চলচ্চিত্র জগতে শোকের আবহের মধ্যেই পরিচালক অনীক দত্তর অস্বাভাবিক মৃত্যু ঘিরে তৈরি হয়েছে একাধিক প্রশ্ন। বুধবার দুপুরে দক্ষিণ কলকাতার গড়িয়াহাট এলাকার হিন্দুস্তান পার্কের একটি বহুতলের ছাদ থেকে পড়ে গুরুতর জখম হন তিনি। পরে দ্রুত তাঁকে ঢাকুরিয়ার একটি বেসরকারি হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলে চিকিৎসকেরা মৃত বলে ঘোষণা করেন।
ঘটনার পরই তদন্তে নামে গড়িয়াহাট থানার পুলিশ। প্রাথমিক তদন্তে জানা গিয়েছে, দুপুর ১টা থেকে ১টা ১০ মিনিটের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে। আবাসনের সিসিটিভি ফুটেজ খতিয়ে দেখে পুলিশ জানতে পারে, পরিচালক একাই ছাদে উঠেছিলেন। নিচে পড়ে যাওয়ার ঘটনাটি প্রথমে এক পথচারীর নজরে আসে। তিনিই পুলিশে খবর দেন। এরপর দুপুর ২টো নাগাদ ঘটনাস্থলে পৌঁছয় পুলিশ।
তদন্ত চলাকালীন আবাসনের ছাদ থেকে একটি সুইসাইড নোট উদ্ধার হয়। পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, চিঠিটি একটি খামের মধ্যে রাখা ছিল এবং সেটি ‘কোরিওগ্রাফিক আর্ট ম্যাগাজিন ২০০৮’ নামের একটি বইয়ের ভিতরে পাওয়া যায়। অনুমান করা হচ্ছে, বইটি পরিচালক নিজেই সঙ্গে করে নিয়ে গিয়েছিলেন।
পুলিশের দাবি, উদ্ধার হওয়া চিঠিটি অনীক দত্ত তাঁর মেয়ে ঐশী দত্তকে উদ্দেশ করে লিখেছিলেন। যদিও ওই নোটে নিজের মৃত্যুর জন্য কাউকে দায়ী করেননি পরিচালক। চিঠিতে উল্লেখ রয়েছে, “এই ঘটনার জন্য কেউ দায়ী নয়।” তবে মেয়ের উদ্দেশে তিনি আর কী লিখেছিলেন, সেই বিষয়ে এখনও বিস্তারিত কিছু জানানো হয়নি।
ঘটনার পর অনীক দত্তর ব্যক্তিগত জীবন নিয়েও নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। গত বছর তাঁর দাম্পত্য সম্পর্কে ভাঙনের খবর সামনে আসে। জানা যায়, চলতি বছরের ফেব্রুয়ারি মাস থেকে স্ত্রী সন্ধি দত্তের সঙ্গে তিনি একসঙ্গে থাকতেন না। সেই পরিস্থিতিতে বুধবার সকালে তিনি কেন ওই বাড়িতে গিয়েছিলেন, তা নিয়েও প্রশ্ন উঠছে।
পুলিশ সূত্রে আরও জানা গিয়েছে, ঘটনাদিনে ছাদে ওঠার আগে স্ত্রীর সঙ্গে পরিচালকের কোনও দেখা হয়নি। সিসিটিভি ফুটেজেও তাঁকে একাই ছাদে যেতে দেখা গিয়েছে। ফলে মৃত্যুর কারণ নিয়ে জল্পনা আরও বেড়েছে।
অন্যদিকে, অনীক দত্তর মেয়ে ঐশী বর্তমানে সুইডেনে থাকেন। তিনি বৃহস্পতিবার কলকাতায় পৌঁছনোর পর পরিচালকের শেষকৃত্য সম্পন্ন হতে পারে বলে পরিবার সূত্রে খবর। তার আগে অনুরাগীদের শেষ শ্রদ্ধা জানানোর জন্য নন্দনে রাখা হবে তাঁর মরদেহ। পরে কেওড়াতলা মহাশ্মশানে শেষকৃত্য সম্পন্ন হবে।
যদিও প্রাথমিকভাবে ঘটনাটিকে আত্মহত্যা বলেই মনে করছে পুলিশ, তবুও কেন এমন সিদ্ধান্ত নিলেন পরিচালক, তা এখনও স্পষ্ট নয়। কারণ, মৃত্যুর কয়েক দিন আগেও যাঁরা তাঁর সঙ্গে যোগাযোগ রেখেছিলেন, তাঁদের দাবি— অনীক দত্তর আচরণে কোনও অস্বাভাবিকতা বা মানসিক অবসাদের ইঙ্গিত তাঁরা পাননি। এই রহস্যমৃত্যুর ঘটনায় ইতিমধ্যেই অস্বাভাবিক মৃত্যুর মামলা রুজু করেছে গড়িয়াহাট থানার পুলিশ।

Hello, I am BB. I have been working in blogging for more than five years.