কাঠবাদামের দুধ নাকি সয়া-দুধ, পুষ্টিগুণে কোনটি বেশি উপকারী? জেনে নিন সঠিক পছন্দ

স্বাস্থ্য সচেতন মানুষের খাদ্যাভ্যাসে এখন উদ্ভিজ্জ দুধের জনপ্রিয়তা দ্রুত বাড়ছে। বিশেষ করে কাঠবাদামের দুধ (Almond Milk) এবং সয়া-দুধ (Soy Milk) অনেকেরই দৈনন্দিন খাদ্যতালিকায় জায়গা করে নিয়েছে। ল্যাক্টোজ অসহিষ্ণুতা, নিরামিষ খাদ্যাভ্যাস কিংবা কম ক্যালোরিযুক্ত বিকল্প খোঁজার কারণে প্রাণিজ দুধের পরিবর্তে এই দুই ধরনের দুধের চাহিদা বেড়েছে। তবে প্রশ্ন হলো, পুষ্টিগুণের বিচারে কোনটি বেশি উপকারী?

ক্যালোরির দিক থেকে পার্থক্য
যাঁরা ওজন কমানোর চেষ্টা করছেন, তাঁদের কাছে কম ক্যালোরির খাবার গুরুত্বপূর্ণ। এক কাপ কাঠবাদামের দুধে সাধারণত ৩০ থেকে ৪০ কিলোক্যালোরি থাকে। অন্যদিকে, একই পরিমাণ সয়া-দুধে প্রায় ৮০ থেকে ১০০ কিলোক্যালোরি পাওয়া যায়। ফলে কম ক্যালোরিযুক্ত পানীয় হিসেবে কাঠবাদামের দুধ কিছুটা এগিয়ে।

কাঠবাদামের দুধ নাকি সয়া-দুধ, পুষ্টিগুণে কোনটি বেশি উপকারী? জেনে নিন সঠিক পছন্দ
কাঠবাদামের দুধ নাকি সয়া-দুধ, পুষ্টিগুণে কোনটি বেশি উপকারী? জেনে নিন সঠিক পছন্দ

প্রোটিনে সয়া-দুধের স্পষ্ট সুবিধা
প্রোটিন শরীরের পেশি গঠন ও কোষের মেরামতের জন্য অত্যন্ত প্রয়োজনীয়। কাঠবাদামের দুধে প্রতি কাপে প্রায় ১ থেকে ২ গ্রাম প্রোটিন থাকলেও সয়া-দুধে থাকে প্রায় ৭ থেকে ৮ গ্রাম। তাই যাঁরা নিয়মিত শরীরচর্চা করেন বা উচ্চ প্রোটিনসমৃদ্ধ খাদ্য অনুসরণ করেন, তাঁদের জন্য সয়া-দুধ বেশি উপযোগী হতে পারে।

স্বাস্থ্যকর ফ্যাট ও ভিটামিন
কাঠবাদামের দুধে পর্যাপ্ত পরিমাণ আনস্যাচুরেটেড বা স্বাস্থ্যকর ফ্যাট থাকে, যা খারাপ কোলেস্টেরল কমাতে এবং হৃদ্‌যন্ত্রের সুস্থতা বজায় রাখতে সহায়ক। পাশাপাশি এতে ভিটামিন ই-এর পরিমাণও বেশি, যা ত্বক ভালো রাখতে এবং অ্যান্টি-অক্সিড্যান্ট হিসেবে কাজ করতে সাহায্য করে।
অন্যদিকে, সয়া-দুধেও স্বাস্থ্যকর ফ্যাট রয়েছে, তবে পরিমাণ তুলনামূলকভাবে মাঝারি। এতে কিছুটা ফাইবারও থাকে, যা হজম ভালো রাখতে এবং দীর্ঘক্ষণ পেট ভরা রাখতে সাহায্য করে।

হৃদ্‌স্বাস্থ্য ও ওজন নিয়ন্ত্রণে কোনটি ভালো?

দুই ধরনের দুধই হৃদ্‌স্বাস্থ্যের জন্য উপকারী হতে পারে। কাঠবাদামের দুধে থাকা স্বাস্থ্যকর ফ্যাট হৃদ্‌রোগের ঝুঁকি কমাতে সাহায্য করে। আবার সয়া-দুধে থাকা প্রোটিন ও ফাইবারও হৃদ্‌স্বাস্থ্য ভালো রাখতে ইতিবাচক ভূমিকা রাখতে পারে।
ওজন কমানোর লক্ষ্য থাকলেও দুই ধরনের দুধই খাদ্যতালিকায় রাখা যায়। তবে কম ক্যালোরির কারণে কাঠবাদামের দুধ কিছুটা বাড়তি সুবিধা দিতে পারে।

কোন দুধ বেছে নেবেন?
*আপনার খাদ্যাভ্যাস ও স্বাস্থ্যগত প্রয়োজনের উপর নির্ভর করবে সঠিক নির্বাচন।
*প্রোটিনের চাহিদা বেশি হলে সয়া-দুধ ভালো বিকল্প।
*কম ক্যালোরি, ভিটামিন ই ও অ্যান্টি-অক্সিড্যান্ট চাইলে কাঠবাদামের দুধ উপযোগী।
*ল্যাক্টোজ অসহিষ্ণু ব্যক্তিদের জন্য দুটি দুধই প্রাণিজ দুধের ভালো বিকল্প হতে পারে।

উপসংহার
কাঠবাদামের দুধ এবং সয়া-দুধ—দুটিরই আলাদা পুষ্টিগুণ ও স্বাস্থ্য উপকারিতা রয়েছে। একটি কম ক্যালোরি ও ভিটামিন ই-সমৃদ্ধ, অন্যটি উচ্চ প্রোটিন ও তুলনামূলক বেশি পুষ্টিকর। তাই কোনটি আপনার জন্য উপযুক্ত হবে, তা নির্ভর করবে আপনার স্বাস্থ্যগত লক্ষ্য, খাদ্যাভ্যাস এবং ব্যক্তিগত পছন্দের উপর। দুটিই সুষম খাদ্যতালিকার অংশ হিসেবে পরিমিত পরিমাণে গ্রহণ করলে উপকার পাওয়া সম্ভব।

শুধু হজম শক্তি বাড়িয়ে দেয় না, জোয়ান খেলে শরীরের অনেক সমস্যা নিবারণ হয় মুখরোচক বাদাম চিক্কি খেতে দারুন, বাড়িতেই তৈরী হবে, জানুন রেসিপি এইভাবে তেজপাতা পোড়ালে দুশ্চিন্তা কেটে যাবে 5 Best Night Creams ৪ মাসের শিশু ২৪০ কোটির মালিক