কলকাতার ব্যস্ত দুপুরে আবারও থমকাল মেট্রোর ব্লু লাইন। শনিবার বিকেল সাড়ে ৩টে নাগাদ মহাত্মা গান্ধী রোড (MG Road) স্টেশনে চলন্ত ট্রেনের সামনে ঝাঁপ দিয়ে আত্মহত্যার চেষ্টা করেন এক যাত্রী। ঘটনার জেরে দক্ষিণেশ্বর–শহিদ ক্ষুদিরাম ব্লু লাইনের পরিষেবা কিছু সময়ের জন্য সম্পূর্ণভাবে ব্যাহত হয়।
মেট্রো সূত্রে জানা গিয়েছে, শহিদ ক্ষুদিরামগামী ডাউন লাইনে হঠাৎই ওই ব্যক্তি ট্র্যাকের উপর ঝাঁপ দিলে সঙ্গে সঙ্গে কন্ট্রোল রুম থেকে বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ করে দেওয়া হয়। চালক ট্রেন থামান, শুরু হয় উদ্ধারকাজ। ঘটনাস্থলে পৌঁছয় মেট্রো রেল পুলিশ ও জরুরি পরিষেবা কর্মীরা।
এই আকস্মিক বিপর্যয়ের কারণে আপ ও ডাউন উভয় দিকেই মেট্রো চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। জরুরি পরিস্থিতি সামাল দিতে ‘ভাঙাপথে’ বা বিভাজিত রুটে পরিষেবা চালানো হয়— দক্ষিণেশ্বর থেকে দমদম এবং ময়দান থেকে শহিদ ক্ষুদিরাম পর্যন্ত আলাদা অংশে ট্রেন চলাচল চলতে থাকে।
অবশেষে বিকেল ৪টা ১৩ মিনিট থেকে পুরো রুটে পরিষেবা স্বাভাবিক হয়েছে বলে মেট্রো কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। তবে ঘটনাটির পরে কয়েক মিনিট ধরে দমদম, শ্যামবাজার, চাঁদনি চৌক–সহ একাধিক স্টেশনে যাত্রীদের ভিড় বাড়ে এবং অনেকে দীর্ঘক্ষণ অপেক্ষায় থাকেন।
বার বার ব্লু লাইনে এমন ঘটনা কেন?
কলকাতা মেট্রোর ব্লু লাইনে আত্মহত্যা বা আত্মহত্যার চেষ্টার ঘটনা নতুন নয়। গত বৃহস্পতিবারই নেতাজি স্টেশনে আরেক যাত্রী একইভাবে ট্র্যাকে ঝাঁপ দিয়েছিলেন। মাত্র দু’দিনের ব্যবধানে ফের একই ঘটনা সেই উদ্বেগকেই নতুন করে উস্কে দিল।
মেট্রো কর্তৃপক্ষ কয়েক বছর ধরে আত্মহত্যা-রোধে নানা পদক্ষেপ নিয়েছে। কালীঘাট স্টেশনে প্ল্যাটফর্মের প্রান্তে গার্ডরেল বসানো হয়েছে। কর্মীদের সতর্কতা বৃদ্ধি, CCTV মনিটরিং আরও কড়া করা, স্টেশনে নিরাপত্তা কর্মী বাড়ানোর মতো ব্যবস্থাও নেওয়া হয়েছে। তবু তেমন সাফল্য মিলছে না বলে অভিযোগ যাত্রীদের একাংশের।
বিশেষজ্ঞদের মতে, প্ল্যাটফর্ম স্ক্রিন ডোর না থাকায় প্রবেশ–নিষিদ্ধ এলাকা রোধ করা কঠিন হয়ে দাঁড়াচ্ছে। প্রতিদিন হাজারো যাত্রী ওঠানামা করেন, ফলে নিরাপত্তা বাহিনীর জন্য সন্দেহজনক আচরণ চিহ্নিত করা সহজ নয়।
যাত্রীদের উদ্বেগ বাড়ছে
ক্রমাগত আত্মহত্যার চেষ্টা ও পরিষেবা ব্যাঘাত যাত্রীদের মধ্যে ভরসার সংকট তৈরি করছে। অনেকেই সোশ্যাল মিডিয়ায় লিখছেন, অফিস সময়ে বা সপ্তাহান্তে ভিড়ে ভরা এই লাইনে নিয়মিত এমন ঘটনার ফলে দৈনন্দিন চলাচল বিঘ্নিত হচ্ছে।
মেট্রো কর্তৃপক্ষ দাবি করেছে— পরিষেবা দ্রুত স্বাভাবিক করতে তারা যথাসাধ্য চেষ্টা করে চলেছে এবং ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনা রুখতে ব্যবস্থা আরও জোরদার করা হবে।
এই ঘটনার পর আবারও প্রশ্ন উঠছে— কলকাতা মেট্রোয় কি প্ল্যাটফর্ম স্ক্রিন ডোর লাগানো ছাড়া স্থায়ী সমাধান সম্ভব? সময়ই বলবে।

Hello, I am Biplab Baroi. I have been working in blogging for more than four years. I began my journey in the digital media industry in 2021.
Along with covering daily news and current events, I write articles on tech news, smartphones, and astrology. My work is created strictly for educational purposes use only.