writing about entertainment, lifestyle, and trending news.