রাজ্য রাজনীতির পালাবদলের পর থেকেই বিনোদন জগতের একাংশের রাজনৈতিক অবস্থান ও মন্তব্য নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। বিশেষ করে যাঁরা অতীতে সক্রিয়ভাবে রাজনৈতিক মঞ্চে দেখা গিয়েছিলেন, তাঁদের বক্তব্য এখন নানা মহলে চর্চার বিষয় হয়ে উঠছে। এই আবহেই অভিনেত্রী রচনা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সাম্প্রতিক মন্তব্য ঘিরে তৈরি হয়েছে নতুন বিতর্ক। আর সেই মন্তব্যের জবাবেই পরোক্ষে কড়া প্রতিক্রিয়া দিলেন অভিনেত্রী বিদীপ্তা চক্রবর্তী।
সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে রচনা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, রাজনৈতিক দলের আহ্বানে বহু শিল্পীই প্রচারে অংশ নিয়েছিলেন। তাঁর কথায়, শুধুমাত্র জনপ্রিয় মুখকে সামনে আনলেই যে ভোটে তার প্রভাব পড়বে, সেই ধারণা বাস্তবে কার্যকর হয়নি। তিনি আরও জানান, কোনও নেতার প্রতি ব্যক্তিগত শ্রদ্ধা থাকলেও রাজনৈতিক সমীকরণ সবসময় সেই আবেগে নির্ভর করে না।
রচনার এই বক্তব্য সামনে আসতেই বিনোদন জগতে শুরু হয় জোর আলোচনা। এর মধ্যেই এক সাক্ষাৎকারে বিদীপ্তা চক্রবর্তী সরাসরি নাম না করলেও শিল্পীদের রাজনৈতিক ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন। তিনি বলেন, শুধুমাত্র টেলিভিশন বা সিনেমায় পরিচিত মুখ হওয়ার কারণে অনেকেই রাজনীতিতে প্রবেশ করেন, অথচ রাজনৈতিক বিষয় সম্পর্কে তাঁদের স্পষ্ট ধারণা থাকে না। তাঁর মতে, কোনও রাজনৈতিক দলের আহ্বান এলেই তা গ্রহণ করতেই হবে— এমন ধারণার সঙ্গে তিনি একমত নন।
বিদীপ্তা আরও জানান, তাঁকে কখনও রাজনৈতিক প্রচারের জন্য ডাকা হয়নি। তবে ডাকলেও তিনি সেই প্রস্তাব গ্রহণ করতেন না বলেই স্পষ্ট মন্তব্য করেন। তাঁর বক্তব্য, একজন মানুষের মূল্যবোধ ও রাজনৈতিক অবস্থান তার ব্যক্তিগত শিক্ষা ও বেড়ে ওঠার উপর নির্ভর করে।
একই সঙ্গে বর্তমান পরিস্থিতিতে পুরো ফিল্ম ইন্ডাস্ট্রিকে সমালোচনার মুখে পড়তে হচ্ছে বলেও আক্ষেপ প্রকাশ করেন অভিনেত্রী। তাঁর মতে, কয়েকজনের সিদ্ধান্ত বা মন্তব্যের প্রভাব পড়ছে গোটা শিল্পীমহলের উপর, যা অত্যন্ত দুর্ভাগ্যজনক।
রচনা বন্দ্যোপাধ্যায়ের মন্তব্য এবং বিদীপ্তার পাল্টা প্রতিক্রিয়াকে কেন্দ্র করে এখন টলিপাড়ায় নতুন বিতর্ক তৈরি হয়েছে। শিল্পী ও রাজনীতির সম্পর্ক নিয়ে আবারও শুরু হয়েছে বিস্তর আলোচনা।

Hello, I am BB. I have been working in blogging for more than five years.