বর্তমান সময়ে জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধি সাধারণ মানুষের নিত্যযাত্রাকে বেশ ব্যয়বহুল করে তুলেছে। পেট্রোল-ডিজেলের বিকল্প হিসেবে তাই ইলেকট্রিক স্কুটার দ্রুত জনপ্রিয় হয়ে উঠছে। বিশেষ করে ছাত্রছাত্রী, অফিসযাত্রী ও মধ্যবিত্ত পরিবারের কাছে এমন যানবাহনের চাহিদা বেশি, যা দামে সাশ্রয়ী, রক্ষণাবেক্ষণে সহজ এবং দৈনন্দিন ব্যবহারে নির্ভরযোগ্য।
২০২৬ সালে দাঁড়িয়ে বাজারে এমন কিছু বাজেট ইলেকট্রিক স্কুটার এসেছে, যা কম খরচে ভালো রেঞ্জ, সহজ চার্জিং ও আরামদায়ক রাইডিং অভিজ্ঞতা দেয়। এই প্রতিবেদনে তুলে ধরা হলো ২০২৬ সালের সেরা চারটি বাজেট ইলেকট্রিক স্কুটার।
১. ওলা এস১ এয়ার (Ola S1 Air)
স্টুডেন্ট এবং অফিসগামীদের জন্য Ola S1 Air নিঃসন্দেহে একটি আদর্শ ইলেকট্রিক স্কুটার। এর সবচেয়ে বড় সুবিধা হলো সহজ চার্জিং ব্যবস্থা—সাধারণ ঘরের সকেট দিয়েই এটি চার্জ করা যায়। স্কুটারটি ওজনে হালকা হওয়ায় শহরের ব্যস্ত ট্র্যাফিকে নিয়ন্ত্রণ করা খুব সহজ।
এছাড়া এর রানিং কস্ট অত্যন্ত কম, ফলে মাসিক যাতায়াত খরচ অনেকটাই কমে যায়। যাঁরা প্রথমবার ইলেকট্রিক স্কুটার কিনতে চাইছেন, তাঁদের জন্য এটি একটি ভরসাযোগ্য অপশন।
২. টিভিএস আইকিউব (TVS iQube)
যাঁরা আরামদায়ক ও ব্যালান্সড রাইডিং অভিজ্ঞতা খোঁজেন, তাঁদের জন্য TVS iQube অন্যতম সেরা পছন্দ। এর সাসপেনশন ও হ্যান্ডলিং শহরের ভাঙাচোরা রাস্তায়ও মসৃণ যাত্রার নিশ্চয়তা দেয়।
ব্যাটারির পারফরম্যান্স এবং চার্জিং সময় বেশ সন্তোষজনক হওয়ায় এটি দৈনন্দিন ব্যবহারের জন্য উপযুক্ত। পরিবারে একাধিক সদস্য ব্যবহার করতে পারবেন—এমন একটি ফ্যামিলি-ফ্রেন্ডলি ইলেকট্রিক স্কুটার হিসেবেও এটি জনপ্রিয়।
৩. হিরো ভিডা ভি২ লাইট (Hero Vida V2 Lite)
Hero Vida V2 Lite মূলত তাঁদের জন্য, যাঁরা একটি শক্তপোক্ত ও নির্ভরযোগ্য ‘ওয়ার্কহর্স’ টাইপ ইলেকট্রিক স্কুটার চান। এর সবচেয়ে বড় সুবিধা হলো রিমুভেবল ব্যাটারি। ব্যাটারি খুলে সহজেই ঘরে নিয়ে গিয়ে চার্জ দেওয়া যায়, যা ফ্ল্যাট বা ভাড়াবাড়িতে থাকা ব্যবহারকারীদের জন্য অত্যন্ত সুবিধাজনক।
দৈনন্দিন ছোটখাটো কাজ, অফিস যাতায়াত কিংবা বাজার করার মতো প্রয়োজনে এটি দারুণ কার্যকর।
৪. বাজাজ চেতক আরবেন (Bajaj Chetak Urbane)
যাঁরা নিঃশব্দ অথচ শক্তিশালী ও প্রিমিয়াম ফিলিং দেওয়া স্কুটার খুঁজছেন, তাঁদের জন্য Bajaj Chetak Urbane একটি চমৎকার বিকল্প। মেটাল বডির কারণে এর বিল্ড কোয়ালিটি খুবই মজবুত এবং দীর্ঘদিন টেকসই।
ডিজাইন সিম্পল হলেও রাস্তায় চালানোর সময় প্রিমিয়াম অনুভূতি দেয়। শহরের দৈনন্দিন যাতায়াতের জন্য এর রেঞ্জ ও চার্জিং ব্যবস্থা যথেষ্ট কার্যকর।
উপসংহার:
২০২৬ সালে ইলেকট্রিক স্কুটার আর বিলাসিতা নয়, বরং সাধারণ মানুষের প্রয়োজনীয় যানবাহনে পরিণত হয়েছে। কম খরচ, সহজ চার্জিং ও পরিবেশবান্ধব প্রযুক্তির কারণে এগুলো ভবিষ্যতের যাতায়াত ব্যবস্থার গুরুত্বপূর্ণ অংশ। উপরের চারটি বাজেট ইলেকট্রিক স্কুটার মধ্যবিত্তের সাধ্যের মধ্যে থেকেই আরামদায়ক ও নির্ভরযোগ্য যাত্রার স্বাদ দিচ্ছে। এখনই এমন একটি স্কুটার কিনলে আপনি যেমন খরচ বাঁচাবেন, তেমনই ভবিষ্যতের পরিবেশবান্ধব যাতায়াতের পথে এক ধাপ এগিয়ে থাকবেন।

Hello, I am Biplab Baroi. I have been working in blogging for more than four years. I began my journey in the digital media industry in 2021.
Along with covering daily news and current events, I write articles on tech news, smartphones, and astrology. My work is created strictly for educational purposes use only.